অর্থসঙ্কটে বিল মেটাতে পারছে না ভারতীয় বিমানবাহিনী | daily-sun.com

অর্থসঙ্কটে বিল মেটাতে পারছে না ভারতীয় বিমানবাহিনী

ডেইলি সান অনলাইন     ৯ মার্চ, ২০১৮ ২১:৩০ টাprinter

অর্থসঙ্কটে বিল মেটাতে পারছে না ভারতীয় বিমানবাহিনী

 

অর্থমন্ত্রণালয় থেকে যথেষ্ঠ বরাদ্দ না পাওয়ায় পূর্বে কেনা অস্ত্র ও সরঞ্জামের বিল মেটাতে পারছে পারছে না ভারতের বিমানবাহিনী (আএএফ)। এর মধ্য দিয়ে ভারতের প্রতিরক্ষা বাজেটে ক্রমবর্ধমান ভারসাম্যহীনতার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।


২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য আইএএফ-কে বরাদ্দ দেয়া হয় ৩৫,৭৫৫ কোটি রুপি। কর্মকর্তারা বলছেন এই অর্থ থেকে বিগত কয়েক বছরের কেনাকাটার বিল পরিশোধ করতে গেলে বিপুল সমস্যা তৈরি হবে। এসব কেনাকাটার মধ্যে রয়েছে রাফালে ফাইটার জেট, এপাচি এ্যাটাক হেলিকপ্টার ও চিনুক হেভিলিফট হেলিকপ্টার।


এসব এয়ারক্রাফট ২০১৯-২০ সালের মধ্যে সরবরাহ করার কথা রয়েছে। কিন্তু উৎপাদন প্রক্রিয়া সচল রাখতে ভারতকে প্রতি বছর চুক্তির আংশিক অর্থ পরিশোধ করতে হবে ফরাসী ও যুক্তরাষ্ট্রের নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে। পাশাপাশি এসব সরঞ্জাম পরিচালনার জন্য ভারতে প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য সহায়ক কর্মকাণ্ড শুরু করতে হবে।


বিমানবাহিনীর প্রতিশ্রুত অর্থ পরিশোধের জন্য বছরের মাঝামাঝি বিশেষ বাজেট বরাদ্দের প্রয়োজন হবে বলে জানা গেছে। কিন্তু এতে সংস্থাটি বাজেট পরিকল্পনা সমস্যায় পড়বে। সূত্র জানায় যে আইএএফ আরো ১৪,০০০ কোটি রুপি চাইতে পারে। এর প্রতিশ্রুতিগুলো রক্ষা করার জন্য চলতি বছরের শেষ দিকে বিশেষ বরাদ্দ দেয়া হবে বলেও সূত্র উল্লেখ করে।


সিনিয়র অফিসাররা বলছেন প্রতিবছরই বিভিন্ন খরচ মেটাতে গিয়ে বাজেটের ঘাটতি থাকে। কিন্তু এবারই প্রথম ‘বাধ্যতামূলক পরিশোধ’ ক্ষেত্রে অর্থের টান পড়েছে।


২০১৭-১৮ সালের সরকারি রেকর্ডে দেখা যায়, ক্যাপিটেল হেড-এর আওতায় আইএএফ অর্থমন্ত্রণালয়ের কাছে ৬২,০৪৯ কোটি রুপি চেয়েছিলো, রাফালে জেট এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য উপাদনের খরচ মেটানোর পরিকল্পনা ছিলো। কিন্তু অর্থসংকটের কথা উল্লেখ করে এই সংস্থাকে চাহিদার ৫৪ শতাংশ বা ৩৩,৫৭০ কোটি রুপি বরাদ্দ দেয়া হয়।


ইতোপূর্বে প্রকাশিত রিপোর্টে বলা হয়েছে যে ভারতের প্রতিরক্ষা বাজেট বিপজ্জনকভাবে নিম্নগামী এবং গত কয়েক বছরে রাজস্ব বিলের পাহাড় জমে উঠেছে। প্রতিরক্ষা বাহিনীগুলোর জনশক্তি-নির্ভর প্রকৃতির কারণে এগুলোকে আধুনিকায়নের পেছনে অর্থ ব্যয়ের বদলে সৈনিকদের বেতনভাতা ও পেনশন দিতে গিয়েই বরাদ্দ ফুরিয়ে যায়।


সংসদীয় কমিটির রিপোর্টেও দেখা যায় যে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ক্যাপিটেল বাজেট কেবলই কমছে। ২০০৭ সালে মন্ত্রণালয়ের ক্যাপিটেল ব্যয় ৪১ শতাংশ থাকলেও ২০১৬-১৭ সালে তা কমে ৩২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।


ক্যাপিটেল বাজেট কমে যাওয়ার মানে হলো নতুন সরঞ্জাম ও অস্ত্রপাতি কেনার জন্য অর্থ কমে যাওয়া। যেমন ভারতীয় সেনাবাহিনীর জন্য ২০১৬-১৭ সালে ক্যাপিটেল বাজেট ছিলো মাত্র ২,০৮০ কোটি রুপি, যা এর সার্বিক ক্যাপিটেল শেয়ার-এর ১৪ শতাংশ।


-সূত্র: সাউথ এশিয়ান মনিটর ডট কম

 


Top