ধর্ষিতা রোহিঙ্গা নারীরা অন্তঃসত্ত্বা | daily-sun.com

ধর্ষিতা রোহিঙ্গা নারীরা অন্তঃসত্ত্বা

ডেইলি সান অনলাইন     ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ১৪:৩৫ টাprinter

ধর্ষিতা রোহিঙ্গা নারীরা অন্তঃসত্ত্বা

 

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ধর্ষণের শিকার নারীদের কেউ কেউ অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছেন। একই সঙ্গে আবার কেউ কেউ ভুগছেন ধর্ষণের মানসিক যন্ত্রণায়।

খবর বিবিসি বাংলার।


খবরে বলা হয়, সীমা (ছদ্ম নাম) মিয়ানমারের মংডুতে ধর্ষণ শিকার হন মিয়ানমার সেনাবাহিনীর পাঁচ জন সদস্যের দ্বারা। এরপর নভেম্বরের নয় তারিখে ১২ দিন পায়ে হেটে কোনমতে পালিয়ে আসেন বাংলাদেশে। কিন্তু সীমা তখনো জানতেন না ধর্ষণের ফলে সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছেন।


বাংলাদেশে আসার পর যখন তিনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হন তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। ডাক্তার তাকে বলে দেন এখন সন্তান নষ্ট করলে তার জীবনের ঝুঁকি তৈরি হবে।


সীমা এখন ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা। উখিয়ার বালুখালি ক্যাম্পে একটি পলিথিনে ঘেরা ঘরে শুয়ে-বসে দিন কাটছে তার।


এখানে তাকে কে দেখাশোনা করে? বিবিসির কাছে তার সংক্ষিপ্ত উত্তর ছিল, "আশেপাশের ঘরের মানুষ"।


শিবিরে নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে খবরে বলা হয়, ধর্ষণের শিকার বেশ কিছু রোহিঙ্গা নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছেন।


২০১৭ সালের অগাস্টের শেষ সপ্তাহে মিয়ানমারে সহিংসতার কারণে যে কয়েক লক্ষ মানুষ এসে আশ্রয় নেয় তাদের বেশির ভাগ ছিল নারী এবং শিশু।


উখিয়ার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, এ পর্যন্ত যত রোহিঙ্গা এসেছে তার মধ্যে ৫২% নারী। এদের মধ্যে দুই লক্ষ ৯৪ হাজার নারী সন্তান ধারণে সক্ষম।


মংডুর নাইসং এলাকায় বাড়ী ছিল সালমার (ছদ্ম নাম)। তিনিও ধর্ষণের শিকার হন মিয়ানমার সৈন্যদের দ্বারা। জানালেন, স্বামী দুই মাস হল কাজের খোঁজে গিয়ে এখনো ফেরেনি।


বলেন, "ধর্ষণের পর মানসিক যে কষ্ট এবং গ্লানি সেটা কাওকে বোঝানো যাবে না। ” 


সেই মানসিক চাপরে সাথে যোগ হয়েছে স্বামীর লাপাত্তা হয়ে যাওয়া। এখানে আসার পর তিনি কোন চিকিৎসা নিয়েছেন? জবাবে জানান, "(স্থানীয়) ক্লিনিকে গেলে তারা ইনজেকশন দিয়েছিল, পরে আবার যেতে বলেছিল কিন্তু আমি আর যাইনি। ”


বেসরকারি সংস্থা রিসার্চ ট্রেনিং এন্ড ম্যানেজমেন্ট ইন্টারন্যাশনাল, যারা রোহিংগা নারীদের নিয়ে কাজ করছে, তার একজন কর্মকর্তা শারমিন। তিনি বলছিলেন, এসব নির্যাতিত নারীদের এখন দরকার কাউন্সেলিং অর্থাৎ মানসিক পরামর্শ। যাতে করে তারা এই ট্রমা থেকে বের হয়ে আসতে পারে। একই সাথে দরকার ফলো-আপ যাতে করে তাদের কোন শারীরিক অসুবিধা না হয়। কিন্তু সেটা তারা করে না।


স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মেজবাহ উদ্দিন বলছেন, তারা ক্যাম্পের ভিতরে নারী কর্মী পাঠিয়ে এসব তথ্য সংগ্রহ করেন কারণ ঐ নারীরা প্রকাশ্যে এসব কথা বলতে লজ্জা পান। ফলে চিকিৎসা দেওয়াটাও দুষ্কর হয়ে পড়ে।

 


Top