মিয়ানমার চায় গণহত্যার সুস্পষ্ট প্রমাণ | daily-sun.com

মিয়ানমার চায় গণহত্যার সুস্পষ্ট প্রমাণ

ডেইলি সান অনলাইন     ১০ মার্চ, ২০১৮ ১৮:৩২ টাprinter

মিয়ানমার চায় গণহত্যার সুস্পষ্ট প্রমাণ

 

রাখাইনে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর জাতি নির্মূল অভিযান বা গণহত্যা চালানোর অভিযোগের বিষয়ে সুস্পষ্ট প্রমাণ চেয়েছে মিয়ানমার। বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের রাজধানী জেনেভায় মিয়ানমারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা থং তুন অভিযোগকারীদের সুস্পষ্ট প্রমাণ হাজির করার আহ্বান  জানান।

তবে, প্রমাণ হাজির করতে বললেও মিয়ানমার এখনো জাতিসংঘসহ কোনো সংস্থার তদন্ত কর্মকর্তাদের রাখাইনে প্রবেশ করার অনুমতি দেয়নি। রয়টার্স’র খবর।


থং তুন বলেন, অভিযোগ উঠেছে যে, মিয়ানমারে জাতি নির্মূল অভিযান বা গণহত্যা চালানো হয়েছে। আমি আগেও বলেছি, এখন আবার বলছি, সরকারের এমন কোনো নীতি নেই।


এটা আপনাদের নিশ্চিত করতে পারি। এরপরও যদি অভিযোগ থাকে, তাহলে আমরা সুস্পষ্ট প্রমাণ চাই। এখনো রাখাইনে বিপুল সংখ্যক মুসলিম রয়েছে। যদি সেখানে গণহত্যাই চালানো হয়, তাহলে তারাও অন্যত্র সরে যেত। গণহত্যার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, জাতি নির্মূল ও গণহত্যা চালানোর অভিযোগ খুবই গুরুতর। এই অভিযোগকে হালকা করে দেখা ঠিক না।


তিনি বলেন, রাখাইনের ৩০ লাখ রোহিঙ্গার খুব কম সংখ্যকই বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। মিয়ানমার বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে ইচ্ছুক। তাদেরকে যথাযথ মর্যাদা ও নিরাপত্তার সঙ্গে ফিরিয়ে আনা হবে। থং তুন দাবি করেন, আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) ভয়েই রোহিঙ্গা মুসলিমরা বাংলাদেশে পালিয়ে গেছে। তারা রোহিঙ্গাদের দিয়ে জোর করে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা চালাতো। এতে রাজি না হলে তারা রোহিঙ্গাদের গ্রাম পুড়িয়ে দিতো।

রাখাইনের পুরাতন অধিবাসীরা ফিরে আসতে চাইলে তাদেরকে স্বাগত জানানো হবে। তিনি বলেন, যারা মিয়ানমারের নাগরিক হতে চায়, আমরা তাদের স্বাগত জানাই। তবে, তাদের একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। স্বয়ংক্রিয়ভাবে তারা নাগরিকত্ব পাবে না। যেমন তাদের বার্মিজ ভাষা শিখতে হবে।


গত বছরের ২৫ আগস্ট রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর পূর্ব-পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধারার সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রায় ৭ লাখ মানুষ। মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি, ব্রিটিশ মাধ্যম গার্ডিয়ান ও রয়টার্স তাদের নিজস্ব অনুসন্ধানের মাধ্যমে তুলে এনেছে রাখাইনের জাতিগত নিধনের আলামত। জাতিসংঘও জাতিগত নিধনের আশঙ্কা করছে। সংস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্বাধীন মানবাধিকার কমিশন (ইউএনএইচআরসি) ধারাবাহিকভাবে একে জাতিগত নিধন বলে আসছে। তবে নিজেদের একটি অভ্যন্তরীণ তদন্তে সেনা সদস্যদের যাবতীয় অভিযোগ থেকে মুক্তি দেয় মিয়ানমার সেনাবাহিনী।

 


উল্লেখ্য,  কয়েক শতাব্দী ধরেই রোহিঙ্গারা রাখাইনে বসবাস করছে। তবে, বৌদ্ধ প্রধান মিয়ানমারের বেশিরভাগ মানুষ মনে করে, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশ থেকে আগত অবৈধ অধিবাসী। মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ সম্বোধন করে। সম্প্রতি মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে। অভ্যন্তরীণভাবে পরিচালিত এই প্রতিবেদনে সেনাবাহিনী দাবি করে, তারা রাখাইনে সেনা অভিযানের বিষয়ে উত্থাপিত অভিযোগের কোনো প্রমাণ পায়নি। এর প্রতিক্রিয়ায় বুধবার জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান জায়েদ রা’দ আর হোসেইন বলেন, রাখাইনে গণহত্যা চালানো হয়েছে এই বিষয়ে তিনি জোরালো সন্দেহ করেন।


- সূত্র: সাউথ এশিয়ান মনিটর ডট কম

 


Top