জেলকোড অনুযায়ী যেসব সুবিধা পাবেন খালেদা | daily-sun.com

জেলকোড অনুযায়ী যেসব সুবিধা পাবেন খালেদা

ডেইলি সান অনলাইন     ১১ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ১৪:১১ টাprinter

জেলকোড অনুযায়ী যেসব সুবিধা পাবেন খালেদা

 

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া জেলকোড অনুযায়ী কারাগারে ডিভিশন-১ বন্দির মর্যাদা পাচ্ছেন। এক্ষেত্রে তিনি পছন্দের খাবার, বিছানা, দৈনিক পত্রিকা, চেয়ার-টেবিল, ড্রেসিং টেবিল, পছন্দের চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসার সুবিধা পাবেন।

এ ছাড়া প্রথম শ্রেণির একজন বন্দি হিসেবে ১৫ দিনের পরিবর্তে ৭ দিনে একবার চিঠি লেখার সুযোগ পাবেন বলে কারা অধিদফতর জানিয়েছে।   


রবিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) কারা অধিদফতর আরও জানায়, আদালতের নির্দেশ পাওয়ায় খালেদা জিয়াকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী, সাবেক রাষ্ট্রপতির স্ত্রী ও জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব রাজনৈতিক দলের প্রধান হিসেবে ডিভিশন দেয়া হবে। জেলকোডের অধ্যায় ২৭, রুল ৯১০(১) অনুযায়ী খালেদা জিয়া ডিভিশন-১ বন্দির মর্যাদা পাবেন।  


এর আগে রবিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বেলা সোয়া ১১টার দিকে খালেদা জিয়ার আইনজীবী ব্যারিস্টার জাকির হোসেন ভুঁইয়া ও অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলামের এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পুরান ঢাকার বকশীবাজারে স্থাপিত বিশেষ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে জেলকোড অনুযায়ী কারাগারে ডিভিশন দেয়ার নির্দেশ দেন।  


এদিকে কারাসূত্র আরও জানায়, খালেদা জিয়া একজন ডিভিশনপ্রাপ্ত বন্দি হিসেবে সকালে ৮৭ গ্রাম আটার রুটি ও ৮৭ গ্রাম ডাল-সবজি পান। দুপুর ও রাতে ৪৯৫ গ্রাম সরু চালের ভাত, ২১৮ গ্রাম মাছ-মাংস এবং সারা দিনে প্রায় ১৪৫ গ্রাম ডাল পাবেন।


এ ছাড়া তেল, লবণ, মরিচসহ সব মিলিয়ে তিনবেলা খাবার বাবদ একজন ডিভিশনপ্রাপ্ত বন্দির জন্য সরকারিভাবে বরাদ্দ হয় ১১৫ টাকা।


গত ৮ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) রাজধানীর পুরান ঢাকার বকশীবাজারের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার পাঁচ নম্বর বিশেষ আদালতের বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন।


এছাড়াও একই মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসনের ছেলে তারেক রহমান, সাবেক এমপি কাজী সলিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমানকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়।

আদালত বলেছেন, বয়স বিবেচনায় কম সাজা দেয়া হয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম জিয়াকে।


একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা করে জরিমানা করেন আদালত।


দণ্ডবিধি ১০৯ ও ৪০৯ ধারায় খালেদা জিয়াসহ বাকিদের সাজা দেয়া হয়। মামলায় মোট আসামি ছয়জন। তাদের মধ্যে তিনজন পলাতক রয়েছেন। তারা হলেন- বিএনপির জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।


রায়ের পর পরই খালেদা জিয়াকে আদালতের পাশে নাজিমউদ্দিন রোডের ২২৮ বছরের পুরান ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।   সেখানে কারাগারের ভেতরে প্রধান ফটকসংলগ্ন জেল সুপারের কক্ষে রাখা হয়েছে তাকে।


২০১৬ সালের ২৯ জুন থেকে ছয় হাজার ৪০০ বন্দিকে কেরানীগঞ্জের তেঘরিয়ার রাজেন্দ্রপুরের নতুন কারাগারে স্থানান্তর করে পুরান কারাগার বন্ধ ঘোষণা করা হয়। কিন্তু দুই বছর চার মাস ১০ দিন পর দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে এই পরিত্যক্ত কারাগারেই দিন পার করছেন খালেদা জিয়া।


জানাগেছে, কারাগারে খালেদা জিয়ার ব্যবহারের জন্য একটি পুরনো ফ্রিজ দেয়া হয়েছে। পাশের রুমে গ্যাসের চুলায় রান্নার ব্যবস্থা করা হয়েছে।


এদিকে কারাগারে বেগম জিয়া সবরকম সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন- সরকারের তরফ থেকে এমন দাবি করা হলেও বিএনপি নেতাদের অভিযোগ খালেদা জিয়াকে কারাগারে কোনো ডিভিশন দেয়া হয়নি। তাকে সাধারণ কয়েদি হিসেবে রাখা হয়েছে।


শনিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে বেরিয়ে এসে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, খালেদা জিয়া সাবেক সংসদ সদস্য, সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং একটি দলের প্রধান। কিন্তু কোনো ডিভিশন দেয়া হয়নি। তাকে একজন সাধারণ কয়েদি হিসেবে রাখা হয়েছে। নির্জন কারাবাসে রাখা হয়েছে নেত্রীকে। সেখানে অন্য কোনো কারাবন্দি নেই। এটি অন্যায়, আমরা এ বিষয়ে আদালতে যাব।


খালেদা জিয়ার ডিভিশন পাওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জেলকোড অনুযায়ী তিনি ডিভিশন পান। তিনি যেহেতু তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও সিনিয়র নাগরিক, তাই তার এ সুবিধা পাওয়া উচিত।


মওদুদ আহমদ আরও বলেন, ‘গণমাধ্যম থেকে জানতে পেরেছি, সরকার বলেছে- ম্যাডামকে তার গৃহপরিচারিকা ও ডিভিশন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমরা আজ দেখে এসেছি- এসব মিথ্যা। তাকে একটি নির্জন ভাঙা বাড়িতে রাখা হয়েছে। উনার খাবারের ক্ষেত্রেও কোনো পরিবর্তন নেই। সাধারণ বন্দিরা যে খাবার পান, তাকেও সেই খাবার দেওয়া হচ্ছে। ম্যাডাম এসব খাবারে অভ্যস্ত নয়। ’

 


Top