খালেদাকে ছাড়া দেশে আর কোনো নির্বাচন হবে না: ফখরুল | daily-sun.com

খালেদাকে ছাড়া দেশে আর কোনো নির্বাচন হবে না: ফখরুল

ডেইলি সান অনলাইন     ১২ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ১২:৪৪ টাprinter

খালেদাকে ছাড়া দেশে আর কোনো নির্বাচন হবে না: ফখরুল

 

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে ছাড়া দেশে আর কোনো নির্বাচন হবে না বলে উল্লেখ করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে ছাড়া দেশে আর কোনো নির্বাচন হবে না, হতে দেয়া হবে না। তাকে ছাড়া আমরা কোনো নির্বাচনেই অংশগ্রহণ করব না।


সোমবার (১২ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বেলা ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত পূর্বঘোষিত এক ঘণ্টার মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে মির্জা ফখরুল একথা বলেন। 


তিনি বলেন, ‘আগামী জাতীয় নির্বাচনে আমরা দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেই অংশ নেব।’ 


নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আজকের এই জনস্রোত থেকে আমাদের একটিই দাবি, খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই, দিতে হবে। মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।


এরআগে বিএনপি চেয়াপরপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে সকাল থেকেই প্রেস ক্লাবের সামনে দলের নেতাকর্মীরা জড়ো হন। সুপ্রিম কোর্টের সামনের কদম ফোয়ারা থেকে নয়াপল্টন মোড় পর্যন্ত সড়কের দখল দিয়ে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন তারা।

 


মানববন্ধনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, আবদুস সালাম, জয়নাল আবদীন ফারুক, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


এছাড়া ২০-দলীয় জোটের শরিক দলের মধ্যে কল্যাণ পার্টির মহাসচিব সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীর প্রতীক, বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভুইয়াসহ জোটের নেতাদের মানববন্ধনে দেখা গেছে।


এদিকে মানববন্ধন কর্মসূচি ঘিরে রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে রাজধানীর নয়াপল্টনের বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে রাখা হয়েছে মহানগর পুলিশের এপিসি, জলকামান ও প্রিজনভ্যান।


এছাড়া প্রেসক্লাবের সামনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য অবস্থান নিয়েছে।


প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পুরান ঢাকার বকশীবাজারে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর এবং সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী সলিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমানকে ১০ বছর করে কারাদণ্ডাদেশ এবং দুই কোটি ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।


খালেদা জিয়ার সাজার প্রতিবাদে এরপর গত শুক্রবার বাদজুমা দেশব্যাপী বিক্ষোভ করে দলের নেতাকর্মীরা। এর পরদিন গত শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিন দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। গতকাল রোববার ২০ দলের জোটের সভাতেও কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়।


এই কর্মসূচি শুরু হচ্ছে আজ সোমবার থেকে। আজ ঢাকা মহানগরসহ সারা দেশে জেলা, মহানগর, থানা ও উপজেলায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হবে। মঙ্গলবার (১৩ রেফব্রুয়ারি) ঢাকা মহানগরসহ সারা দেশে জেলা, মহানগর, থানা ও উপজেলায় অবস্থান কর্মসূচি পালন করবে বিএনপি।


শেষের দিন আগামী বুধবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ঢাকা মহানগরসহ সারা দেশে জেলা, মহানগর, থানা ও উপজেলায় অনশন কর্মসূচি পালিত হবে।


উল্লেখ্য, দণ্ডবিধি ১০৯ ও ৪০৯ ধারায় খালেদা জিয়াসহ বাকিদের সাজা দেয়া হয়। মামলায় মোট আসামি ছয়জন। তাদের মধ্যে তিনজন পলাতক রয়েছেন। তারা হলেন- বিএনপির জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।


রায়ের পর পরই খালেদা জিয়াকে আদালতের পাশে নাজিমউদ্দিন রোডের ২২৮ বছরের পুরান ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।  সেখানে কারাগারের ভেতরে প্রধান ফটকসংলগ্ন জেল সুপারের কক্ষে রাখা হয়েছে তাকে।


২০১৬ সালের ২৯ জুন থেকে ছয় হাজার ৪০০ বন্দিকে কেরানীগঞ্জের তেঘরিয়ার রাজেন্দ্রপুরের নতুন কারাগারে স্থানান্তর করে পুরান কারাগার বন্ধ ঘোষণা করা হয়। কিন্তু দুই বছর চার মাস ১০ দিন পর দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে এই পরিত্যক্ত কারাগারেই দিন পার করছেন খালেদা জিয়া।

 


Top