খরার কারনেই দ্রুত ধ্বংস হয়েছিল মায়া সভ্যতা | daily-sun.com

খরার কারনেই দ্রুত ধ্বংস হয়েছিল মায়া সভ্যতা

ডেইলি সান অনলাইন     ২৪ আগস্ট, ২০১৬ ১৭:৪২ টাprinter

খরার কারনেই দ্রুত ধ্বংস হয়েছিল মায়া সভ্যতা

 

 

খরার সময় যেসব পানি সংরক্ষণাধার মায়া সভ্যতার লোকদের প্রাণে বাঁচিয়ে রাখতো সেগুলোই হয়তো তাদেরকে দীর্ঘকালীন খরার সময় দুর্বল করে তুলেছিল। পরিণতিতে তারা দ্রুত ধ্বংসের দিকে ধাবিত হয়।
৯ম শতকে মায়া সভ্যতার ধ্রুপদি যুগের শেষদিকে সত্যিকার অর্থেই ভয়াবহ ও ধ্বংসাত্মক কিছু একটা ঘটেছিল। এমনটাই মত গবেষকদের।
 

খুব অল্প সময়ের মধ্যেই মধ্য আমেরিকার এই উন্নত সভ্যতা বিকশিত অবস্থা থেকে ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যায়। জনসংখ্যাও দ্রুত কমতে থাকে। আর সভ্যতার স্মারক পাথরের ভবনগুলোও দ্রুত ধ্বংস হয়ে যায়। যেমন ইউকাতানে নির্মিত ভবনগুলো আর পুনরায় তৈরি করা হয়নি।
 

ভিয়েনা প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের মডেল হিসাব নিকাশ থেকে দেখা গেছে, যে কৃষি প্রযুক্তি খরার সময় মায়া সভ্যতাকে টিকিয়ে রাখতে সহায়ক হয়েছিল সে কৃষি প্রযুক্তিই প্রধান কোনো বিপর্যয়ের সময় তাদের সভ্যতাকে ধ্বংসে দিকে ঠেলে দিয়েছে।
 

মায়া সভ্যতা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে আমরাও নিজেদের ভবিষ্যত সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ উপসংহার টানতে পারি। আমাদেরকেও আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যাপারে আরো সতর্ক হতে হবে। প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা যদি শুধু অগভীরভাবে সম্পদের ঘাটতি নিয়ে কাজ করে এবং আমরা আমাদের আচরণে কোনো পরিবর্তন না আনি তাহলে আমাদের সমাজ-সভ্যতাও অরক্ষিত হয়ে পড়বে।
 

পানি সংরক্ষণাধার স্বল্পকালীন খরার সময় বিপদ থেকে মুক্তি দেয় সত্য। খরার পর জলাধারের পানি শেষ হয়ে যাওয়ায় মায়া সভ্যতার জনসংখ্যা কমতে থাকে। তবে পুনরায় জলাধারের মাধ্যমে অতিরিক্ত পানি সরবরাহের ফলে জনসংখ্যা বাড়তে থাকে।
 

তবে দীর্ঘকালীন খরার সময় জলাধারের কারণে জনজীবন আবার বিপদগ্রস্তও হয়ে পড়তে পারে। কারণ পানি ব্যবস্থাপনার আচরণ একই রকম থেকে যায়। আর জনপ্রতি পানির চাহিদাও কমে না। কিন্তু জনসংখ্যা বাড়া অব্যাহত থকে।
 

আর পরপর আরেকটি খরার মৌসুম আসলে এই পদ্ধতি সর্বনাশা হয়ে উঠতে পারে। যার ফলে জনসংখ্যা কমে যেতে পারে। যা জলাধার ছাড়া আরো নাটকীয় কোনো পরিণতির দিকে ধাবিত করতে পারে।

সূত্র: টাইমস অফ ইন্ডিয়া

 

 

 


Top