ফোরজি নিলাম: তরঙ্গ কিনলো গ্রামীণফোন ও বাংলালিংক | daily-sun.com

ফোরজি নিলাম: তরঙ্গ কিনলো গ্রামীণফোন ও বাংলালিংক

ডেইলি সান অনলাইন     ১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ১৭:০৩ টাprinter

ফোরজি নিলাম: তরঙ্গ কিনলো গ্রামীণফোন ও বাংলালিংক

 

চতুর্থ প্রজন্মের (ফোর-জি) ইন্টারনেট সেবার জন্য তরঙ্গ কিনেছে গ্রামীণফোন ও বাংলালিংক। মঙ্গলবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) তরঙ্গ নিলামে অংশ নিয়ে ১৫.৬ মেগাহার্টজ তরঙ্গ কিনেছে কোম্পানি দুটি।

এর মধ্যে গ্রামীণফোন ১৮০০ মেগাহার্টজে ৫ মেগাহার্টজ তরঙ্গ কিনেছে। বাংলালিংক ২১০০ মেগাহার্টজে ৫ মেগাহার্টজ এবং ১৮০০ মেগাহার্টজে ৫.৬ মেগাহার্টজ তরঙ্গ কিনেছে।


১০ শতাংশ ভ্যাট ধরে ১৫.৬ মেগাহার্টজ তরঙ্গের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে পাঁচ হাজার ২৬৮ কোটি টাকা।


বেলা পৌনে ১২টার দিকে রাজধানীর শাহবাগে ঢাকা ক্লাবে ফোরজি চালুর জন্য তরঙ্গ নিলাম শুরু করে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।

 
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, বিটিআরসি চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ এবং গ্রামীণফোন ও বাংলালিংকের শীর্ষ কর্মকর্তারা নিলামে উপস্থিত ছিলেন।


নিলামের শুরুতে বিটিআরসি’র সচিব মো. সরওয়ার আলম বলেন, আশা করছি, দেশের জনগণ ২০ ফেব্রুয়ারি থেকেই ফোর-জি সেবা পেতে শুরু করবে। তবে এটা ভালোভাবে পেতে কিছুটা সময় লাগবে বলেও জানান তিনি।


তিনি আরও জানান, ফোর-জিতে ২০ দশমিক ৬ মেগাহার্টজ বেতার তরঙ্গ বিক্রি হবে। এতে ভ্যাটসহ প্রায় পাঁচ হাজার ৩০০ কোটি টাকা আয় হবে বলে ধারণা করছে বিটিআরসি কর্তৃপক্ষ।


মোবাইল ইন্টারনেটে দ্রুতগতির সেবায় ফোরজি সর্বশেষ প্রযুক্তি। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রচলিত থ্রিজির এটি পরের ধাপ। থ্রি-জির তুলনায় ফোর-জি ইন্টারনেটের গতি হবে কমপক্ষে দ্বিগুণ। বাণিজ্যিকভাবে প্রথম এ সেবা চালু হয় ২০০৯ সালে; নরওয়ে ও সুইডেনে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াসহ প্রায় সব উন্নয়নশীল দেশেই ফোরজিসেবা চালু আছে। বাংলাদেশে সে হিসাবে এটি বেশ পরেই এলো।


ফোর-জি সেবার জন্য টেলিটক, সিটিসেল, বাংলালিংক, গ্রামীণফোন ও রবি আবেদন করেছিল। আর তরঙ্গ নিলামের জন্য বাংলালিংক, গ্রামীণফোন, রবি ও সিটিসেল আবেদন জমা দেয়। তবে শেষ পর্যন্ত মঙ্গলবারের নিলামে গ্রামীণফোন ও বাংলালিংক অংশ নিলেও রবি ও টেলিটকের কাছে যথেষ্ট তরঙ্গ থাকায় তারা অংশ নেয়নি। নিলামের পর ফোরজি চালুর জন্য সময় রয়েছে এক সপ্তাহ।


সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো বলেছে- সব কাজ সেরে গ্রাহকপর্যায়ে ঢাকাসহ দেশের বড় বিভাগীয় শহরে সেবাটি সময়মতো চালু করা যাবে। বিটিআরসির ফোরজি নীতিমালা অনুযায়ী, লাইসেন্স পাওয়ার দেড় বছরের মধ্যে দেশের সব জেলা শহরে সেবাটি চালু করতে হবে; তিন বছরের মধ্যে সব উপজেলায়।


বিটিআরসি কর্মকর্তারা জানান, গ্রামীণফোন শুধু এক হাজার ৮০০ মেগাহার্টজ তরঙ্গে এবং বাংলালিংক দুই হাজার ১০০ মেগাহার্টজ ও এক হাজার ৮০০ মেগাহার্টজ তরঙ্গ নিলামে অংশ নিচ্ছে। দুটি ব্র্যান্ডে নিলামে অংশ নিতে বাংলালিংক ৩০০ কোটি টাকা এবং গ্রামীণফোন একটি ব্র্যান্ডে অংশ নিতে ১৫০ কোটি টাকা বিড আর্নেস্ট মানি হিসেবে জমা দিয়েছে।


বিটিআরসির চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ বলেন, ২০ ফেব্রুয়ারি মোবাইল ফোন অপারেটরদের হাতে ফোরজির লাইসেন্স আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেয়া হবে। এই দিন থেকে সেবা চালু করতে তারা কারিগরিভাবেও প্রস্তুত।


যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ওপেন সিগন্যালের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশে থ্রি-জি ইন্টারনেটের গড় গতি ৩ দশমিক ৭৫ এমবিপিএস (মেগাবিটস প্রতি সেকেন্ড)। আর বিশ্বে ফোর-জি প্রযুক্তির গড় গতি ১৬ দশমিক ৬ এমবিপিএস। ভারতে ফোর-জির গড় গতি বর্তমানে ৬ দশমিক ১৩ এমবিপিএস। পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ডের মতো দেশে ফোর-জির গতি ৯ থেকে ১৪ এমবিপিএসের মধ্যে। ফোর-জি গতিতে বিশ্বে সবচেয়ে এগিয়ে থাকা দুই দেশ হলো সিঙ্গাপুর ও দক্ষিণ কোরিয়া। বিশ্বজুড়ে ৩৮ লাখ স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর ৫ হাজার কোটি তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের মাধ্যমে একেকটি দেশের ফোর-জি ইন্টারনেটের গতি নির্ধারণ করে ওপেন সিগন্যাল।

 


Top