কয়েদির পোশাক পরতে হচ্ছে না খালেদাকে | daily-sun.com

কয়েদির পোশাক পরতে হচ্ছে না খালেদাকে

ডেইলি সান অনলাইন     ১২ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ১৬:০৭ টাprinter

কয়েদির পোশাক পরতে হচ্ছে না খালেদাকে

 

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে কয়েদির পোশাক পরতে হবে না বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন কারা অধিদফতরের ঢাকা বিভাগের ডিআইজি (প্রিজন্স) তৌহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া নিজের পছন্দমতো পোশাক পরতে পারবেন। কারণ ডিভিশন পাওয়া বন্দিদের জন্য কোনো নির্দিষ্ট ড্রেসকোড নেই।


তিনি আরও বলেন, জেলকোডে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট করে কোনো পোশাকের কথা বলাও হয়নি।


জানা গেছে, ডিভিশন পাওয়া বন্দিরা নিজের পছন্দমতো পোশাক পরতে পারবেন। তবে পোশাক পর্যাপ্ত ও ব্যবহারের যোগ্য হতে হবে এবং আপত্তিকর হবে না। জেল সুপারের অনুমতি নিয়ে ডিভিশন পাওয়া বন্দিরা নিজ খরচে অতিরিক্ত পোশাক সংগ্রহ করতে পারবেন। তবে এ সুযোগে কোনো রাজনৈতিক পোশাক সংগ্রহ করা যাবে না। কেউ সরকারি খরচে পোশাক চাইলে তাকে দ্বিতীয় শ্রেণির বন্দিদের জন্য নির্দিষ্ট পোশাক দেয়া হবে। বন্দিকে তাদের কাপড় ধোয়ার সাবান দেয়া হবে। তবে তিনি যদি নিজে পোশাক ধোয়ায় অনভ্যস্ত হন, তবে জেল সুপার তার কাপড় ধোয়ার ব্যবস্থা করবেন। এ জন্য বন্দিকে কোনো খরচ দিতে হবে না।


তবে সাধারণ কারাবন্দিদের ড্রেসকোড রয়েছে। জেলে পুরুষ বন্দিরা তিনটি পাজামা, দুটি লম্বা পাজামা, দুটি কোর্তা বা হাফ শার্ট, দুটি সুতির শার্ট, দুই জোড়া সুতির মোজা, একটি টুপি পান। আর নারীদের তিনটি শাড়ি, দুটি সুতির ব্লাউজ, দুটি সেমিজ এবং দুই জোড়া সুতির মোজা দেয়া হয়।


প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পুরান ঢাকার বকশীবাজারে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর এবং সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী সলিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমানকে ১০ বছর করে কারাদণ্ডাদেশ এবং দুই কোটি ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।


দণ্ডবিধি ১০৯ ও ৪০৯ ধারায় খালেদা জিয়াসহ বাকিদের সাজা দেয়া হয়। মামলায় মোট আসামি ছয়জন। তাদের মধ্যে তিনজন পলাতক রয়েছেন। তারা হলেন- বিএনপির জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।


রায়ের পর পরই খালেদা জিয়াকে আদালতের পাশে নাজিমউদ্দিন রোডের ২২৮ বছরের পুরান ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।  সেখানে কারাগারের ভেতরে প্রধান ফটকসংলগ্ন জেল সুপারের কক্ষে রাখা হয়েছে তাকে।


২০১৬ সালের ২৯ জুন থেকে ছয় হাজার ৪০০ বন্দিকে কেরানীগঞ্জের তেঘরিয়ার রাজেন্দ্রপুরের নতুন কারাগারে স্থানান্তর করে পুরান কারাগার বন্ধ ঘোষণা করা হয়। কিন্তু দুই বছর চার মাস ১০ দিন পর দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে এই পরিত্যক্ত কারাগারেই দিন পার করছেন খালেদা জিয়া।

 


Top