নয়াপল্টনে অবস্থান কর্মসূচি থেকে খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি | daily-sun.com

নয়াপল্টনে অবস্থান কর্মসূচি থেকে খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি

ডেইলি সান অনলাইন     ১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ১২:৩৭ টাprinter

নয়াপল্টনে অবস্থান কর্মসূচি থেকে খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি

 

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে বিএনপি ও ২০ দলের নেতাকর্মীরা। দুই দফায় স্থান পরিবর্তন করে মঙ্গলবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে শুরু হওয়া এ অবস্থান কর্মসূচি থেকে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে সোচ্চার হয়ে উঠেছেন তারা।


বেলা ১১টা ১০ মিনিটে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে আজকের অবস্থান কর্মসূচি শুরু হয়। এতে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সভাপতিত্ব করছেন।


খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো এই কর্মসূচি পালন করছে বিএনপি। এর আগে গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে তার। এই কর্মসূচিতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারাও অংশ নিয়েছেন। বেলা ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত পূর্বঘোষিত এক ঘণ্টার ওই মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে ছাড়া দেশে আর কোনো নির্বাচন হবে না, হতে দেয়া হবে না। তাকে ছাড়া আমরা কোনো নির্বাচনেই অংশগ্রহণ করব না। ’


আজকের অবস্থান কর্মসূচিতে দলের সিনিয়র নেতাদের মধ্যে অংশ নিয়েছেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেন, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, জয়নাল আবদীন ফারুক, হাবিবুর রহমান হাবিব, আবুল খায়ের ভূইয়া, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়া, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, শহীদুল ইসলাম বাবুল, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সহ-সম্পাদক কাদের গণি চৌধুরী, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নিরব, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দীন টুকু, সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন হাসান প্রমুখ।


এছাড়া ২০ দলীয় জোট নেতাদের মধ্যে এলডিপির শাহাদত হোসেন সেলিম, ন্যাপের গোলাম মোস্তফা ভূইয়া, এনপিপির মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, জাগপার খন্দকার লুৎফর রহমান, এনডিপির মঞ্জুর হোসেন ঈশা, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান নিরব, পিজিপির আব্দুল মতিন সাউদ প্রমুখ উপস্থিত রয়েছেন।


এদিকে এ অবস্থান কর্মসূচি জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে হওয়ার কথা থাকলেও তা পরিবর্তন করে রমনাস্থ ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের সামনের জায়গাকে নির্বাচন করা হয়। পরে তা পরিবর্তন করে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে নিয়ে আসা হয়। মঙ্গলবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানান, ডিএমপি কমিশনার তাদের আজকের কর্মসূচি পল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে করতে বলেছেন। সে মোতাবেক আজ বেলা ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি পালিত হবে।


বেলা ১১টায় কর্মসূচি শুরুর কথা থাকলেও সাড়ে ১০টা নাগাদ অবস্থান কর্মসূচিতে ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে কয়েক হাজার নেতাকর্মী যোগ দেন। তারা খালেদা জিয়াকে মা সম্বোধন করে নানা স্লোগান দিয়ে নয়াপল্টন এলাকা মুখরিত করে তুলছেন। এর মধ্যে তরুণ কর্মীদের মুখে মুখে ফিরছে একটি স্লোগান-‘বন্দি আছে আমার মা ঘরে ফিরে যাব না’।


এদিকে খালেদা জিয়ার সাজার প্রতিবাদে গত শুক্রবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বাদজুমা দেশব্যাপী বিক্ষোভ করে দলের নেতাকর্মীরা। এর পরদিন গত শনিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিন দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।  


এর অংশ হিসেবে শেষের দিন আগামীকাল বুধবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ঢাকা মহানগরসহ সারা দেশে জেলা, মহানগর, থানা ও উপজেলায় অনশন কর্মসূচি পালিত হবে।


উল্লেখ্য, দণ্ডবিধি ১০৯ ও ৪০৯ ধারায় খালেদা জিয়াসহ বাকিদের সাজা দেয়া হয়। মামলায় মোট আসামি ছয়জন। তাদের মধ্যে তিনজন পলাতক রয়েছেন। তারা হলেন- বিএনপির জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।


রায়ের পর পরই খালেদা জিয়াকে আদালতের পাশে নাজিমউদ্দিন রোডের ২২৮ বছরের পুরান ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। নির্জন এই কারাগারে একমাত্র বন্দি হিসেবে আছেন তিনি।


২০১৬ সালের ২৯ জুন থেকে ছয় হাজার ৪০০ বন্দিকে কেরানীগঞ্জের তেঘরিয়ার রাজেন্দ্রপুরের নতুন কারাগারে স্থানান্তর করে পুরান কারাগার বন্ধ ঘোষণা করা হয়। কিন্তু দুই বছর চার মাস ১০ দিন পর দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে এই পরিত্যক্ত কারাগারেই দিন পার করছেন খালেদা জিয়া।


এদিকে রায়ের পর পাঁচ দিন অতিবাহিত হলেও রায়ের সার্টিফাইড কপি না পাওয়ায় রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারেননি খালেদা জিয়া।


এরই মধ্যে গতকাল সোমবার (১২ ফেব্রুয়ারি) কুমিল্লায় নাশকতার ঘটনায় দায়ের তিন মামলায় তাকে ‘শ্যোন অ্যারেস্ট’ দেখানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইজি প্রিজন্স ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দীন।

 


Top