নৈশকোচে পেট্রলবোমা: কুমিল্লায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে খালেদা জিয়াকে | daily-sun.com

নৈশকোচে পেট্রলবোমা: কুমিল্লায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে খালেদা জিয়াকে

ডেইলি সান অনলাইন     ১২ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ১৫:২৯ টাprinter

নৈশকোচে পেট্রলবোমা: কুমিল্লায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে খালেদা জিয়াকে

 

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে যাত্রীবাহী নৈশকোচে পেট্রলবোমা নিক্ষেপে ৮ যাত্রী নিহতের ঘটনায় দায়ের মামলায় জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। সোমবার (১২ ফেব্রুয়ারি) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কুমিল্লা ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর ফিরোজ গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।


এর আগে গত ২ জানুয়ারি কুমিল্লার ৫ নং অতিরিক্ত জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জয়নব বেগম এ মামলায় খালেদা জিয়াসহ বিএনপি-জামায়াতের ৫৫ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।  


এর আগে গত বছরের ১৬ নভেম্বর জেলা ডিবির ইন্সপেক্টর ফিরোজ হোসেন ওই মামলার অধিকতর তদন্ত শেষে বেগম খালেদা জিয়া, বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী, মনিরুল হক চৌধুরী, জামায়াত নেতা ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহেরসহ ৬৯ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।  

 
উল্লেখ্য, বিএনপি-জামায়াতসহ ২০ দলীয় জোটের ডাকা হরতাল-অবরোধ চলাকালে ২০১৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ভোর রাতে কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী আইকন পরিবহনের একটি নৈশ কোচ (ঢাকা মেট্রো-ব-১৪-৪০৮০) চৌদ্দগ্রামের মিয়াবাজারসংলগ্ন জগমোহনপুর নামক স্থানে পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা বাসটি লক্ষ্য করে পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করে। এতে বাসটির ভিতরে-বাইরে দাউদাউ করে আগুন জ্বলে উঠে। এ সময় বাসে ঘুমিয়ে থাকা যাত্রীরা কোনো কিছু বুঝে উঠার আগে আগুনে পুড়ে ঘটনাস্থলে সাতজন ও হাসপাতালে নেয়ার পর একজনসহ মোট আটজন ঘুমন্ত যাত্রী মারা যায়।


এ ঘটনায় চৌদ্দগ্রাম থানার এসআই নুরুজ্জামান হাওলাদার বাদী হয়ে ৩ ফেব্রুয়ারি রাতে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ তৎসহ ১৯৭৪ সনের বিশেষ ক্ষমতা আইনে ১৫ (৩)/২৫-ডি ধারায় একটি ও ১৯০৮ সালের বিস্ফোরক আইনের ৩ ও ৪ ধারায় একটিসহ থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৭৭ জনকে আসামি করা হয়। মামলায় খালেদা জিয়াসহ বিএনপির শীর্ষস্থানীয় ৬ নেতাকে হুকুমের আসামি করা হয়। গত বছরের ৬ মার্চ খালেদা জিয়াসহ ৭৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চৌদ্দগ্রাম থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ ইব্রাহীম।


পরে আদালতের নির্দেশে আট যাত্রী হত্যা মামলাটি কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) স্থানান্তর করা হয়। গত বছরের ১৬ নভেম্বর আদালতে এ মামলার চার্জশিট দাখিল করা হয়। ৭৭ জন আসামির মধ্যে তিনজন মারা যান, ৫ জনকে চার্জশিটকে থেকে বাদ দেয়া হয়।


এদিকে গত বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পুরান ঢাকার বকশীবাজারে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর এবং সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী সলিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমানকে ১০ বছর করে কারাদণ্ডাদেশ এবং দুই কোটি ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।


দণ্ডবিধি ১০৯ ও ৪০৯ ধারায় খালেদা জিয়াসহ বাকিদের সাজা দেয়া হয়। মামলায় মোট আসামি ছয়জন। তাদের মধ্যে তিনজন পলাতক রয়েছেন। তারা হলেন- বিএনপির জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।


রায়ের পর পরই খালেদা জিয়াকে আদালতের পাশে নাজিমউদ্দিন রোডের ২২৮ বছরের পুরান ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।   সেখানে কারাগারের ভেতরে প্রধান ফটকসংলগ্ন জেল সুপারের কক্ষে রাখা হয়েছে তাকে।


২০১৬ সালের ২৯ জুন থেকে ছয় হাজার ৪০০ বন্দিকে কেরানীগঞ্জের তেঘরিয়ার রাজেন্দ্রপুরের নতুন কারাগারে স্থানান্তর করে পুরান কারাগার বন্ধ ঘোষণা করা হয়। কিন্তু দুই বছর চার মাস ১০ দিন পর দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে এই পরিত্যক্ত কারাগারেই দিন পার করছেন খালেদা জিয়া।

 


Top