‘সেই এতিম খানা কোথায়? কোথায় তাদের এতিমরা’ | daily-sun.com

‘সেই এতিম খানা কোথায়? কোথায় তাদের এতিমরা’

ডেইলি সান অনলাইন     ২২ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ১৭:১৭ টাprinter

‘সেই এতিম খানা কোথায়? কোথায় তাদের এতিমরা’

 

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামের সেই এতিম খানা কোথায় তা জানতে চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।   তিনি বলেন, এতিমখানার ঠিকানা কোথায়? সেখানে কয়জন এতিম আছে? তার কোনো সংখ্যা নেই? এতিমরা কি একটা টাকাও পেয়েছে? পায়নি।

এতিমের টাকা সুদে আসলে খেয়েছে খালেদা জিয়া এবং তার দলের লোকজন। বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজশাহীর মাদ্রাসা মাঠে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।


একই সঙ্গে এতিমের টাকা চুরির পরিণাম খালেদা জিয়া ভোগ করছেন বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘সেই এতিম খানা কোথায়? কোথায় তাদের এতিমরা? পবিত্র কোরআন শরীফেও এতিমের টাকা চুরির বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ’ 


এর আগে বিকেল তিনটা ৫০ মিনিটে শেখ হাসিনা জনসভা মঞ্চে পৌঁছান। এ সময় নেতাকর্মীরা তাকে স্লোগানে স্লোগানে স্বাগত জানান। প্রধানমন্ত্রীও হাত নেড়ে তাদের শুভেচ্ছার জবাব দেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী রাজশাহীর ৩৩টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।  


বক্তব্যের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী রাজশাহীবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, আপনাদের জন্য উপহার নিয়ে এসেছি।

ইতোমধ্যে আমরা কিছু প্রকল্প উদ্বোধন করেছি আর নতুন কিছু প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেছি। আমরা উপহার নিয়ে আসি। বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় ছিল। তারা কি দিয়েছিল?


রাজশাহীতে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সংগঠিত বিভিন্ন নেতিবাচক কর্মকাণ্ড তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনাদের উপহার দিয়েছিল শুধু লাশ। শিবির-ক্যাডাররা হাত-পায়ের রগ কেটে হত্যা করেছিল। বাংলা ভাই আব্দুল কাইয়ুমকে হত্যা করে গাছে ঝুলিয়ে রেখেছিল। বিএনপির আমলে এ এলাকা ছিল সন্ত্রাসী-জঙ্গিবাদ আর বাংলা ভাইদের অভয়ারণ্য।


শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি উন্নয়ন করতে পারে না কিন্তু মানুষের সম্পদ লুটপাট করে খেতে পারে। ট্রাস্ট করে এতিমদের নামে টাকা এনেছিল। ২৭ বছর পর বলে, টাকা তো আছে, সুদে-আসলে বেড়েছে। মামলা দিয়েছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার। সেই মামলায় সাজা হয়েছে। লুট করা, চুরি করা এটাই তাদের চরিত্র।


তিনি বলেন, এখন তাদের দলের নেতাকর্মীরা আন্দোলন করছে। টাকা চুরি করে তাদের নেত্রী জেলে গেছে। কিসের আন্দোলন? চোরের জন্য আন্দোলন?


প্রধানমন্ত্রী বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে আমরা জাতির পিতার নামে একটা ট্রাস্ট করেছি। ওই কেয়ারটেকার সরকার তন্ন তন্ন করে খুঁজেছে, কোনো কিছু পায় কি-না। আমি বলেছি, ভালোভাবে তদন্ত করে দেখেন। মানুষের জন্য কাজ করতে আসি। আমরা এতিমের টাকা মেরে খাইনি, বরং মানুষকে দিয়েছি। আমরা দু’বোন বাবার নামে ফাউন্ডেশন করে গরীব-দুস্থদের সহায়তা করছি। মেধাবীদের বৃত্তি দিচ্ছি। ’


এ নিয়ে গেল ৭ বছর ২ মাসে পঞ্চমবারের মত রাজশাহী সফর করছেন প্রধানমন্ত্রী। ২০১১ সালের ২৪ নভেম্বর থেকে থেকে ২০১৮ সালের ২২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তিনি এ সফর করেন। সাত বছর আগে রাজশাহীর এই ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে দলীয় জনসভায় ভাষণ দেন তিনি। এরপর ২০১৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর রাজশাহীর বাগমারা, ২০১৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি চারঘাটে আওয়ামী লীগের জনসভায় যোগ দেন তিনি। সর্বশেষ গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত পবার হরিয়ান চিনিকলের জনসভায় যোগ দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি।


জনসভায় সভাপতিত্ব করছেন রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন এবং পরিচালনা করছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ ও মহানগর সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার।


জনসভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- জেলা আওয়ামী লীগের আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য এবং সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি, জাহাঙ্গীর কবির নানক, মো. আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী প্রমুখ।

 


Top