চীনে শি’র আজীবন প্রেসিডেন্ট পদ ভারতের জন্য যে অর্থ বহন করে | daily-sun.com

চীনে শি’র আজীবন প্রেসিডেন্ট পদ ভারতের জন্য যে অর্থ বহন করে

ডেইলি সান অনলাইন     ১২ মার্চ, ২০১৮ ১৪:০২ টাprinter

চীনে শি’র আজীবন প্রেসিডেন্ট পদ ভারতের জন্য যে অর্থ বহন করে

 

চীনে শি জিনপিংয়ের প্রেসিডেন্টের মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানোর কি প্রভাব পড়তে পারে উন্নয়নশীল বিশ্বের উপর, বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার উপর?


একটা সম্ভাবনা হলো এখানে প্রদর্শনের একটা ব্যাপার থাকবে। চীনের কয়েক দশকের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি উন্নয়নশীল বিশ্বের অনেক দেশের জন্যই হিংসা এবং অনুপ্রেরণার কারণ হয়ে আছে।

উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, ভিয়েতনাম তাদের উন্নয়ন ও পুনর্গঠনের জন্য চীনা মডেল অনুকরণ করছে। দক্ষিণ এশিয়ার অনেকগুলো দেশসহ বিশ্বের অনেক দেশই এখন অর্থনৈতিক উৎস এবং মূলধনের জন্য বেইজিংকে পশ্চিমের বিকল্প ভাবতে শুরু করেছে।


শি’র সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের পর মনে হতে পারে যে একজন উচ্চাকাঙ্ক্ষী স্বৈরশাসকই কেবল দেশের সমস্যা সমাধান দিতে পারে। মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট আব্দুল্লা ইয়ামিন, যিনি তার দেশে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন, তিনিও এ ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারেন।


দ্বিতীয়ত, চীনের জাতীয়তাবাদ এবং শি’র শাসনামলে যে সব জায়গার উপর চীন সার্বভৌমত্ব দাবি করেছে, এ ধরনের দাবি আরও বাড়তে পারে এবং সেক্ষেত্রে চীনের প্রতিবেশী দেশগুলোর উপর এর একটা চাপ পড়বে।


ভারতের সীমান্ত এলাকায় চীনের সঙ্গে মাঝে মধ্যে সীমানা লঙ্ঘনের ঘটনা খুব একটা নতুন না হলেও ভুটানের কাছে দোকলামে গত বছর যে ঘটনা ঘটেছে, এটা ভারতের জন্য একটা বার্তা যে তাদের আঞ্চলিক প্রাধান্যের জায়গায় চীন একটা চ্যালেঞ্জ। নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর চীনের এ ধরনের তৎপরতা যে আরও বাড়বে, সেটা প্রায় নিশ্চিত। অন্যদিকে, বেইজিংয়ের সাথে আনুষ্ঠানিকভাবে কূটনীতিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য ভুটানের উপরেও চাপ পড়বে।


তৃতীয়ত, শীর্ষ পদে শি অনির্দিষ্টকালের জন্য থাকার অর্থ হলো ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ প্রকল্পের জন্য শি আরও চাপ দেবেন এবং এটাকে আরও এগিয়ে নেবেন।


ভারতের জন্য বিবেচনার বিষয় হতে পারে যে চীন হয়তো তাদের অনেকগুলো সমস্যা সমাধানের জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করবে। বিশেষ করে বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রকল্পের সাথে যুক্ত দেশগুলো যে অভ্যন্তরীণ বাধার মুখে পড়ছে, সেগুলো দূর করার চেষ্টা করবে চীন। এ জন্য চীন হয়তো আরও বেশি আঞ্চলিক ইস্যুগুলোতে জড়িয়ে পড়বে, যেমন তালেবানদের সাথে আলোচনায় সমর্থন দেয়া এবং পাকিস্তানে বালুচ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সাথে আলোচনার মতো বিষয়গুলো। যেগুলো অনেকটা অন্যের দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং যেগুলোতে হস্তক্ষেপ না করার নীতি দীর্ঘদিন ধরে মেনে আসছে চীন।


তালেবানদের রাজনৈতিক স্বীকৃতি দেয়ার জন্য আফগানিস্তান সরকারকে চাপ দেয়ার মতো বিষয়গুলো একইসাথে একটি নির্বাচিত সরকারকে ছোট করা হলো আবার ভারতের আঞ্চলিক শ্রেষ্ঠত্বও খাটো করা হলো। দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে ভারতের বিরুদ্ধে চীনা প্রভাব বিস্তারের অংশ হিসেবে এটা করা হতে পারে। মালদ্বীপে ইয়ামিনের জরুরি অবস্থার বিরোধিতা করে নয়াদিল্লী বক্তব্য দেয়ার পর চীন অনেকটা স্পষ্ট করেই নয়াদিল্লীকে সেখান থেকে সরে থাকতে বলেছে।


ভারতের বৈশ্বিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশের ইচ্ছা থাকলেও চীনের বিনিয়োগ অঙ্কের কাছাকাছি আসার কোন সম্ভাবনা নেই তাদের। এটা শুধু কূটনৈতিক শক্তির বিষয় নয়, এখানে শিক্ষা, গবেষণা এবং প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউটের একটা পুরো ইকোসিস্টেম এবং আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজনের বিষয় রয়েছে যার মধ্যে ট্র্যাক ১.৫, ট্র্যাক ২ সংলাপও রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার ও প্রাদেশিক সরকারের মন্ত্রী এবং কমিউনিস্ট পার্টির নেতাদের বিদেশ সফরের বিষয়। এটা একটা বড় দিক যে কারণে দক্ষিণ এশিয়ায় এত দ্রুত প্রভাব বিস্তার করতে পেরেছে চীন। এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলেই মনে হচ্ছে।


শি’র মেয়াদ দীর্ঘ হলে এ ধরনের অর্জনের পরিমাণ চীনের জন্য বেড়ে যাবে, নতুন সুযোগ সুবিধার সৃষ্টি হবে এবং চীনা পররাষ্ট্র নীতি বাস্তবায়নে যারা জড়িত আছে, তাদের শক্তি আরও বাড়বে। উদাহরণস্বরূপ, ফেব্রুয়ারির শুরুর দিকে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছিল যে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বড় ধরনের অভ্যন্তরীণ পুনর্গঠন প্রক্রিয়া চলছে। যেহেতু বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রকল্পে শত শত বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হচ্ছে, এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রদূতরা আর্থিক বিষয়ে আরও বেশি মতামত জানানোর সুযোগ পাবেন এবং তাদের দূতাবাসকেও আরও উন্নত করতে পারবে।


ইতোমধ্যে, কমিউনিস্ট পার্টির নিজস্ব পররাষ্ট্র বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো সারা বিশ্বে আরও আত্মবিশ্বাসের সাথে এবং আরও ঘন ঘন তাদের যোগাযোগ স্থাপন করে যাবে। দক্ষিণ এশিয়ায় বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আদর্শের দিক থেকে শক্ত সম্পর্ক গড়ে তুলেছে তারা। পাশাপাশি ধর্মীয় গ্রুপগুলোর সাথেও সম্পর্ক গড়ে তুলেছে তারা। যাতে যে-ই ক্ষমতায় আসুক না কেন, চীনা স্বার্থ যাতে রক্ষা করা যায়।


এই বিষয়গুলো দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের পররাষ্ট্র নীতিকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে। এর বাইরে আন্তর্জাতিক প্রভাব নিয়ে আলোচনা না হয় না-ই করলাম, যেহেতু ভারতের কূটনৈতিক ক্যাডারের আকার খুবই ছোট।


- সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট ও সাউথ এশিয়ান মনিটর ডট কম

 


Top