আফগান সীমান্তে বেড়া নির্মাণ: যুক্তরাষ্ট্রের কাছে খরচ চাইছে পাকিস্তান | daily-sun.com

আফগান সীমান্তে বেড়া নির্মাণ: যুক্তরাষ্ট্রের কাছে খরচ চাইছে পাকিস্তান

ডেইলি সান অনলাইন     ১২ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ১১:১৪ টাprinter

আফগান সীমান্তে বেড়া নির্মাণ: যুক্তরাষ্ট্রের কাছে খরচ চাইছে পাকিস্তান

 

সন্ত্রাসে সহায়তা দানের অভিযোগ থেকে মুক্তি পেতে বিতর্কিত আফগান সীমান্তে দ্রুত বেড়া নির্মাণের কাজ শেষ করতে চাইছে পাকিস্তান। আর এ কাজে দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক সহায়তা কামনা করেছে।


আফগানিস্তানের সঙ্গে পাকিস্তানে ২,৩৪৩ কি.মি. দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। এর বেশিরভাগ পার্বত্য এলাকা। আর্থিক সংকটের কারণে পাকিস্তান এই সীমান্তের ১০ শতাংশ অংশেও এখনো বেড়া নির্মাণের কাজ শেষ করা যায় পারেনি। অবশ্য দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী খাজা আসিফ জানিয়েছেন যে ২০১৯ সালের মধ্যে বেড়া নির্মাণের কাজ শেষ করা হবে।


সম্প্রতি ইসলামাবাদে এক সাক্ষাতকারে আসিফ বলেন, ‘এই বেড়া নির্মাণের খরচ বেশি নয়। কিন্তু, তাদের (আমেরিকানদের) জন্য এই যুদ্ধের খরচ অনেক বেশি।’


পাকিস্তান তালেবান ও হক্কানি নেটওয়ার্কের মতো সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোকে আশ্রয় দিচ্ছে বলে যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ করে। এই অভিযোগে গত মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটিতে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সাহয্য স্থগিত করেন। ট্রাম্প অভিযোগ করেন যে তার দেশ দক্ষিণ এশিয়ার পরমাণুশক্তিধর রাষ্ট্রটিকে অনেক সাহায্য দিলেও এর কাছ থেকে ‘মিথ্যা ও প্রতারণা’ ছাড়া আর কিছু পায়নি।


আসিফ বলেন, এই সীমান্ত বেড়া দুই দেশের মধ্যে সন্ত্রাসীদের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করবে। তাছাড়া পাকিস্তান প্রায় ২০ লাখ আফগান উস্তাস্তুকে ফেরত পাঠাতে চায় কারণ এটা শান্তির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি সীমান্ত বেড়া নির্মাণ ও আফগান উদ্বাস্তুদের ফেরত পাঠাতে সতায়তা প্রদানের আহ্বান জানান।


প্রতিদিন ৭০,০০০ মানুষ সীমান্তের এপার-ওপার যাচ্ছে উল্লেখ করে আসিফ বলেন এটা সবার জন্যই খোলা। ‘এটা সন্ত্রাসবাদের জন্য সহায়ক হচ্ছে।’


ট্রাম্পের অভিযোগের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে আসিফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক চায় পাকিস্তান।


তিনি জানান যে উভয় পক্ষই টানাপড়েন কমিয়ে আনার চেষ্টা করছে।


পাকিস্তান ও আফগানিস্তান পরস্পরের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসে মদত দান এবং সন্ত্রাসীদের আশ্রয় প্রদানের অভিযোগ আনছে। এতে এক বছরে দেশ দুটির সম্পর্কে গুরুতর অবনতি ঘটে। আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি অভিযোগ করেন যে পাকিস্তান তার দেশের বিরুদ্ধে একটি ‘অঘোষিত আগ্রাসন’ চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি ডুরান্ড লাইনে বেড়া নির্মাণ নিয়ে সশস্ত্র সংঘাতেরও হুমকি দেন। ব্রিটিশ শাসনামলে এই সীমারেখা টানা হয়। ডুরান্ড লাইন ওই অঞ্চলের পশতুন জাতিগোষ্ঠীকে দুই দেশে বিভক্ত করেছে।


আসিফ বলেন, গত বছর প্রায় ৬ লাখ আফগান উদ্বাস্তু নিজ দেশে ফিরে গিয়েছিলো। এদের বেশিরভাগ আবার ফিরে এসেছে। তিনি বলেন, আফগান উদ্বাস্তু শিবিরগুলো সন্ত্রাসের উৎপাদন ক্ষেত্রে। এদের প্রত্যাবাসনের জন্য আফগানিস্তানকে সহায়তা করা প্রয়োজন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের।


তবে, পাকিস্তান জোর করে আফগান উদ্বাস্তুদের ফেরত পাঠাচ্ছে বলে বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ করা হয়। জাতিসংঘ বলছে এটা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী।


ইসলামাবাদে জাতিসংঘ উদ্বাস্তু সংস্থার মুখপাত্র কায়সার খান আফ্রিদি বলেন, সিরিয়া ও ইরাকের মতো জায়গায় তহবিল স্থানান্তারের কারণে আফগান উদ্বাস্তুদের জন্য তহবিলে টান পড়েছে।


পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে ২৩৫টি ক্রসিং পয়েন্ট রয়েছে। এর অনেকগুলো দিয়েই সন্ত্রাসী ও মাদক পাচারকারীরা অবাধে ব্যবহার করে। এসব ক্রসিংয়ের ১৮টি দিয়ে যানবাহন চলাচল করতে পারে।


- সূত্র: সাউথ এশিয়ান মনিটর ডট কম

 


Top