রোহিঙ্গা নিধনে সু চিকে দায়ী করলেন নোবেল বিজয়ী তিন নারী | daily-sun.com

রোহিঙ্গা নিধনে সু চিকে দায়ী করলেন নোবেল বিজয়ী তিন নারী

ডেইলি সান অনলাইন     ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ১৫:২৭ টাprinter

রোহিঙ্গা নিধনে সু চিকে দায়ী করলেন নোবেল বিজয়ী তিন নারী

 

রোহিঙ্গা নিধনে জড়িত থাকার অভিযোগে এবার শান্তিতে নোবেল বিজয়ী দেশটির ক্ষমতাসীন দলের নেত্রী অং সান সুচিকে দায়ী করলেন সফররত অপর তিন নারী নোবেল জয়ী। একই সঙ্গে তারা বিষয়টি আন্তর্জাতিক আদালতে বিচারের দাবি জানান।

সোমবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় আবেগাপ্লুত হয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে এ দাবি জানান তারা।  


নোবেল বিজয়ী তিনি নারী হলেন- ইরানের শিরিন এবাদি, ইয়েমেনের তাওয়াক্কুল কারমান ও যুক্তরাজ্যের মেরেইড ম্যাগুয়ার।


ঢাকায় আসার পর গতকাল রবিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) এই তিনি নোবেল বিজয়ী নারী রোহিঙ্গাদের অবস্থা স্বচক্ষে দেখতে কক্সবাজারে যান। দিনভর দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন, সেখানে নিপীড়িতদের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এসময় রোহিঙ্গা মুসলিমদের সার্বিক পরিস্থিতি দেখে আপ্লুত হয়ে পড়েন নোবেল বিজয়ী এই তিন নারী। এ সময় আবেগ সামলাতে না পেরে তারা কান্নায় ভেঙে পড়েন।


এরপর প্রতিনিধিদলটি উখিয়ার বালুখালী, থাইংখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যায়। সেখানেও দিনব্যাপী ক্যাম্পের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন এবং রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলবেন তারা।


বাংলাদেশের মানবিকতার প্রশংসা করে সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন শিরিন, কারমান ও ম্যাগুয়ার।


আগামীকাল মঙ্গলবার উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে তাদের সংবাদ সম্মেলন করার কথা রয়েছে।


গত বছরের ২৫ আগস্ট থেকে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে প্রায় ৭ লাখ রোহিঙ্গা প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন।


ধারণা করা হচ্ছে, নোবেল বিজয়ী এই তিন নারী রোহিঙ্গাদের সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে তা আন্তর্জাতিক ফোরামে তুলে ধরবেন।


এর আগে সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট অ্যালেন বেরসে, ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো, তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদ্রিম, তুরস্কের ফার্স্ট লেডি এমিনে এরদোয়ান, জর্ডানের রানী রানিয়া আল আব্দুল্লাহ, মালয়েশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী আহমদ জাহিদ হামিদি, যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন, জাতিসংঘ মহাসচিবের যৌন সহিংসতাবিষয়ক বিশেষ দূত প্রমীলা প্যাটেন, মার্কিন ডেমোক্রেটিক সিনেটর জেফ মার্কলে, রিচার্ড ডার্বিন, কংগ্রেসের প্রতিনিধি ভেটি মেকলাম, জেন সেকস্কি, ডেভিট সিচেলিন, মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাসিয়া বার্ণিকাট, জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থার বিশেষ দূত ইয়াং হি লি, ভারতে নিযুক্ত বিশ্বের ১৫টি দেশের ১৯ জন দূত, ইইউসহ জাপান, জার্মান ও সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেতনো মারসুদি, রাখাইন অ্যাডভাইজারি কমিশনের প্রতিনিধি দল ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানরা কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেছেন।


এদের মধ্যে গত ৬ ফেব্রুয়ারিই কক্সবাজারের উখিয়ার কুতপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট অ্যালেন বেরসে এবং গতকাল ১০ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন।


এছাড়া ১১ ফেব্রুয়ারি ১১ সদস্যবিশিষ্ট ইউরোপীয় পার্লামেন্টের একটি প্রতিনিধি দল রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন।

 


Top