খালেদার মুক্তির দাবিতে অনশনে নেতাকর্মীরা | daily-sun.com

খালেদার মুক্তির দাবিতে অনশনে নেতাকর্মীরা

ডেইলি সান অনলাইন     ১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ১১:০৬ টাprinter

খালেদার মুক্তির দাবিতে অনশনে নেতাকর্মীরা

 

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে অনশন শুরু করেছেন দলটির নেতাকর্মীরা। বুধবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০ থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এ কর্মসুচি শুরু হয়।

বিকাল ৪টা পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলবে। 


অনশন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, নিতাই রায় চৌধুরী, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদীন ফারুক, যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সসহ বিএনপি ও তার অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত রয়েছেন।


এছাড়া ২০ দলীয় জোট নেতাদের মধ্যে ন্যাপের গোলাম মোস্তফা ভুইয়া, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান ও এলডিপির শাহাদাৎ হোসেন সেলিম প্রমুখ অনশনে অংশ নিয়েছেন।


প্রসঙ্গত, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় অপর একটি মামলা করে দুদক। ২০১০ সালের ৫ আগস্ট তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশীদ। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।  গত বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পুরান ঢাকার বকশীবাজারে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর এবং সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী সলিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমানকে ১০ বছর করে কারাদণ্ডাদেশ এবং দুই কোটি ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।


খালেদা জিয়ার সাজার প্রতিবাদে গত শুক্রবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বাদজুমা দেশব্যাপী বিক্ষোভ করে দলের নেতাকর্মীরা। এর পরদিন গত শনিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিন দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। গত রবিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) ২০ দলের জোটের সভাতেও কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়।


এর অংশ হিসেবে গত সোমবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা মহানগরসহ সারা দেশে জেলা, মহানগর, থানা ও উপজেলায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। ওই দিন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বেলা ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত পূর্বঘোষিত এক ঘণ্টার মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে ছাড়া দেশে আর কোনো নির্বাচন হবে না, হতে দেয়া হবে না। তাকে ছাড়া আমরা কোনো নির্বাচনেই অংশগ্রহণ করব না।’
 

আর মঙ্গলবার দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে পরিত্যক্ত এবং নির্জন কারাগারে রেখে সরকার মানবতার চরম লঙ্ঘন করেছে। মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ করায় তাদেরও একদিন বিচারের মুখোমুখি করা হবে। 


এ সময় তিনি আন্দোলনে সম্পৃক্ত হওয়ার জন্য ছাত্রদল, যুবদল, মহিলাদল স্বেচ্ছাসেবকদলসহ দলের সকল অঙ্গসংগঠনকে ধন্যবাদ জানান। সেইসঙ্গে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।


শেষের দিন আজ বুধবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ঢাকা মহানগরসহ সারা দেশে জেলা, মহানগর, থানা ও উপজেলায় অনশন কর্মসূচি পালিত হবে।


উল্লেখ্য, দণ্ডবিধি ১০৯ ও ৪০৯ ধারায় খালেদা জিয়াসহ বাকিদের সাজা দেয়া হয়। মামলায় মোট আসামি ছয়জন। তাদের মধ্যে তিনজন পলাতক রয়েছেন। তারা হলেন- বিএনপির জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।


রায়ের পর পরই খালেদা জিয়াকে আদালতের পাশে নাজিমউদ্দিন রোডের ২২৮ বছরের পুরান ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। নির্জন এই কারাগারে একমাত্র বন্দি হিসেবে আছেন তিনি।


২০১৬ সালের ২৯ জুন থেকে ছয় হাজার ৪০০ বন্দিকে কেরানীগঞ্জের তেঘরিয়ার রাজেন্দ্রপুরের নতুন কারাগারে স্থানান্তর করে পুরান কারাগার বন্ধ ঘোষণা করা হয়। কিন্তু দুই বছর চার মাস ১০ দিন পর দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে এই পরিত্যক্ত কারাগারেই দিন পার করছেন খালেদা জিয়া।


এদিকে রায়ের ষষ্ঠ দিনেও (মঙ্গলবার) সার্টিফায়েড কপি না পাওয়ায় রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারেননি খালেদা জিয়া।


এরই মধ্যে গতকাল সোমবার (১২ ফেব্রুয়ারি) কুমিল্লায় নাশকতার ঘটনায় দায়ের তিন মামলায় তাকে ‘শ্যোন অ্যারেস্ট’ দেখানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইজি প্রিজন্স ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দীন। তবে মঙ্গলবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে নিজ দফতরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া শুধুমাত্র জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় কারাগারে রয়েছেন। উনি আদালত কর্তৃক যে মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছেন সেই মামলাযতেই কারাবন্দী আছেন। এছাড়া অন্য কোনো মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়নি। বা এ ধরণের কোনো কিছু আমলে আনা হয়নি।

 


Top