ফেসবুকে আত্মপরিচয় গোপন করলে মানসিক চাপ ও উদ্বেগ বাড়ে | daily-sun.com

ফেসবুকে আত্মপরিচয় গোপন করলে মানসিক চাপ ও উদ্বেগ বাড়ে

ডেইলি সান অনলাইন     ২৪ আগস্ট, ২০১৬ ১২:৩৬ টাprinter

ফেসবুকে আত্মপরিচয় গোপন করলে মানসিক চাপ ও উদ্বেগ বাড়ে

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অনেকেই নিজের সঠিক পরিচয় গোপন করে নিজের তুলনায় বড় কোনো ব্যক্তি হিসেবে জাহির করেন। আর এটি অন্যের মাঝে যে প্রভাবই ফেলুক না কেন, নিজের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য মোটেই ভালো নয়। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে হিন্দুস্তান টাইমস।


অনলাইনে নিজের নানা তথ্য গোপন করে নিজেকে বড় হিসেবে জাহির করা খুবই সহজ। এতে বহু মানুষকে চমৎকৃত করা যায়। কিন্তু এটি উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি করতে পারে। কারণ এটি আপনার মানসিক চাপ ও বাড়তি উদ্বেগ তৈরি করবে। আর এ বাড়তি মানসিক চাপ ও উদ্বেগ নানা রোগ ডেকে আনতে পারে।

গবেষকরা জানান, ফেসবুকে অনেকেই নিজের প্রকৃত পরিচয়ের তুলনায় ভিন্ন কোনো পরিচয় তৈরি করেন। ফেসবুকের এ ‘বড়’ পরিচয় মানুষের মানসিক চাপ যেমন বাড়ায় তেমন সামাজিকভাবেও সমস্যা তৈরি হতে পারে।

এ বিষয়ে গবেষণা করেছেন র‌্যাচেল গ্রিভ ও জারাহ ওয়াটকিনসন। তারা অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব তাসমানিয়ার গবেষক। তারা গবেষণাপত্রে জানিয়েছেন, ‘ফেসবুকে নিজের প্রকৃত পরিচয় প্রকাশ করা আবেগগতভাবে কম পরিশ্রমের। আর এতে মানসিক চাপও কম থাকে।’

নিজের সঠিক পরিচয় প্রকাশে আত্মবিশ্বাস যেমন বাড়ে তেমন ইতিবাচক মানসিকতাও তৈরি হয়। এতে উচ্চমাত্রায় মানসিক শান্তি ও নেতিবাচকতা মুক্ত থাকা যায়।

কিন্তু বিষয়টি ভিন্ন মাত্রা নেয় যখন কোনো ব্যক্তি নিজেকে তার প্রকৃত অবস্থা থেকে বড় হিসেবে তুলে ধরেন। এতে মানসিক স্বাস্থ্য খারাপ হয়ে যয়।

গবেষকরা জানান, ‘নিজের প্রকৃত অবস্থা পাল্টে ফেললে তা উদ্বেগ, বিষণ্ণতা ও জীবনের সন্তুষ্টি কমে যায়। এতে আত্মবিশ্বাসের ঘাটতিও তৈরি হয়।’

এ বিষয়ে গবেষণার জন্য গবেষকরা ১৬৪ জন অংশগ্রহণকারীকে অন্তর্ভুক্ত করেন। এতে অংশগ্রহণকারীরা ছিলেন ১৮ থেকে ৫৫ বছর বয়সী। তাদের ব্যক্তিত্ব ও মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক নানা প্রশ্ন করেন গবেষকরা। এরপর অংশগ্রহণকারীদের ফেসবুকের প্রোফাইল পর্যবেক্ষণে বাড়তি বিষয়গুলো চিহ্নিত করা হয়। এতে উঠে আসে ফেসবুক ব্যবহারকারীদের আত্মপরিচয় গোপন করার ফলে বাড়তি মানসিক চাপ ও উদ্বেগের বিষয়টি। এ বিষয়ে গবেষণাটির প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে সাইবারসাইকোলজি, বিহ্যাভিওর অ্যান্ড সোশাল নেটওয়ার্কিং জার্নালে।


Top