ইন্টারনেটের বন্ধের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার বিটিআরসির | daily-sun.com

ইন্টারনেটের বন্ধের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার বিটিআরসির

ডেইলি সান অনলাইন     ১২ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ১১:৫৮ টাprinter

ইন্টারনেটের বন্ধের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার বিটিআরসির

 

এসএসসি পরীক্ষা চলাকালে প্রতিদিন আড়াই ঘণ্টা করে ইন্টারনেট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (বিটিআরসি)। সোমবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বিটিআরসি থেকে পাঠানো এক ইমেইলে এ তথ্য জানানো হয়।

বাংলাদেশে ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন আইএসপিএবিএ’র সভাপতি আমিনুল হাকিম গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।


তিনি বলেন, সকালে বিটিআরসি থেকে মেইলে জানানো হয়েছে ইন্টারনেটের গতি স্বাভাবিক রাখতে। ইন্টারনেট ধীর গতি রাখার যে সিদ্ধান্ত হয়েছিল সেটা প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ইন্টারনেটের স্বাভাবিক গতি ফিরে এসেছে। ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে (আইআইজি) থেকে ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হয়েছে।


চলমান এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার প্রথম দিন থেকে পরপর ছয়টি বিষয়েরই প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছে। সরকারের নানা পদক্ষেপের পরও প্রশ্ন ফাঁস ঠেকানো যায়নি। সর্বশেষ গতকাল রবিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ের পরীক্ষার আগে ইন্টারনেটের গতি কমানো হয়। কিন্তু, যথারীতি আগাম ঘোষণা দিয়ে আইসিটির প্রশ্নপত্রও ফাঁস হয়।


এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে সোমবার থেকে ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পরীক্ষার দিন আড়াই ঘণ্টা করে ইন্টারনেট সাময়িকভাবে বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পরীক্ষা শুরুর আধা ঘণ্টা পর পর্যন্ত (সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত) ইন্টারনেট ধীর গতিতে চলবে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি থেকে দেশের সব আইআইজিকে (ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে) এই নির্দেশ পাঠানো হয়।  


তবে রবিবার রাতেই এ প্রক্রিয়ার পরীক্ষামূলক ব্যবহার চালানো হয়। রাত ১০টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ইন্টারনেট সেবার গতি ধীর ছিল। আইএসপি ও মোবাইল অপারেটরগুলোতে ২৫ কেবিপিএস (কিলোবিট পার সেকেন্ড) ব্যান্ডউইথ সরবরাহর কারণে কার্যত বন্ধই ছিল ইন্টারনেট। এসময় কোনও ওয়েবসাইটে ঢোকা যায়নি। কিছু সার্চ দিলেও ওয়েবপেজগুলো কেবল ‘লোডিং’ দেখাচ্ছিল।


এদিকে পূর্ব ঘোষণা ছাড়া এমন সিদ্ধান্তে ইন্টারনেট নির্ভর প্রতিষ্ঠান, সেবা সার্ভিস, অনলাইন গণমাধ্যম ও ব্যবহারকারীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। বিমান চলাচল বিঘ্নিত হয়। অনেকেই এটিএম মেশিন থেকে টাকা পর্যন্ত উঠাতে পারেননি। বলা চলে, আকস্মিকভাবে ইন্টারনেট বিপর্যয়ে পড়ে গোটা দেশ।


বিটিআরসি’র সচিব সারোয়ার আলম বলেন, যা হয়েছে, তাতে লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশি হয়েছে। বিটিআরসিকে একটি অংশ চাপ দিয়েছে দ্রুত ইন্টারনেট বন্ধ করতে। কেন দেরি হচ্ছিল, তা নিয়েও জবাবদিহিতা করতে হচ্ছিল। তাই বন্ধ রাখা হয়েছিল।


তিনি আরও বলেন, সরকারের উচ্চমহল দুর্ভোগ টের পাওয়ার পরপরই এসএসসি পরীক্ষার দিনগুলোতে ইন্টারনেট বন্ধের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে করেছে।


বিটিআরসির সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশে বর্তমানে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ৮ কোটির বেশি। এর মধ্যে সাড়ে ৭ কোটি মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারী, বাকি ৫০ লাখ ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহার করেন।


এর আগে দেশে ধারাবাহিক জঙ্গি হামলা ও হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপটে জঙ্গিদের যোগাযোগের পথ বন্ধ করার কারণ দেখিয়ে ২০১৫ সালের ১৮ নভেম্বর দেড় ঘণ্টা ইন্টারনেট বন্ধ রাখা হয় বাংলাদেশে। পরে ইন্টারনেট চালু হলেও ২২ দিন বাংলাদেশে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগের বেশ কয়েকটি অ্যাপ ব্যবহারের সুযোগ বন্ধ রাখে সরকার।

 


Top