মৃত্যুর মুহূর্তেও কেউ এতো প্রশান্ত কি করে থাকে! | daily-sun.com

মৃত্যুর মুহূর্তেও কেউ এতো প্রশান্ত কি করে থাকে!

ডেইলি সান অনলাইন     ১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ১৬:৪১ টাprinter

মৃত্যুর মুহূর্তেও কেউ এতো প্রশান্ত কি করে থাকে!

এটি ১২ বছর বয়সী একটি মেয়ের গল্প। একটি সত্যিকার গল্প।

আগ্নেয়গিরির ধ্বংসস্তুপে ৩ দিন আটকে থাকার পর মারা গিয়েছিল মেয়েটি। কোমর থেকে তার দেহের নিম্নাংশ আগ্নেয়গিরির ধ্বংসস্তুপের ফাঁদের নিচে আটকা পড়েছিল। ওই মৃত্যুফাঁদে আটকা পড়ার পরবর্তী ৬০ ঘন্টা সে জীবিত ছিল এবং প্রশান্তচিত্তেই ছিল।

 

লোকে তাকে উদ্ধারের প্রাণপণ চেষ্টা করেছিল। কিন্তু তারা জানত যে তাকে উদ্ধার করা যাবে না। এরপরও তারা তাকেঁ বাচাতে চেয়েছে। মেয়েটিও জানত তার শেষ সময় এসে গেছে। তথাপি সে প্রশান্তচিন্তে ছিল এবং এমনকি সে একটি গানও গেয়েছিল। চেষ্টাও করেছে উদ্ধার পাওয়ার জন্য।

বাঁচার জন্য। আসুন বিস্তারিতভাবে জেনে নেই তার শেষ মুহূর্তের সংগ্রামটা কেমন ছিল।

 

তার শেষ মুহূর্তের ছবিটি দুনিয়াজুড়ে এখন একটি আইকনে পরিণত হয়েছে। সে আটকে পড়েছিল আগ্নেয়গিরির লাভার উদগীরণে সৃষ্ট কাঁদার প্রবাহে। যেখানে সে ছিল অসহায়। কিন্তু জীবিত। ছবিটি দেখে আপনার পেট গুলিয়ে উঠতে পারে এই ভেবে যে সে তখনো জীবিত অথচ কী প্রশান্তচিন্তে তাকিয়ে আছে ক্যামেরার লেন্সের দিকে।

 

তার প্রশান্ত দৃষ্টি
যদিও সে তীব্র ব্যাথা পাচ্ছিল, কিন্তু সেই ব্যথায় সে নিজেকে আক্রান্ত হতে দেয়নি। লোকে যখন তাকে উদ্ধার করতে গিয়েছিল সে তখন খুবই প্রশান্তচিত্তে তাকিয়ে ছিল। তাকে সম্ভাব্য সব উপায়েই উদ্ধারের চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু তার একটি পা আটকে ছিল।

 

তার মৃত খালা তাকে ধরে রেখেছিল!
ধ্বংসস্তুপের নিচে চাপাপড়ে নিহত তার খালা তার একটি পা শক্ত করে ধরে রেখেছিল। উদ্ধারকারীর পরে উপলব্ধি করেন মেয়েটি আস্তে আস্তে হাঁটু গেড়ে বসে পড়ছিল। এবং তাকে জীবিত উদ্ধারের সব সম্ভাবনা দূর হয়ে যাচ্ছিল।

 

আগ্নেয়গিরির ধ্বংসযজ্ঞ শুরু হওয়ার সময় সে বাড়িতেই ছিল
মেয়েটি জানায় আগ্নেয়গিরির ধ্বংসযজ্ঞ শুরু হওয়ার সময় সে বাড়িতেই ছিল। তারা বাবা-মা, ভাই এবং খালা বাড়িতেই ছিল। আর তারা আগ্নেয়গির থেকে লাভার উদগীরণ নিয়ে চিন্তিত ছিল। হঠাৎ করেই আগ্নেয়গিরর লাভার উদগীরণে সৃষ্ট কাঁদার প্রবাহে তাদের বাড়িটি হুড়মুড়িয়ে ভেঙ্গে পড়ে। অন্যদের সঙ্গে সেও ধ্বংসস্তুপে চাপা পড়ে। তবে এরপরও সে অনেকটা বেরিয়ে আসতে পেরেছিল। কিন্তু তার খালা তার একটি পা ধরে রেখেছিল বলে আর বের হতে পারেনি। আর কংক্রিটের দরজা তার পায়ের ওপর পড়েছিল।

 

উদ্ধারকারীরা দেখল যে
তার পা কাটা বা ভেঙ্গে ফেলা ছাড়া তাকে উদ্ধার করা সম্ভব নয়। তারা তার গলায় একটি টায়ার টিউব লাগিয়ে দেয়। যাতে সে ডুবে না যায়।

 

তার সংক্ষিপ্ত মুহূর্তগুলো
মরণফাঁদে আটকে থাকার পুরো ৬০ ঘন্টাজুড়ে সে ইতিবাচক এবং দয়ালু ছিল। শুধু যে কয়েকটি মুহূর্তে সে প্রার্থনা করছিল এবং কাঁদছিল সে মুহূর্তগুলো ছাড়া। এমনকি একবার সে একটি গানও গেয়েছিল।

 

মিষ্টি খেতে চেয়েছিল
মৃত্যুর আগে সে মিষ্টি খেতে চেয়েছিল এবং সোডাও পান করেছিল। সে এতটাই দয়ালু ছিল যে একবার সে উদ্ধারকারীদেরকে বিশ্রাম নিতে বলেছিল।

 

শেষদিন তার হেলুসিনেশন হয়েছিল
তার জীবনের শেষ রাতটিতে সে অলীক কিছু একটা দেখছিল। আসলে তার হেলুসিনেশন হচ্ছিল। সে বলছিল তার স্কুলে যেতে দেরি হয়ে যাবে। উদ্ধারকারীরা দেখতে পেল তার চেহারা ফুলে উঠেছে এবং তার হাত সাদা হয়ে গেছে। আর তার চোখ দুটো লাল হেয়ে এসেছিল।

 

৬০ ঘন্টা সংগ্রামের পর সে মারা গেল
বাঁচার জন্য ৬০ ঘন্টার সংগ্রাম শেষে সে তার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে। তার মুত্যুর কারণ ছিল গ্যাংগ্রিন এবং হাইপোথারমিয়া বা দেহের তাপশুন্যতা। তাকে যেহেতু আর উদ্ধার করা সম্ভব ছিল না উদ্ধারকারীরা তাকে খুবই মানবিকভাবে মৃত্যুর কোলে তুলে দেয়।

 

ঘটনাটি ঘটেছিল ১৯৮৫ সালের ১৩ নভেম্বর। কলম্বিয়ার টলিমোর এর আরমেরোতে। নেভাদো দেল রুইজ আগ্নেয়গিরিতে লাভার উদগীরণে ওই বিপর্যয় নেমে এসেছিল। এতে নিহত হয়ছিল মোট ২৩ হাজার মানুষ।

 

আগ্নেয়গিরর লাভার আগুনে পাহাড়ের জমাট বরফ গলে ভুমি ধ্বস, এবং পানি ও মাটি মিশে যে কাঁদা তৈরি হয় তাতে ধ্বংসস্তুপ প্রবাহিত হয়েছিল ৫০ মাইল বেগে। আরমেরো শহরের ২৯ হাজার বাসিন্দার ২০ হাজার জনই নিহত হন।

 

মেয়েটির শেষ মুহূর্তের একটি ছবি পরে বিশ্বব্যাপী আলোড়ন তুলেছিল। আর কলম্বিয়ার সরকারের বিরুদ্ধেও সমালোচনার ঝড় উঠেছিল।

 

 

 

 

 

 


Top