প্রথম পর্যায়ে ৮০৩২ রোহিঙ্গার তালিকা হস্তান্তর | daily-sun.com

প্রথম পর্যায়ে ৮০৩২ রোহিঙ্গার তালিকা হস্তান্তর

ডেইলি সান অনলাইন     ১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ০৯:১০ টাprinter

প্রথম পর্যায়ে ৮০৩২ রোহিঙ্গার তালিকা হস্তান্তর

 

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দেশটির সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন বাহিনীর নিপীড়নের মুখে পালিয়ে আসা এক হাজার ৬৭৩টি পরিবারের আট হাজার ৩২ রোহিঙ্গার তালিকা মিয়ানমারকে দিয়েছে বাংলাদেশ। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার (প্রত্যাবাসন) প্রাথমিক উদ্যোগ হিসেবে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে এ তালিকা দেয়া হয়েছে।

বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।


শুক্রবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টায় সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং মিয়ানমারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লেফটেন্যান্ট জেনারেল কিয়াও সোয়ের নেতৃত্বে বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলে ১৮ জন এবং মিয়ানমারের প্রতিনিধি দলে ১৫ সদস্য অংশ নেন।


সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে বৈঠক শেষ হয়। বৈঠক শেষে সন্ধ্যা ৬টা ২৫ মিনিটে মিয়ানমারের প্রতিনিধি দল সচিবালয় ত্যাগ করে। মিয়ানমারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি।


মিয়ানমারের সঙ্গে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে দাবি করে আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ ও আন্তরিক পরিবেশে আলোচনা হয়েছে। তারাও পজেটিভ মুড নিয়ে এসেছিলেন। তাদের আমন্ত্রণে আমি যখন মিয়ানমারে গিয়েছিলাম তখন ১০টি পয়েন্টে ঐকমত্য হয়েছিল।

সেগুলো বাস্তবায়ন হচ্ছে কিনা, এর অগ্রগতি কী- এগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ’


তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘে যে পাঁচটি পয়েন্টের কথা বলেছিলেন সেগুলো এবং কফি আনানের রিপোর্টের ভিত্তিতে ১০টি পয়েন্টে অ্যাগ্রি করেছিলাম, সেখানে আমরা সাইন করেছিলাম। সেটা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। ’


রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে বৈঠকে আলোচনার বিষয়ে আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘আমাদের রেজিস্ট্রেশন অনুযায়ী ১০ লাখ ৬০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে। এ লোকগুলোকে তারা কীভাবে ফেরত নেবে সে বিষয়ে আলাপ হয়েছে। তারা এ ব্যাপারে খুবই আন্তরিকতা দেখিয়েছেন। তারা বলেছেন, তারা ক্রমান্বয়ে তাদের (রোহিঙ্গা) নিয়ে যাবেন। তারা যে এলাকায় থাকেন সেটা অত্যন্ত সম্ভাবনাময় এলাকা। তাদের রাখার জন্য ওই এলাকায় তারা একটা প্ল্যান করছেন, তারা ভিলেজ ডেভেলপ করবেন। প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও ফাইনাল পর্যায়ে তাদের পুনর্বাসনের জন্য কাজ করবেন। ’


‘প্রাথমিকভাবে রোহিঙ্গাদের চিহ্নিত করে তাদের জায়গায় নেয়া হবে। দ্বিতীয় পর্যায়ে তাদের পুনর্বাসনের জন্য বাড়িঘরের ব্যবস্থা করবেন। তৃতীয় পর্যায়ে তারা যাতে থেকে যেতে পারেন... কারণ এগুলো সবই কফি আনান কমিশনের রিপোর্টে ছিল, আমাদের ১০ পয়েন্টে ছিল, আজ সেগুলো নিয়ে আলোচনা করেছি। এ লোকগুলো যদি যায় তবে তারা আবার চলে আসবেন। সেই সামাজিক পরিবেশ পাবে না, হয়তো ওই এলাকার লোকগুলো তাদের থাকতে দেবে না। এ সমস্ত কথা তারা সবই স্বীকার করে বলেছেন যে, তারা এ সমস্ত কাজগুলো করবেন এবং ক্রমান্বয়ে আমাদের দেশে মিয়ানমারের অধিবাসী যারা এসেছেন তাদের ফিরিয়ে নিয়ে যাবেন। ’


মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আমাদের অসুবিধার কথাগুলো বলেছি, তারাও তাদের অসুবিধার কথা বলেছেন। ’


আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘আমরা ১১ লাখের কাছাকাছি রোহিঙ্গার লিস্ট করেছি, সেখানে তারা (মিয়ানমার) বলেছিল ফ্যামিলি ওয়াইজ লিস্ট দিতে। আমরা আজ এক হাজার ৬৭৩টি পরিবারের আট হাজার ৩২ জনের তালিকা করে তাদের দিয়েছি। তারা এটা কর্ডিয়ালি রিসিভ (আন্তরিকভাবে গ্রহণ) করেছেন। ’


‘মিয়ানমার এ তালিকায় থাকা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে’ জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তারা তালিকাটা যাচাই করবেন। সত্যিকার তাদের নাগরিক কিনা, সেটা যাচাই করে তারাই সিদ্ধান্ত নেবেন কীভাবে ফিরিয়ে নেয়া যায়। ’


কতদিনের মধ্যে তারা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেবেন- জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘১০ লাখ মানুষ বললেই তো চলে যাবে না। এগুলো যাওয়ার জন্য যে পরিবেশ সেই পরিবেশ তো তৈরি করতে হবে। তারা তিন পর্যায়ে তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করবেন। তাদের (রোহিঙ্গা) ফিরে যাওয়ার জন্য পরিবেশ তৈরি, ব্যবসা বাণিজ্য- সেই প্রাথমিক পর্যায়ের কাজ তারা (মিয়ানমার সরকার) করছেন। আমাদের তারা সেটা অ্যাসিউর করেছেন। তবে সুনির্দিষ্ট কোনো তারিখ তারা জানায়নি। আমরা মনে করি খুব শিগগিরই এ প্রসেস তারা শুরু করবেন, আমাদের বিশ্বাস এটা। ’

 


Top