খুলনায় বিএনপি’র জনসভা ঘিরে পুলিশের কঠোর অবস্থান | daily-sun.com

খুলনায় বিএনপি’র জনসভা ঘিরে পুলিশের কঠোর অবস্থান

ডেইলি সান অনলাইন     ১০ মার্চ, ২০১৮ ১২:৫৮ টাprinter

খুলনায় বিএনপি’র জনসভা ঘিরে পুলিশের কঠোর অবস্থান

 

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিচারিক আদালতে সাজাপ্রাপ্ত এবং কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে খুলনায় বিএনপি’র বিভাগীয় জনসভা ঘিরে কড়া অবস্থান নিয়েছে পুলিশ। আজ শনিবার (১০ মার্চ) ভোর থেকে খুলনা হাদিস পার্ক, পুরাতন যশোর রোড, পিকচার প্যালেস মোড় ও কেডি ঘোষ রোডে বিএনপি’র কার্যালয়ের সামনে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন স্থানে পুলিশের সাঁজোয়া গাড়ি অবস্থান নিয়েছে।


বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, পুলিশ দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশের অনুমতি দিলেও আজ সকাল থেকে সেখানে মঞ্চ তৈরি ও মাইক টানাতে বাধা দিচ্ছে। শুক্রবার রাত ও শনিবার সকালে আটক করা হয়েছে ২৫ নেতাকর্মীকে।  


এর আগে হঠাৎ করেই গতকাল হাদিস পার্কসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় সকল ধরনের সভা-সমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ করে ১৪৪ জারি করেছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি)। পুলিশের পক্ষ থেকে মাইকিং করে আজ সকাল ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত শহীদ হাদিস পার্ক ও আশেপাশের এলাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।  


মহানগর বিএনপি’র সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, জনসভা ভন্ডুল করতে গ্রেফতার, হয়রানী ও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে পুলিশ। তারা দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে আতংক তৈরি করতে চাচ্ছে। তিনি বলেন, শত উস্কানী থাকলেও বিএনপি দলীয় কার্যালয়ের সমানে শান্তিপূর্ণ জনসভা করবে। দুপুর ৩টায় এই জনসভার কার্যক্রম শুরু হবে।

 


খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে কেন্দ্র ঘোষিত তৃতীয় পর্যায়ের কর্মসূচিতে খুলনায় আজ এই জনসভার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামসহ শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের এই সমাবেশে বক্তৃতা দেওয়ার কথা রয়েছে।  


উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় অপর একটি মামলা করে দুদক। ২০১০ সালের ৫ আগস্ট তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশীদ। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।   গত বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পুরান ঢাকার বকশীবাজারে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর এবং সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী সলিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমানকে ১০ বছর করে কারাদণ্ডাদেশ এবং দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।


রায়ের পর পরই খালেদা জিয়াকে আদালতের পাশে নাজিমউদ্দিন রোডের ২২৮ বছরের পুরান ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। নির্জন এই কারাগারে একমাত্র বন্দি হিসেবে গত ৩১দিন ধরে কারাভোগ করছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।


এদিকে খালেদার মুক্তির দাবিতে গত ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে পাঁচ দফায় বিক্ষোভ সমাবেশে, মানববন্ধন, অবস্থান, গণঅনশন, গণস্বাক্ষর অভিযান, স্মারকলিপি পেশ, কালো পতাকা প্রদর্শনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে বিএনপি। এরমধ্যে পঞ্চম দফায় দুই দিনের কর্মসূচিতে গত ৬ মার্চ মঙ্গলবার সারা দেশে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে বিএপি। ওই দিন কেন্দ্রীয়ভাবে ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক ঘণ্টার মানববন্ধন কর্মসূচিতে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, খালেদা জিয়া দেশের মানুষের গণতন্ত্র ও কথা বলার অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার আন্দোলন করছেন। আর সে জন্য তাকে ছলচাতুরী করে মিথ্যা মামলায় কারাগারে পাঠিয়েছে সরকার। তিনি আরও বলেন, এখন তাঁর জামিন দিতেও সরকার গড়িমসি করছে।


এরপর ৮ মার্চ সারা দেশে এক ঘন্টার অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। তবে কেন্দ্রীয়ভাবে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে দলটির অবস্থান কর্মসূচি থেকে ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সভাপতি দিদারুল রাজকে পুলিশ আটক করে এবং লাঠিচার্জ করে দলটির নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এতে পণ্ড হয়ে যায় ওই দিনের কর্মসূচি।  


এর আগে গত ২২ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের কর্মসূচি পালন করতে না পেরে ২৪ ফেব্রুয়ারি কালো পতাকা প্রদর্শন কর্মসূচি ঘোষণা করে দলটি। কিন্তু পুলিশি বাধায় তাদের ওই দিনের কর্মসূচিও পণ্ড হয়ে যায়। আটক হন দলের অনেক নেতাকর্মী। অন্যদিকে মঙ্গলবার (৬ মার্চ) মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে যাওয়ার পথে স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবুকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ।


এদিকে ১২ মার্চ আবারও রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভার কর্মসূচি ঘোষণা করে সরকারের কাছে লিখিত অনুমতি চেয়েছে। কিন্তু এখনও ওই আবেদনে সাড়া মিলছে না। বৃহস্পতিবার (৮ মার্চ) বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল ঢাকা মেট্টোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মো.আছাদুজ্জামান মিয়ার সঙ্গে তার কার্যালয়ে গিয়ে সাক্ষাৎ করেন। তবে তিনি হ্যাঁ-না কিছুই বলেননি।

 


Top