নারায়ণগঞ্জের যুগ্ম জেলা জজকে সতর্ক করলেন আপিল বিভাগ | daily-sun.com

নারায়ণগঞ্জের যুগ্ম জেলা জজকে সতর্ক করলেন আপিল বিভাগ

ডেইলি সান অনলাইন     ১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ১৩:০৫ টাprinter

নারায়ণগঞ্জের যুগ্ম জেলা জজকে সতর্ক করলেন আপিল বিভাগ

 

নির্দেশ থাকার পরও এক যুগ আগে দায়ের হওয়া মামলা এখন পর্যন্ত নিষ্পত্তি না হওয়ায় নারায়ণগঞ্জ জেলা আদালতের এক যুগ্ম-জেলা জজকে তলব করে সতর্ক করেছেন আপিল বিভাগ। তলব আদেশের পর হাজির হয়ে মঙ্গলবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চে ক্ষমা প্রার্থনা করেন জেলা যুগ্ম-জজ মো. সফিকুল ইসলাম। পরে আদালত এই মামলাটি আগামী ১৫ এপ্রিলের মধ্যে নিষ্পতি করতে আদেশ দেন। 

 

এর আগে গত ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ সালে ত্রুটিপূর্ণ মিটার ও বর্ধিত বিদ্যুৎ বিলসংক্রান্ত একটি মামলা এখন পর্যন্ত নিষ্পত্তি না হওয়ায় তার ব্যাখ্যা দিতে নারায়ণগঞ্জের যুগ্ম জেলা জজকে তলব করেন আপিল বিভাগ।


আদালতে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন। রিটকারী কোম্পানি ম্যাক পেপারস লিমিটেডের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কামাল উল আলম।


শুনানিকালে প্রধান বিচারপতি ওই যুগ্ম-জেলা জজকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আর কতদিন? আরও কি ১০ বছর লাগবে এই মামলাটি নিষ্পত্তি করতে?’


জবাবে সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এই মামলাটি এর আগে আমার কাছে ছিল না।’


এরপর প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আপনার কাছে এটা কতদিন?’ বিচারক উত্তরে বলেন, ‘এক বছর।’


পরে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘এক বছরেও আপনি পারেননি? কাজকর্ম করেন, না শুধু গল্পগুজব করেন কোর্টে?’


জবাবে সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমার আদালতে ৭ হাজারের অধিক মামলা রয়েছে।’ এরপর আপিল বিভাগের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চান। এরপর আপিল বিভাগ সময় বেঁধে দিয়ে মামলাটি নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন।


মামলার বিবরণে জানা যায়, তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের দাবি করা ১২ মাসের বিল অবৈধ ঘোষণা চেয়ে ম্যাক পেপারস লিমিটেড নিম্ন আদালতে মামলা করে। মামলায় ত্রুটিপূর্ণ মিটার ও বর্ধিত বিদ্যুৎ বিল করার অভিযোগ করা হয়। পাশাপাশি ৩ লাখ টাকা করে বিল দিতে অনুমতি দেওয়ার আরজি জানানো হয়। নিম্ন আদালত ২০০৭ সালের ১৫ মার্চ ওই আবেদন খারিজ করে দেন। এ আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করে প্রতিষ্ঠানটি। চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০০৮ সালের ৪ জুলাই হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ রায় দেন।


রায়ে প্রতি মাসে ১৭ লাখ টাকা করে বকেয়া ও সাড়ে ৭ লাখ টাকা করে নিয়মিত মাসিক বিল পরিশোধ করতে বলা হয়। এ ছাড়া রায়ে ২০০৮ সালের ৩০ নভেম্বর নিম্ন আদালতে ওই মামলা নিষ্পত্তি করতে বলা হয়।


হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ সিভিল আপিল দায়ের করেন। আজ ওই আপিলের শুনানির সময় মামলাটি নিষ্পত্তির দীর্ঘসূত্রিতা আপিল বিভাগের নজরে এলে আদালত তার ব্যাখ্যা দিতে নারায়ণগঞ্জের যুগ্ম জেলা জজকে তলব করেন।

 


Top