জামিন পেলেন খালেদা জিয়া | daily-sun.com

জামিন পেলেন খালেদা জিয়া

ডেইলি সান অনলাইন     ১২ মার্চ, ২০১৮ ১৪:৩৯ টাprinter

জামিন পেলেন খালেদা জিয়া

 

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিচারিক আদালতে সাজাপ্রাপ্ত এবং কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে চার মাসের জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। সোমবার (১২ মার্চ) বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ তার জামিনের আদেশ দেন।


আদালতে খালেদার পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটনি জেনারেল মাহবুবে আলম, সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক। আর দুদকের পক্ষে ছিলেন খুরশীদ আলম খান।


একই বেঞ্চে রবিবারও (১১ মার্চ) মামলাটি জামিন বিষয়ে আদেশের জন্য রাখা ছিল। তবে বিচারিক আদালত থেকে মামলার নথি না পৌঁছানো ও আদালতের দেয়া ১৫ দিন সময় শেষ না হওয়ায় আদেশের জন্য সময় পিছিয়ে সোমবার দিন পুনর্নিধারণ করেন।


এদিকে গককাল রবিবারই জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার বিচারিক আদালতের নথি হাইকোর্টে পৌঁছেছে। দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটের দিকে ৫ হাজার ৩৭৩ পৃষ্ঠার নথি হাইকোর্টের আদান-প্রদান শাখায় নথি পৌঁছে।


আদান-প্রদান শাখার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কে এম ফারুক হোসেন পরে মামলার নথি (মামলা নং ১৭/২০১৭) ফৌজদারি আপিল শাখায় জমা দেন। আর ফৌজদারি আপিল শাখার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান তা গ্রহণ করেন।


এর আগে রবিবার মামলার নথি উচ্চ আদালতে না পৌঁছায় বেগম খালেদা জিয়ার জামিনের বিষয়ে সোমবার (১২ মার্চ) আদেশের দিন পুনর্নিধারণ করে আদালত বলেন, ‘নথি পাঠানোর আদেশটি দিয়েছিলাম আমরা গত ২২ ফেব্রুয়ারি। ওইদিন বিকেলের মধ্যে আদেশের কপি পৌঁছনো একটু ডিফিকাল্টই। সেদিন ছিল বৃহস্পতিবার। পরের দুই দিন ছিল ছুটি (শুক্র ও শনিবার)।


আমরা যদি ধরে নেই যে, পরের দিন ২৫ ফেব্রুয়ারি রবিবার নথি পাঠানোর আদেশ নিম্ন আদালতে পৌঁছেছে। তাহলে ১৫ দিন শেষ হয় আজ (১১ মার্চ, রোববার)। ’


এরপর আদেশ দিয়ে আদালত বলেন, নথি পাঠানোর জন্য দেয়া ১৫ দিন এখনো শেষ হয়নি, আজ শেষদিন। তাই আজ আদেশ না দিয়ে আদেশের জন্য আগামীকাল রাখছি।  


এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৮ মার্চ) সকালে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন বিষয়ে আদেশের জন্য রবিবার দিন ধার্য করেন হাইকোর্ট। খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের আবেদনের পর বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।  


হাইকোর্টে খালেদা জিয়ার পক্ষে ওইদিন শুনানি করেন আইনজীবী জয়নুল আবেদীন। শুনানিতে তিনি আদালতকে বলেন, ১৫ দিনের মধ্যে নথি আসার কথা, ওই সময়সীমা শেষ হয়েছে। আজ ১৬ দিন চলছে।


তখন আদালত বলেন, আমরা তো ২২ ফেব্রুয়ারি আদেশ দিয়েছিলাম ১৫ দিনের মধ্যে নথি পাঠাতে। নথি এসেছে কি? জবাবে জয়নুল আবেদীন বলেন, নথি এসেছে কিনা, জানি না। এখন খালেদা জিয়ার জামিন বিষয়ে আদেশের জন্য রাখা হোক। এরপরই আদালত বলেন, আগামী রবিবার বিষয়টি আদেশের জন্য কার্যতালিকায় আসবে।  


এদিকে বেগম খালেদা জিয়ার জামিনের বিষয়ে আদেশের জন্য করা আবেদনটি সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে রবিবারের কার্যতালিকাও (কজলিস্ট) এক নম্বরে ছিল।  


উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় অপর একটি মামলা করে দুদক। ২০১০ সালের ৫ আগস্ট তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশীদ। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।   গত বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পুরান ঢাকার বকশীবাজারে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর এবং সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী সলিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমানকে ১০ বছর করে কারাদণ্ডাদেশ এবং দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।


রায়ের পর পরই খালেদা জিয়াকে আদালতের পাশে নাজিমউদ্দিন রোডের ২২৮ বছরের পুরান ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। নির্জন এই কারাগারে একমাত্র বন্দি হিসেবে গত ৩৩দিন ধরে কারাভোগ করছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।


শুরুতে খালেদা জিয়া ডিভিশন না পেলেও পরে আদালতের নির্দেশ ১১ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে ডিভিশন দেয়া হয়। ওদিনই তার সঙ্গে গৃহপরিচারিকা ফাতেমা বেগমকেও রাখার নির্দেশনা দেন আদালত।


১৯ ফেব্রুযারি সোমবার বিকেলে রায়ের সত্যায়িত কপি হাতে পান খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। বিচারক রায়ের কপি সত্যায়ন করার পর এটি খালেদার আইনজীবীদের হাতে তুলে দেন বিশেষ জজ আদালত-৫ এর পেশকার মোকাররম হোসেন।


পরের দিন ২০ ফেব্রুয়ারি বিচারিক আদালতে খালেদা জিয়াকে দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার প্রস্তুতি নিতে দ্বিতীয় দফায় সুপ্রিম কোর্ট বারের কনফারেন্স রুমে বৈঠক করেন তার আইনজীবীরা।


২২ ফেব্রুযারি খালেদা জিয়ার সাজার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আপিল গ্রহণ করে বিচারিক আদালতে খালেদা জিয়াকে করা অর্থদণ্ড স্থগিতের আদেশ দেন।


একই সঙ্গে এ মামলায় বিচারিক আদালতের সকল নথি আগামী ১৫ দিনের মধ্যে হাইকোর্টে পাঠাতে সংশ্লিষ্ট আদালতকে নির্দেশনা দেয়া হয়। এরপর জামিন আবেদন শুনানির জন্য নতুন দিন ঠিক করে দেন আদালত।


খালেদা জিয়ার করা জামিন আবেদনের ওপর ২৫ ফেব্রুয়ারি শুনানি হয়। নিম্ন আদালতের নথি আসার পরে এ বিষয়ে আদেশ দেয়া হবে বলে জানান হাইকোর্ট। ফলে খালেদা জিয়ার জামিনের অপেক্ষা দীর্ঘ হয়।


এদিকে খালেদার মুক্তির দাবিতে গত ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে পাঁচ দফায় বিক্ষোভ সমাবেশে, মানববন্ধন, অবস্থান, গণঅনশন, গণস্বাক্ষর অভিযান, স্মারকলিপি পেশ, কালো পতাকা প্রদর্শনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে বিএনপি। এরমধ্যে পঞ্চম দফায় দুই দিনের কর্মসূচিতে গত ৬ মার্চ মঙ্গলবার সারা দেশে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে বিএপি। ওই দিন কেন্দ্রীয়ভাবে ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক ঘণ্টার মানববন্ধন কর্মসূচিতে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, খালেদা জিয়া দেশের মানুষের গণতন্ত্র ও কথা বলার অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার আন্দোলন করছেন। আর সে জন্য তাকে ছলচাতুরী করে মিথ্যা মামলায় কারাগারে পাঠিয়েছে সরকার। তিনি আরও বলেন, এখন তাঁর জামিন দিতেও সরকার গড়িমসি করছে।


এরপর ৮ মার্চ সারা দেশে এক ঘন্টার অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। তবে কেন্দ্রীয়ভাবে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে দলটির অবস্থান কর্মসূচি থেকে ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সভাপতি দিদারুল রাজকে পুলিশ আটক করে এবং লাঠিচার্জ করে দলটির নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এতে পণ্ড হয়ে যায় ওই দিনের কর্মসূচি।  


এর আগে গত ২২ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের কর্মসূচি পালন করতে না পেরে ২৪ ফেব্রুয়ারি কালো পতাকা প্রদর্শন কর্মসূচি ঘোষণা করে দলটি। কিন্তু পুলিশি বাধায় তাদের ওই দিনের কর্মসূচিও পণ্ড হয়ে যায়। আটক হন দলের অনেক নেতাকর্মী। অন্যদিকে মঙ্গলবার (৬ মার্চ) মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে যাওয়ার পথে স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবুকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ।


এদিকে ১২ মার্চ আবারও রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভার কর্মসূচি ঘোষণা করে সরকারের কাছে লিখিত অনুমতি চেয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ওই আবেদনেও সাড়া মেলেনি।


এবার ১৯ মার্চ রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা করার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। এ ছাড়া আগামী ১৫ মার্চ চট্টগ্রাম, ২৪ মার্চ বরিশাল এবং ৩১ মার্চ রাজশাহীতে জনসভা করবে বিএনপি। সোমবার (১২ মার্চ) সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

 

আরও পড়ুন:

 

খালেদা জিয়ার মাথায় আরো যেসব মামলা ঝুলছে

 

খালেদা জিয়ার মামলার নথি হাইকোর্টে

 

নথি আসেনি, খালেদার জামিন বিষয়ে আদেশ সোমবার

 

খালেদার জামিন শুনানি শেষ, নিম্ন আদালতের নথি পেলে আদেশ

 

শুনানিতে আইনজীবীদের অতিরিক্ত উপস্থিতি: এজলাস থেকে উঠে গেলেন বিচারপতিরা

 

খালেদার যেসব রোগের কথা বলা হয়েছে জামিন আবেদনে

 

জামিনের আবেদন খালেদার

 

খালেদার আপিল আবেদনে যেসব যুক্তি দেখানো হয়েছে

 

রায়ের বিরুদ্ধে খালেদার আপিল

 

খালেদার রায়ের কপি হাতে পেলেন আইনজীবীরা

 

জেলকোড অনুযায়ী খালেদাকে ডিভিশন দেয়ার নির্দেশ

 

রায়ের কপি পাওয়ার পর আপিল: খন্দকার মাহবুব হোসেন

 

তারেকসহ ৫ আসামির ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড

 

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদার ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড

 

ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় শুনতে আদালতে খালেদা জিয়া

 

এক নজরে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা

 

 


Top