কর্মসূচি পালনে অনুমতি নেয়নি বিএনপি: পুলিশ | daily-sun.com

কর্মসূচি পালনে অনুমতি নেয়নি বিএনপি: পুলিশ

ডেইলি সান অনলাইন     ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ১৩:২০ টাprinter

কর্মসূচি পালনে অনুমতি নেয়নি বিএনপি: পুলিশ

 

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত এবং কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে বিএনপির কালো পতাকা প্রদর্শন কর্মসূচি পালনে বিএনপি অনুমতি নেয়নি বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) সিবলী নোমান।


তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে সকাল থেকে অবস্থান নিয়ে তারা জনসাধারণের স্বাভাবিক কার্যক্রম বিঘ্নিত করছিল।

এজন্য জলকামান ব্যবহার করে তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।


সিবলী নোমান আরও বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ব্যবহার করা হলেও লাঠিচার্জ বা টিয়ারশেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেনি। তবে এ ঘটনায় কতজন বিএনপি নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে, তা পরে জানা যাবে বলে তিনি জানান।

 


খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিএনপি গত ২২ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অথবা নয়া পল্টনে জনসভার অনুমতি চেয়েছিল। কিন্তু পুলিশ অনুমতি দেয়নি। এরই ধারাবাহিকতায় কালো পতাকা মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপি।


শনিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় এই মিছিলটি শুরু হওয়ার কথা ছিল। সে অনুযায়ী লাইনে দাঁড়াচ্ছিলেন নেতাকর্মীরা। এ সময় হঠাৎ লাঠিচার্জ ও পানি নিক্ষেপ শুরু হয়।

এ সময় ঢাকা বিভাগীয় সহ-জলবায়ু বিষয়ক সম্পাদক মুস্তাফিজুর রহমানসহ অন্তত ২৫ জনকে পুলিশ আটক করেছে বলে দাবি জানিয়েছে বিএনপি।


তবে পল্টন থানার ওসি (অপারেশন) আবু সিদ্দিক গণমাধ্যমকে বলেন, মিছিল থেকে ১১ নেতাকর্মীকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে।


এদিকে লাঠিপেটায় ও জনকামানে দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন ও সাবেক সংসদ সদস্য নিলুফার চৌধুরী মনি, নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুন রায় চৌধুরীসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

 


ধরপাকড়ের সময় ঘটনাস্থলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, মওদুদ আহমদ, ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরী, আবদুল আউয়াল মিন্টু, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, সাবেক সংসদ সদস্য নীলুফার চৌধুরী মনি উপস্থিত ছিলেন।


এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কয়েকশ কর্মী কার্যালয়ের সামনের সড়কে কালো পতাকা নিয়ে বসে পড়েন। খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে স্লোগান শুরু করেন তারা। এসময় লাঠিপেটা শুরু করে পুলিশ, জলকামান থেকে রঙিন পানিও ছুড়তে থাকে। কার্যালয়ের বাইরে যে প্যান্ডেল করা হয়েছিল, তাও পুলিশ ভেঙে দেয়।  


এতে ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় অবস্থান নেয়া নেতাকর্মীরা। তাদের কালো পতাকাগুলো ছড়িয়ে পড়ে আছে সড়কের বিভিন্ন স্থানে। পুলিশের বাধার মুখে নয়াপল্টন কার্যালয়ের ভেতরে এবং আশপাশের গলিতে আশ্রয় নেয় বিএনপি নেতাকর্মীরা।  


পরে বেলা ১২টার দিকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন।   সংবাদ সম্মেলন শেষে বেরিয়ে যাওয়ার সময় আটক হন আলাল।

 


সিবলী নোমান বলেন, ‘ডিএমপি এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ রয়েছে। কিন্তু নয়াপল্টনে বিএনপি কোনও অনুমতি না নিয়েই রাস্তা বন্ধ করে সমাবেশ করে। তারা গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দেয়। তাদের রাস্তা থেকে সরিয়ে দিতে চাইলে তারা পুলিশের গায়ে জুতা ছুঁড়ে মেরেছে। আমরা তখন তাদের পানি ছিটিয়ে ছত্রভঙ্গ করেছি। ’ 


এ ঘটনায় বিএনপির কত জন নেতাকর্মীকে আটক বা গ্রেফতার করা হয়েছে, জানতে চাইলে এডিসি সিবলী নোমান বলেন, ‘এখনই নির্দিষ্ট কোনও সংখ্যা বলা যাবে না। এখানে পুলিশ ও গোয়েন্দা শাখাসহ (ডিবি) অনেক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য কাজ করছে। কতজনকে আটক বা গ্রেফতার করা হয়েছে, তা পরে জানা যাবে। ’


তিনি আরও বলেন, ‘অনেকের নামে মামলা আছে, পলাতক আসামিও রয়েছে। তারা পুলিশের দয়িত্ব পালনে বাধা দিয়েছে। তাই পুলিশ তাদের সড়ক থেকে সরিয়ে দিয়েছে। ’

 


Top