বিচার কাজে সরকার হস্তক্ষেপ করে না: আইনমন্ত্রী | daily-sun.com

বিচার কাজে সরকার হস্তক্ষেপ করে না: আইনমন্ত্রী

ডেইলি সান অনলাইন     ১২ মার্চ, ২০১৮ ১৮:৪৩ টাprinter

বিচার কাজে সরকার হস্তক্ষেপ করে না: আইনমন্ত্রী

 

বিচার কাজে সরকার হস্তক্ষেপ করে না বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেন, ‘বিএনপি নেতারা সারাদেশে বলে বেড়াচ্ছিলেন আমরা আদালতে ইন্টারফেয়ার (হস্তক্ষেপ) করছি বলে বেইলটা (জামিন) হচ্ছে না।

আজকে প্রমাণিত হলো, বিচার বিভাগ যে স্বাধীন এবং বিচার কাজে সরকার হস্তক্ষেপ করে না। ’


আজ সোমবার (১২ মার্চ) হাইকোর্টে খালেদা জিয়ার জামিন আদেশের পর সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।


বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ সোমবার (১২ মার্চ) দুপুর সোয়া ২টার পর খালেদা জিয়াকে চার মাসের আন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন। চার বিবেচনায় জামিন আদেশ দেয়ার পর আদালত বলেন, ‘এই চার মাসের মধ্য আপিলের জন্য পেপার বুক তৈরি করতে হবে এবং আপিল শুনানির জন্য প্রস্তুত হতে হবে। ’


আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আগে সবসময় থাকত রাষ্ট্র বনাম আসামি। ২০০৪ সালে বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল দুর্নীতি দমন আইন পাস করা হয়েছিল। ২০০৭ পর্যন্ত যেটার কোনো কার্যক্রম হয়নি। সেই দুর্নীতি দমন আইনে বলা আছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) হবে পক্ষ, রাষ্ট্র উইল বি দ্য সেকেন্ড পার্ট। তাহলে এখন দাঁড়ায় দুর্নীতি দমন কমিশন বনাম আসামি খালেদা জিয়া।

এরপর কর্মপন্থা বা কী করবেন সেই সিদ্ধান্ত তারা নেবে দুদক। এটা সরকারের ব্যাপার নয়। ’


‘সরকারকে বা অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসকে হয়তো তারা অবগত করতে পারেন। সেক্ষেত্রে তাদের (দুদক) ব্যাপার এটা। ’


পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া কী হবে- জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘এখন প্রসিডিউর হচ্ছে...আমি এটাও শুনি নাই হাইকোর্ট কি রিটেন অর্ডার দিয়েছে। যদি রিটেন অর্ডার থেকে থাকে আপনারা জানেন আমি একজন আইনজীবী....তো সেক্ষেত্রে সার্টিফাইড কপি যদি ওনারা (আদালত) বলে থাকেন অ্যাডভান্স অর্ডারের সার্টিফাইড কপি চলে যাওয়ার তাহলে অ্যাডভান্স অর্ডারের সার্টিফাইড কপি যাবে। আর যদি ওনারা বলে থাকেন আমরা সার্টিফাইড কপি দিলে পড়ে, তবে সেই আদেশ যতক্ষণ পর্যন্ত না জেলখানায় পৌঁছে আদালতের মাধ্যমে ততক্ষণ পর্যন্ত তাকে রিলিজ করা হবে না। ’


এদিকে বেগম খালেদা জিয়া জামিন আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। তিনি বলেন, রায়ের কপি পাওয়ার আগে আমরা জামিন আদেশ স্থগিত চেয়ে আগামীকাল মঙ্গলবার (১৩ মার্চ) সকালে আপিল করব।  


এদিকে বেগম খালেদা জিয়া জামিন পেলেও আজ সোমবার (১২ মার্চ) জেল থেকে বেরুতে পারছেন না তিনি। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামীকাল তিনি মুক্তি পাবেন। এমনটাই আশা করছেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, ‘আরও আনুষ্ঠানিকতা বাকি আছে। বেইলবন্ড বানাতে হবে, সেটি জেলখানায় পৌঁছাতে হবে। আমরা আশা করতে পারি আগামীকাল তিনি মুক্তি পাবেন। ’


উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় অপর একটি মামলা করে দুদক। ২০১০ সালের ৫ আগস্ট তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশীদ। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।   গত বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পুরান ঢাকার বকশীবাজারে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর এবং সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী সলিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমানকে ১০ বছর করে কারাদণ্ডাদেশ এবং দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।


রায়ের পর পরই খালেদা জিয়াকে আদালতের পাশে নাজিমউদ্দিন রোডের ২২৮ বছরের পুরান ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। নির্জন এই কারাগারে একমাত্র বন্দি হিসেবে গত ৩৩দিন ধরে কারাভোগ করছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।


এদিকে খালেদার মুক্তির দাবিতে গত ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে পাঁচ দফায় বিক্ষোভ সমাবেশে, মানববন্ধন, অবস্থান, গণঅনশন, গণস্বাক্ষর অভিযান, স্মারকলিপি পেশ, কালো পতাকা প্রদর্শনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে বিএনপি। এরমধ্যে পঞ্চম দফায় দুই দিনের কর্মসূচিতে গত ৬ মার্চ মঙ্গলবার সারা দেশে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে বিএপি। ওই দিন কেন্দ্রীয়ভাবে ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক ঘণ্টার মানববন্ধন কর্মসূচিতে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, খালেদা জিয়া দেশের মানুষের গণতন্ত্র ও কথা বলার অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার আন্দোলন করছেন। আর সে জন্য তাকে ছলচাতুরী করে মিথ্যা মামলায় কারাগারে পাঠিয়েছে সরকার। তিনি আরও বলেন, এখন তাঁর জামিন দিতেও সরকার গড়িমসি করছে।


এরপর ৮ মার্চ সারা দেশে এক ঘন্টার অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। তবে কেন্দ্রীয়ভাবে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে দলটির অবস্থান কর্মসূচি থেকে ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সভাপতি দিদারুল রাজকে পুলিশ আটক করে এবং লাঠিচার্জ করে দলটির নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এতে পণ্ড হয়ে যায় ওই দিনের কর্মসূচি।  


এর আগে গত ২২ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের কর্মসূচি পালন করতে না পেরে ২৪ ফেব্রুয়ারি কালো পতাকা প্রদর্শন কর্মসূচি ঘোষণা করে দলটি। কিন্তু পুলিশি বাধায় তাদের ওই দিনের কর্মসূচিও পণ্ড হয়ে যায়। আটক হন দলের অনেক নেতাকর্মী। অন্যদিকে মঙ্গলবার (৬ মার্চ) মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে যাওয়ার পথে স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবুকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ।


এদিকে ১২ মার্চ আবারও রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভার কর্মসূচি ঘোষণা করে সরকারের কাছে লিখিত অনুমতি চেয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ওই আবেদনেও সাড়া মেলেনি।


এবার ১৯ মার্চ রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা করার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। এ ছাড়া আগামী ১৫ মার্চ চট্টগ্রাম, ২৪ মার্চ বরিশাল এবং ৩১ মার্চ রাজশাহীতে জনসভা করবে বিএনপি। সোমবার (১২ মার্চ) সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।


আরও পড়ুন:

 

যে চার গ্রাউন্ডে জামিন পেলেন খালেদা জিয়া

 

খালেদা জিয়ার জামিনের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার আপিল

 

জামিন পেলেন খালেদা জিয়া

 


Top