অন্য কোনো মামলায় খালেদাকে গ্রেফতার দেখানো হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী | daily-sun.com

অন্য কোনো মামলায় খালেদাকে গ্রেফতার দেখানো হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ডেইলি সান অনলাইন     ১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ১৫:৪৪ টাprinter

অন্য কোনো মামলায় খালেদাকে গ্রেফতার দেখানো হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

 

খালেদাকে অন্য কোনো মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়নি বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া শুধুমাত্র জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় কারাগারে রয়েছেন।

উনি আদালত কর্তৃক যে মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছেন সেই মামলাযতেই কারাবন্দী আছেন। এছাড়া অন্য কোনো মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়নি। বা এ ধরণের কোনো কিছু আমলে আনা হয়নি।


মঙ্গলবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে নিজ দফতরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা জানান।


গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় নিম্ন আদালত খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। ওইদিন থেকেই কারাবন্দী তিনি।


সোমবার (১২ ফেব্রুয়ারি) কারা-মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইফতেখার উদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, খালেদা জিয়াকে কুমিল্লা এবং ঢাকার তেজগাঁও ও শাহবাগ থানার তিনটি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।


তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছেন বেগম খালেদা জিয়া। সেই মামলায়ই তিনি কারাবন্দী আছেন। এ ছাড়া কোনো মামলায় তাকে শ্যোন আরেস্ট কিংবা এই ধরনের কিছু আমলে আনা হয়নি।’


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, ‘তার নামে আরও দুটি মামলায় পিডব্লিউ (প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট) রয়েছে। সেগুলোতে তিনি যথাসময়ে কোর্টে যাবেন, এ বিষয়ে আমাদের কিছু করার নেই। দুটি মামলায় তিনি জামিনেও আছেন।’


আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, এ ছাড়া শাহবাগ থানায় বড় পুকুরিয়া কয়লা খনি (৫৩ নম্বর) মামলা রয়েছে। ১৮ ফেব্রুয়ারি তিনি সেই মামলায় হাজিরা দিতে যাবেন। গ্যাটকো দুর্নীতি মামলাও রয়েছে। এ ছাড়া তার নামে যে সব ওয়ারেন্ট রয়েছে সেগুলোর জন্য তাকে অ্যারেস্ট দেখানো হয়নি। এ বিষয়ে একটা ভুল ইনফরমেশন ছড়িয়েছে। শুধু দণ্ডপ্রাপ্ত মামলায়ই তিনি কারাবরণ করছেন।


খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে যেসব মামলায় পরোয়ানা রয়েছে সেগুলোতে তাকে গ্রেফতার দেখানো হবে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘দেখুন আদালতই ‌সিদ্ধান্ত নেবেন কোন মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হবে।’


বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে খালেদা জিয়ার কারাবাস দীর্ঘায়িত করতে সরকার চেষ্টা করছে এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার অতি উৎসাহী হয়ে কোনো কিছুই করছে না। বরং আদালত যেভাবে নির্দেশনা দেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা সরকার তার বাইরে যায়নি। আমরা শুধু আদালতের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করছি।’

 

প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পুরান ঢাকার বকশীবাজারে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর এবং সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী সলিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমানকে ১০ বছর করে কারাদণ্ডাদেশ এবং দুই কোটি ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।


দণ্ডবিধি ১০৯ ও ৪০৯ ধারায় খালেদা জিয়াসহ বাকিদের সাজা দেয়া হয়। মামলায় মোট আসামি ছয়জন। তাদের মধ্যে তিনজন পলাতক রয়েছেন। তারা হলেন- বিএনপির জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।


রায়ের পর পরই খালেদা জিয়াকে আদালতের পাশে নাজিমউদ্দিন রোডের ২২৮ বছরের পুরান ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। নির্জন এই কারাগারে একমাত্র বন্দি হিসেবে আছেন তিনি।


২০১৬ সালের ২৯ জুন থেকে ছয় হাজার ৪০০ বন্দিকে কেরানীগঞ্জের তেঘরিয়ার রাজেন্দ্রপুরের নতুন কারাগারে স্থানান্তর করে পুরান কারাগার বন্ধ ঘোষণা করা হয়। কিন্তু দুই বছর চার মাস ১০ দিন পর দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে এই পরিত্যক্ত কারাগারেই দিন পার করছেন খালেদা জিয়া।


এদিকে রায়ের পর পাঁচ দিন অতিবাহিত হলেও রায়ের সার্টিফাইড কপি না পাওয়ায় রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারেননি খালেদা জিয়া।

 

 


Top