‘খালেদা জিয়াকে নির্জন কারাগারে রেখে সরকার মানবতার চরম লঙ্ঘন করেছে’ | daily-sun.com

‘খালেদা জিয়াকে নির্জন কারাগারে রেখে সরকার মানবতার চরম লঙ্ঘন করেছে’

ডেইলি সান অনলাইন     ১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ১৪:৪৮ টাprinter

‘খালেদা জিয়াকে নির্জন কারাগারে রেখে সরকার মানবতার চরম লঙ্ঘন করেছে’

 

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে পরিত্যক্ত এবং নির্জন কারাগারে রেখে সরকার মানবতার চরম লঙ্ঘন করেছে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ করায় তাদেরও একদিন বিচারের মুখোমুখি করা হবে। রাজধানীর নয়াপল্টন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মঙ্গলবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচিতে তিনি এসব কথা বলেন।


মির্জা ফখরুল বলেন, মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে খালেদা জিয়াকে একটি পরিত্যক্ত ও নির্জন কারাগারে রাখা হয়েছে। অথচ আন্তর্জাতিক আইনেও নারী বন্দিদের নির্জন কারাগারে রাখা যাবে না বলা আছে।


তিনি বলেন, আজ অবৈধ সরকার সম্পূর্ণভাবে গণবিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। রাজনৈতিকভাবে তারা দেওলিয়া হয়ে গেছে। এজন্যই তারা খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ প্রায় ১৫ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছে।


তিনি আরও বলেন, দেশনেত্রীকে কারাগারে নিয়ে সরকার মনে করেছে, মানুষকে স্তব্ধ করা যাবে, দমিয়ে রাখা যাবে। কিন্তু, সেটা করা যাবে না। দেশের মানুষই কারাগার থেকে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে আনবে। কারণ, তিনি বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী। এখনও রাজপথে নামলে তার পেছনে লাখ লাখ মানুষ থাকেন।


এ সময় তিনি আন্দোলনে সম্পৃক্ত হওয়ার জন্য ছাত্রদল, যুবদল, মহিলাদল স্বেচ্ছাসেবকদলসহ দলের সকল অঙ্গসংগঠনকে ধন্যবাদ জানান। সেইসঙ্গে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।


অবস্থান কর্মসূচিতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, আমাদের সংবিধান, জেলকোডে যে নিয়ম-কানুন আছে, সব কিছুর বরখেলাপ করে বেগম জিয়াকে নির্জন কারাগারে রাখা হয়েছে। আমরা আইনি মোকাবেলা করছি। কিন্তু, তাকে যদি মুক্ত করে আনতে চান, তাহলে আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই।


স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, সরকার বিচারের নামে প্রহসন করে ইচ্ছাপূরণ করেছে। আমরা সুবিচার পাইনি। আমরা আইনের শাসনে বিশ্বাসী। তাই আইনিভাবে মোকাবেলা করছি। তারেক রহমানের নির্দেশে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছি। এই আন্দোলনেও পুলিশ বাধা দিচ্ছে, গ্রেফতার করা হচ্ছে।


স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, বিএনপিতে ভাঙন ধরানোর ক্ষমতা বাংলাদেশের কারও নেই। অনেকে ভেবেছেন কিছু একটা হয়ে যাবে। ইনশাআল্লাহ, কিছুই হবে না।


তিনি বলেন, আমরা খালেদা জিয়াকে দেশনেত্রী বানিয়েছিলাম। আর সরকার তাকে কিংবদন্তি নেলসন ম্যান্ডেলা বানিয়ে দিয়েছে। এজন্য আপনাদের ধন্যবাদ দিতেই হবে।


কর্মসূচিতে আরও বক্তব্য রাখেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনসহ কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।


অবস্থান কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেন, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, জয়নাল আবেদীন ফারুক, হাবিবুর রহমান হাবিব, আবুল খায়ের ভূইয়া, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়া, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, শহীদুল ইসলাম বাবুল, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সহ-সম্পাদক কাদের গণি চৌধুরী, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নিরব, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দীন টুকু প্রমুখ।


এছাড়া ২০-দলীয় জোট নেতাদের মধ্যে এলডিপির শাহাদত হোসেন সেলিম, ন্যাপের গোলাম মোস্তফা ভূইয়া, এনপিপির মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, জাগপার খন্দকার লুৎফর রহমান, এনডিপির মঞ্জুর হোসেন ঈশা, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, পিজিপির আব্দুল মতিন সাউদ প্রমুখকে কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেখা গেছে।


এদিকে খালেদা জিয়ার সাজার প্রতিবাদে গত শুক্রবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বাদজুমা দেশব্যাপী বিক্ষোভ করে দলের নেতাকর্মীরা। এর পরদিন গত শনিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিন দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। 


এর অংশ হিসেবে শেষের দিন আগামীকাল বুধবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ঢাকা মহানগরসহ সারা দেশে জেলা, মহানগর, থানা ও উপজেলায় অনশন কর্মসূচি পালিত হবে।


উল্লেখ্য, দণ্ডবিধি ১০৯ ও ৪০৯ ধারায় খালেদা জিয়াসহ বাকিদের সাজা দেয়া হয়। মামলায় মোট আসামি ছয়জন। তাদের মধ্যে তিনজন পলাতক রয়েছেন। তারা হলেন- বিএনপির জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।


রায়ের পর পরই খালেদা জিয়াকে আদালতের পাশে নাজিমউদ্দিন রোডের ২২৮ বছরের পুরান ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। নির্জন এই কারাগারে একমাত্র বন্দি হিসেবে আছেন তিনি।


২০১৬ সালের ২৯ জুন থেকে ছয় হাজার ৪০০ বন্দিকে কেরানীগঞ্জের তেঘরিয়ার রাজেন্দ্রপুরের নতুন কারাগারে স্থানান্তর করে পুরান কারাগার বন্ধ ঘোষণা করা হয়। কিন্তু দুই বছর চার মাস ১০ দিন পর দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে এই পরিত্যক্ত কারাগারেই দিন পার করছেন খালেদা জিয়া।


এদিকে রায়ের পর পাঁচ দিন অতিবাহিত হলেও রায়ের সার্টিফাইড কপি না পাওয়ায় রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারেননি খালেদা জিয়া।


এরই মধ্যে গতকাল সোমবার (১২ ফেব্রুয়ারি) কুমিল্লায় নাশকতার ঘটনায় দায়ের তিন মামলায় তাকে ‘শ্যোন অ্যারেস্ট’ দেখানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইজি প্রিজন্স ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দীন।

 


Top