পাকিস্তানের মানবাধিকার কর্মী আসমা জাহাঙ্গিরের ইন্তেকাল | daily-sun.com

পাকিস্তানের মানবাধিকার কর্মী আসমা জাহাঙ্গিরের ইন্তেকাল

ডেইলি সান অনলাইন     ১১ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ১৭:১৫ টাprinter

পাকিস্তানের মানবাধিকার কর্মী আসমা জাহাঙ্গিরের ইন্তেকাল

 

পাকিস্তানের বিখ্যাত আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী আসমা জাহাঙ্গির আর নেই। রবিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে লাহোরের একটি হাসপাতালে তিনি মারা গেছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের ডন নিউজ।

 


পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে খবরে বলা হয়, ৬৬ বছর বয়সী এই মানবাধিকারকর্মী দীর্ঘদিন ধরেই তিনি ক্যান্সারে ভুগছিলেন। বেশ কয়েক বছর ধরেই চিকিৎসাধীন ছিলেন। হঠাৎ করেই বেশি অসুস্থ বোধ করার পর শনিবার রাতে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। এক পর্যায়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।


 আসমা জাহাঙ্গির ১৯৫২ সালের জানুয়ারিতে লাহোরে জন্মগ্রহণ করেন। কিনেয়ার্ড কলেজ থেকে স্নাতক পাশ করার পর পাঞ্জাব ইউনিভার্সিটি থেকে এলএলবি সম্পন্ন করেন তিনি। ব্যাক্তিগত জীবনে তিনি এক ছেলে ও দুই মেয়ের জননী।  

 
নিজেদের জীবনকে হুমকির মধ্যে ঠেলে দিয়ে একাত্তরে নির্যাতিত বাঙালির পক্ষে যেসব পাকিস্তানি দাঁড়িয়েছিলেন, তাদের অন্যতম ছিলেন আসমার বাবা মালিক গোলাম জিলানী। ১৯৭১ সালে তিনি ছিলেন পশ্চিম পাকিস্তান আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি।

২৫ মার্চ বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতারের পর তার মুক্তি দাবিতে জেনারেল ইয়াহিয়াকে খোলা চিঠি লেখেন তিনি। এজন্য কারাবরণ করতে হয় তাকে।

 


২০১৩ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে বাংলাদেশের পক্ষে দাঁড়ানো ৬৯ জন বিদেশি বন্ধুকে সম্মাননা দেওয়া হয়। তার মধ্যে যে ১৩ জন পাকিস্তানি ছিলেন, তাদের একজন মালিক গোলাম জিলানী। ওই সময় বাবার সম্মাননা সনদ নেন তার মেয়ে আসমা জাহাঙ্গীর, মানবাধিকার আন্দোলনের এই নেত্রী বাংলাদেশেও পরিচিত মুখ।


বিশ্বব্যাংক ও এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের হয়ে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের বিচারিক সংস্কারের পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছেন আসমা জাহাঙ্গীর। জাতিসংঘের বিশেষ দূত হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি।  


১৯৮০ সালে আসমা জাহাঙ্গির পাকিস্তানের হাইকোর্ট ও ১৯৮২ সালে সুপ্রিম কোর্টে যোগদান করেন। পরে তিনি দেশটির সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের প্রথম নারী সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।


পাকিস্তানে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য পাকিস্তানের স্বৈরশাসক জিয়াউল হকের বিরুদ্ধে আন্দোলনে যোগ দেয়ায় ১৯৮৩ সালে তাকে কারাগারে বন্দি করা হয়। ২০০৭ সালে 'লইয়ারস মুভমেন্ট' বা আইনজীবীদের আন্দোলনে সক্রিয় থাকার কারনে জাহাঙ্গিরকে গৃহবন্দী করেন দেশটির তৎকালীন শাসক পারভেজ মোশাররফ।

 


আসমা জাহাঙ্গির হিউম্যান রাইটস কমিশন অফ পাকিস্তান এবং উইমেন'স অ্যাকশন ফোরামের সহপ্রতিষ্ঠাতা। বহু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরষ্কারে ভূষিত হয়েছেন এই মানবাধিকারকর্মী।


মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় বিশেষ অবদান রাখার জন্য ইউনেস্কো/বিলবাও প্রাইজ দেয়া হয় তাকে। এছাড়াও ফ্রান্স তাকে অফিসার অফ দ্য লিজিওন অফ অনারে ভূষিত করে।


মানবাধিকারকর্মী আসমার মরদেহ লাহোরের একটি প্রাইভেট হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। তবে তার শেষকৃত্যের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি। বিদেশ থেকে তার সন্তানেরা দেশে ফিরে আসলে তাকে সমাহিত করা হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে জানানো হয়েছে।

 


Top