জেল গেট থেকে ফিরে গেলেন খালেদার ৭ চিকিৎসক | daily-sun.com

জেল গেট থেকে ফিরে গেলেন খালেদার ৭ চিকিৎসক

ডেইলি সান অনলাইন     ১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ১৬:০৬ টাprinter

জেল গেট থেকে ফিরে গেলেন খালেদার ৭ চিকিৎসক

 

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা সঙ্গে দেখা করার অনুমতি পাননি সাত চিকিৎসক। বুধবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে অনুমতি ছাড়াই ওই সাত চিকিৎসক খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে যান। এরপর জেল সুপার বরাবর দরখাস্ত করা হলেও তাদের খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি।


তবে খালেদা জিয়াকে কারাগারে চিকিৎসাসেবার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার ব্যক্তিগত ওই চিকিৎসকরা। বিকেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল কুদ্দুস।

 
সাত চিকিৎসক হলেন, অধ্যাপক ডা. সিরাজ উদ্দিন আহম্মেদ, অধ্যাপক ডা. মো. শাহাব উদ্দিন, অধ্যাপক ডা. মো. আবদুল কুদ্দুস, অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, সহযোগী অধ্যাপক ডা. সাইফুল ইসলাম সেলিম, ডা. মো. ফাওয়াজ হোসেন শুভ ও ডা. মনোয়ারুল কাদির বিটু।


অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) চিকিৎসাসেবা বিষয় নিয়ে দেশবাসীর মতো আমরাও উদ্বিগ্ন। তাই ম্যাডামের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম। আমরা আইজি প্রিজন ও অতিরিক্ত আইজি প্রিজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি, কিন্তু তারা আমাদের অনুমতি দিতে অপরাগতা দেখিয়েছেন।


তিনি বলেন, ম্যাডাম অনেক অসুখে আক্রান্ত। নির্জন এ কারাগারে যদি তার কোনো ক্ষতি হয় তাহলে সরকার যতটুকু দায়ী থাকবে কারা কর্তৃপক্ষও ততটুকুই দায়ী থাকবে।

 


অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল কুদ্দুস আরও বলেন, তবে কারা কর্তৃপক্ষ ম্যাডামের চিকিৎসাসেবার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আশ্বাস দিয়েছেন। প্রয়োজন হলে আমাদেরকেও (খালেদা জিয়া নিজস্ব চিকিৎসক) ডাকা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

 

প্রসঙ্গত, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় অপর একটি মামলা করে দুদক। ২০১০ সালের ৫ আগস্ট তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশীদ। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।  গত বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পুরান ঢাকার বকশীবাজারে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর এবং সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী সলিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমানকে ১০ বছর করে কারাদণ্ডাদেশ এবং দুই কোটি ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।


রায়ের পর পরই খালেদা জিয়াকে আদালতের পাশে নাজিমউদ্দিন রোডের ২২৮ বছরের পুরান ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। নির্জন এই কারাগারে একমাত্র বন্দি হিসেবে গত এক সপ্তাহ ধরে কারাভোগ করছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।


২০১৬ সালের ২৯ জুন থেকে ছয় হাজার ৪০০ বন্দিকে কেরানীগঞ্জের তেঘরিয়ার রাজেন্দ্রপুরের নতুন কারাগারে স্থানান্তর করে পুরান কারাগার বন্ধ ঘোষণা করা হয়। কিন্তু দুই বছর চার মাস ১০ দিন পর দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে এই পরিত্যক্ত কারাগারেই দিন পার করছেন খালেদা জিয়া।


এদিকে রায়ের ষষ্ঠ দিনেও (মঙ্গলবার) সার্টিফায়েড কপি না পাওয়ায় রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারেননি খালেদা জিয়া। তবে আজ বিকেল ৪টায় রায়ের সার্টিফায়েড কপি পাওয়া যেতে পারে বলে জানিয়েছেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া।


এরই মধ্যে গতকাল সোমবার (১২ ফেব্রুয়ারি) কুমিল্লায় নাশকতার ঘটনায় দায়ের তিন মামলায় তাকে ‘শ্যোন অ্যারেস্ট’ দেখানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইজি প্রিজন্স ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দীন। তবে মঙ্গলবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে নিজ দফতরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া শুধুমাত্র জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় কারাগারে রয়েছেন। উনি আদালত কর্তৃক যে মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছেন সেই মামলাযতেই কারাবন্দী আছেন। এছাড়া অন্য কোনো মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়নি। বা এ ধরণের কোনো কিছু আমলে আনা হয়নি।

 


Top