বিএনপির কর্মসূচিতে জোটের একাত্মতা পোষণ | daily-sun.com

বিএনপির কর্মসূচিতে জোটের একাত্মতা পোষণ

ডেইলি সান অনলাইন     ১২ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ১০:৫২ টাprinter

বিএনপির কর্মসূচিতে জোটের একাত্মতা পোষণ

 

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিএনপির বর্তমান কর্মসূচিতে একাত্মতা পোষণ করেছে ২০-দলীয় জোট। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জোট।

রবিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ২০-দলীয় জোটের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

 
তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে সাজা দেয়ার প্রতিবাদে শুধু বিএনপি নয়, ২০-দলীয় জোটের পক্ষ থেকে কর্মসূচি দেয়া হবে। এছাড়া বিএনপির দেয়া কর্মসূচিগুলোতে শুধু একাত্মতা ঘোষণাই নয়, আগামীতে সক্রিয়ভাবে ২০ দল অংশগ্রহণ করবে।


মির্জা ফখরুল বলেন, সম্পূর্ণ মিথ্যা, সাজানো মামলায় জাল একটি নথির উপর ভিত্তি করে জোটনেত্রী খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সাজা দেয়া হয়েছে। বৈঠকে এর তীব্র নিন্দা, ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে এই মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে তার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করা হয়েছে।


বৈঠকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বক্তব্য রেখেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তার আহ্বান যেটা এসেছে- জনগণের জোট তৈরি করার জন্য একটা প্লাটফর্ম তৈরি করতে হবে। খালেদা জিয়া শেষ সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় ঐক্যের কথা বলেছেন। জোটের নেতারা তার ওই বক্তব্য সমর্থন করেছেন।

জোটের সবক’টি দলকে কাজ করার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। ’


মির্জা ফখরুল বলেন, বৈঠকে ২০-দলীয় জোট এই স্বৈরাচারী সরকারের গণতন্ত্র বিরোধী কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা করেছে। আসন্ন নির্বাচন যাতে সব দলের অংশগ্রহণে হতে পারে, এজন্য সহায়ক সরকারের অধীনে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানানো হয়েছে।


জোটনেত্রী কারাগারে, সে ক্ষেত্রে জোটের প্রধান কে- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বেগম জিয়া কারাগারে থাকুন বা যেখানেই থাকুন তিনিই জোটের নেত্রী, তিনিই ২০ দলের নেত্রী। এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নাই। সমন্বয়ক হিসেবে আমি কাজ করেছিলাম, এখনো করছি। ’


বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে বৈঠকে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।


জোট নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য আবদুল হালিম, জাতীয় পার্টির মোস্তফা জামাল হায়দার, বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, জাগপা সভাপতি অধ্যাপিকা রেহানা প্রধান, ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এলডিপির রেদোয়ান আহমেদ, পিপলস লীগের চেয়ারম্যান গরীবে নেওয়াজ, এনপিপির ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, ইসলামী ঐক্যেজোটের (একাংশ) আব্দুর রকিব, ন্যাপ ভাসানীর আজহারুল ইসলাম, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মুফতি মহিউদ্দিন, ডেমোক্রেটিক লীগের সাইফুদ্দিন মুনি, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের এইচএম কারুজ্জামান, এনডিপির খন্দকার গোলাম মূর্তজা, সাম্যবাদী দলের সাঈদ আহমেদ।

 

প্রসঙ্গত, গত ৮ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) রাজধানীর পুরান ঢাকার বকশীবাজারের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার পাঁচ নম্বর বিশেষ আদালতের বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন।


এছাড়াও একই মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসনের ছেলে তারেক রহমান, সাবেক এমপি কাজী সলিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমানকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়। আদালত বলেছেন, বয়স বিবেচনায় কম সাজা দেয়া হয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম জিয়াকে।


একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা করে জরিমানা করেন আদালত।


দণ্ডবিধি ১০৯ ও ৪০৯ ধারায় খালেদা জিয়াসহ বাকিদের সাজা দেয়া হয়। মামলায় মোট আসামি ছয়জন। তাদের মধ্যে তিনজন পলাতক রয়েছেন। তারা হলেন- বিএনপির জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।


রায়ের পর পরই খালেদা জিয়াকে আদালতের পাশে নাজিমউদ্দিন রোডের ২২৮ বছরের পুরান ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।   সেখানে কারাগারের ভেতরে প্রধান ফটকসংলগ্ন জেল সুপারের কক্ষে রাখা হয়েছে তাকে।


২০১৬ সালের ২৯ জুন থেকে ছয় হাজার ৪০০ বন্দিকে কেরানীগঞ্জের তেঘরিয়ার রাজেন্দ্রপুরের নতুন কারাগারে স্থানান্তর করে পুরান কারাগার বন্ধ ঘোষণা করা হয়। কিন্তু দুই বছর চার মাস ১০ দিন পর দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে এই পরিত্যক্ত কারাগারেই দিন পার করছেন খালেদা জিয়া।

 

 


Top