ফয়জুলের বাবা-মা ও মামার রিমান্ড মঞ্জুর | daily-sun.com

ফয়জুলের বাবা-মা ও মামার রিমান্ড মঞ্জুর

ডেইলি সান অনলাইন     ১১ মার্চ, ২০১৮ ১৭:৫৫ টাprinter

ফয়জুলের বাবা-মা ও মামার রিমান্ড মঞ্জুর

 

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) অধ্যাপক এবং জনপ্রিয় লেখক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালকে হত্যাচেষ্টায় হাতেনাতে ধরা পড়া ফয়জুলের বাবা-মা ও মামার রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। রবিবার (১১ মার্চ) হামলাকারী ফয়জুলের পিতা মাওলানা আতিকুর রহমান, ও মামা ফজলুর রহমানের পাঁচ দিন এবং মাতা মিনারা বেগমের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন সিলেট মহানগর হাকিম আদালত-৩ এর বিচারক হরিদাস কুমার।


মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুর রহমান গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, রবিবার দুপুরে আদালতে এই তিনজনকে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়। আদালত শুনানি শেষে তাদের ভিন্ন ভিন্ন মেয়াদে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। 


এর আগে গত বৃহস্পতিবার একই আদালতে ফয়জুলকে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ।


প্রসঙ্গত, শনিবার (৩ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) ফেস্টিভ্যালের সমাপনী অনুষ্ঠানে ড. জাফর ইকবাল অতিথিদের সারিতে বসে ছিলেন। অনুষ্ঠান চলাকালীন বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটের দিকে ধারালো ছুরি দিয়ে তার মাথায়, ঘাড়ে ও পিঠে আঘাত করে ফয়জুল ওরফে শফিক। সঙ্গে সঙ্গেই হামলাকারীকে ধরে ফেলে পুলিশ ও শিক্ষার্থীরা। পরে তাঁকে গণপিটুনি দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়।


পুলিশ জানায়, বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জঙ্গিরা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগের জন্য যে অ্যাপস (\\\টেলিগ্রাম\\\) ব্যবহার করে সেখানে অ্যাকাউন্ট আছে ফয়জুলের। এছাড়া বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের ওয়েবসাইটে নিয়মিত ফলো করতো ফয়জুল। সেগুলোর মধ্যে আনসার আল ইসলাম বা আনসারুল্লাহ বাংলাটিমের ওয়েবসাইটও রয়েছে। তাছাড়া ফেসবুকে মৌলবাদী গোষ্ঠীর তৈরি বাঁশের কেল্লা পেজ সে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়ত। আহলে হাদিসের অনুসারী পিস টিভির বিভিন্ন অনুষ্ঠানের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শুনত ফয়জুল। তবে সে যেসব ডিভাইসের মাধ্যমে এসব ওয়েবসাইটে ঢুকত সে, সেগুলো নিয়ে পালিয়েছে তার ভাই আল আমিন। পুলিশ এখন তাকে খুঁজছে।


ফয়জুলের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের বরাত দিয়ে ওই কর্মকর্তা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে জাফর ইকবালের ওপর হামলার পর ফয়জুল পেছনের ধান ক্ষেতের ভেতর দিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। এ কারণেই তার ব্যবহৃত বাইসাইকেলটি ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের পাশের একটি ওয়ার্কশপে রেখে এসেছিল। এদিকে ফয়জুল যে মোবাইল ফোন ব্যববহার করত এখনও সেটির হদিস পাওয়া যায়নি।


ফয়জুল পুলিশকে জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে টার্গেট করে এ হামলা চালানো হয়। ৪-৫ মাস আগে সিলেট শহর থেকে সে নিজেই একটি চাকু কিনে আনে। ক্যাম্পাসে গেলেই সে ওই চাকুটি তার সঙ্গে নিয়ে যেত। এর আগে আরও একাধিকবার আঘাত হানার পরিকল্পনা নিয়ে জাফর ইকবালের কাছাকাছি গিয়েও শেষ পর্যন্ত হামলা চালানো থেকে বিরত থেকেছে। কেউ যাতে তাকে সন্দেহ না করে এজন্য ক্যাম্পাসে প্রবেশের পর বেশিরভাগ সময় ফুটবল খেলে সময় কাটাত। ক্যাম্পাস মাঠে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে তার বেশকিছু বন্ধুবান্ধবও তৈরি হয়।


জিজ্ঞাসাবাদে ফয়জুল পুলিশকে আরও জানায়, অধ্যাপক ড. জাফর ইকবাল যে নাস্তিক ও ইসলামের শত্রু তা সে বাঁশের কেল্লাসহ বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে জেনেছে। সে কখনও জাফর ইকবালের লেখা কোনো বই পড়েনি। ফয়জুল জানায়, হামলার দিন সকাল থেকেই সে অধ্যাপক জাফর ইকবালকে অনুসরণ করে। অনুষ্ঠানে দেখেই সে প্রস্তুতি নেয়। বেশ কিছু সময় ব্যয় করে সে। অন্যান্য শিক্ষার্থীর মতো কালো টি-শার্ট পরে দীর্ঘক্ষণ রোবট প্রতিযোগিতা দেখে। এক সময় বিরতি দেয়া হয় অনুষ্ঠানের। এ সময় সে দেখতে পায় অধ্যাপক জাফর ইকবালের পেছনটা খালি। জাফর ইকবালের সঙ্গে সেলফি তুলতে অনেক শিক্ষার্থী সেখানে উঠছে। সে সুযোগ বুঝে সেখানে উঠে পড়ে।


ফয়জুল একটি মাদরাসায় পড়ালেখা করেছে। তার বাড়ি সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার কালিয়ার কাপনে। তার বাবা হাফিজ আতিকুর রহমান সিলেটের টুকেরবাজার মহিলা মাদরাসার শিক্ষক। তারা বর্তমানে সিলেটের কুমারগাঁও এলাকার শেখ পাড়ায় একটি ভাড়া করা বাসায় থাকে।


এরপর র‌্যাব ও পুলিশ শেখ পাড়ার বাসায় অভিযান চালায়। তবে অভিযানের পূর্বেই বাসার লোকজন দরজায় তালা দিয়ে পালিয়ে যান। তবে তল্লাশি চালিয়ে তালাবদ্ধ বাসার ভেতর থেকে হামলাকরীর মামা ফয়জুর রহমানকে আটক করে পুলিশ। তিনি সুনামগঞ্জ জেলার কৃষকলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক। এ সময় ফয়জুরের বাসা থেকে একটি ল্যাপটপ জব্দ করা হয়।


এছাড়া ফয়জুলের চাচা আবুল কাহার লুলইকে গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার কলিয়ার কাপন থেকে রবিবার (৪ মার্চ) ভোরে তাকে আটক করা হয়।


এরপর রবিবার (৪ মার্চ) সিলেটের জালালাবাদ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। রাতে ফয়জুলের বাবা হাফেজ আতিকুর রহমান ওরফে কুরশ এবং মা মিনারা বেগমকে আটক করে পুলিশ।

 


Top