শাহরিনকে দেখতে হাসপাতালে ওবায়দুল কাদের | daily-sun.com

শাহরিনকে দেখতে হাসপাতালে ওবায়দুল কাদের

ডেইলি সান অনলাইন     ১৬ মার্চ, ২০১৮ ১৫:৩০ টাprinter

শাহরিনকে দেখতে হাসপাতালে ওবায়দুল কাদের

 

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (টিআইএ) ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বিমান বিএস২১১ বিধ্বস্তের ঘটনায় আহত শাহরিন আহমেদকে দেখতে হাসপাতালে গেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। শুক্রবার (১৬ মার্চ) সকালে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢাকেম) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে শাহরিনকে দেখতে যান। এ সময় সেতুমন্ত্রী শাহরিনের শারীরিক অবস্থার খোঁজ খবর নেন।


হাসপাতালে শাহরিনকে দেখে বের হওয়ার সময় তিনি সাংবাদিকদের জানান, ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে গেলেও সুস্থ হয়ে উঠছেন স্কলাসটিকা স্কুলের উত্তরা শাখার জুনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার শাহরিন। তিনি (শাহরিন) আমাকে বললেন, এটা তার জীবনে একটা ট্রমাটিক এক্সপেরিয়েন্স। এর মধ্যেও তিনি টিকে আছেন। এটা আসলে বিরাট ব্যাপার। তিনি আমাকে বলেছেন দোয়া করার জন্য।


ওবায়দুল কাদের বলেন, নেপালের ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বিএস২১১ ফ্লাইট দুর্ঘটনায় হতাহতদের পরিবারে যেকোনো সহযোগিতায় সরকার পাশে আছে। দ্রুত নিহতদের মরদেহ ফিরিয়ে আনা হবে।


সেতুমন্ত্রী বলেন, আমাদের মেডিকেল টিম নেপালে গেছে।

আহতদের মধ্যে অপেক্ষাকৃত সুস্থ তিনজনকে দেশে আনা হচ্ছে। বাকিদেরও আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। নিহতদের মরদেহ ফিরিয়ে আনতে প্রথমে কিছুটা দেরি হচ্ছিল। তাদের লোকবল সংকট থাকায় ডিএনএ টেস্ট করেতে দেরি হচ্ছিল। কিন্তু এখন আমাদের টিম যাওয়াতে এই সমস্যা আর নেই, দ্রুত নিহতদের মরদেহ ফিরিয়ে আনা হবে।


তিনি বলেন, আপনারা জানেন প্রধানমন্ত্রী তার সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে চলে এসেছেন এবং বিষয়টি সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছেন। আমাদের প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন আহত ও নিহতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে। আমরা ইতোমধ্যে তাদের সঙ্গে দেখা করছি।


এ সময় তিনি আরও বলেন, স্বজনরাও আমাদের বলেছেন যারা মারা গেছেন তারা তো আর ফিরে আসবে না, তাদের মরদেহ এনে দাফনের ব্যবস্থা করার। আমরা দ্রুত মরদেহ ফিরিয়ে আনতে কাজ করে যাচ্ছি।


উল্লেখ্য, সোমবার (১২ মার্চ) স্থানীয় সময় বেলা ২টা ১৮ মিনিটে নেপালের কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের বোম্বার্ডিয়ার ড্যাশ ৮ কিউ৪০০ মডেলের এস২-এজিইউ যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত হয়ে পাইলট, ক্রু ও যাত্রীসহ ৫২ জন নিহত হন। ইউএস বাংলার ওই বিমানটিতে মোট ৬৭জন যাত্রী  চার ক্রুসহ ৭১জন আরোহী ছিলেন। আরোহীর মধ্যে ৩৬ বাংলাদেশিসহ ৫২ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া ১০ বাংলাদেশিসহ ১৯ জন আহত হন। পরে হতাহতের উদ্ধার করে স্থানীয় কেএমসি হাসপাতাল, নরভিক হাসপাতাল ও ওম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আহতদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।


বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় বেঁচে যাওয়া আরো তিন যাত্রীকে চিকিৎসার জন্য আজ দেশে আনা হচ্ছে। আজ শুক্রবার (১৬ মার্চ) বিকেল সোয়া ৩টায় একটি বিশেষ বিমানে তাদের আনা হচ্ছে। ওই তিন যাত্রী হলেন, মেহেদী হাসান, আলমুন নাহার এ্যনি, সৈয়দা কামরুন্নাহার স্বর্ণা। পরে তাদের রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হবে।


এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার (১৫ মার্চ) বিকেলে ইয়াকুব আলী নামে আহত এক যাত্রীকে কাঠমান্ডু থেকে দিল্লীতে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। এছাড়া গতকাল শেহরিন আহমেদ নামের অপর আহত এক যাত্রীকে ঢাকায় আনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ মার্চ) বিকাল ৩টা ৪৮ মিনিটে বাংলাদেশ বিমানের বিজি০০৭২ ফ্লাইটে করে তাকে ঢাকায় আনা হয়। এর পর তাকে অত্যাধুনিক অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। পরে যাবতীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তাকে আইসিইউ থেকে ভিআইপি কেবিনের ২ নম্বর বেডে স্থানান্তর করা হয়। শাহরিনের শরীরে পোড়ার ক্ষত ও পায়ের হাড়ে চিড় থাকলেও তিনি আশঙ্কামুক্ত বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

 


Top