শুক্রবার বাদ জুমা বিক্ষোভ, শনিবার দেশব্যাপী প্রতিবাদ | daily-sun.com

শুক্রবার বাদ জুমা বিক্ষোভ, শনিবার দেশব্যাপী প্রতিবাদ

ডেইলি সান অনলাইন     ৮ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ১৬:৩৭ টাprinter

শুক্রবার বাদ জুমা বিক্ষোভ, শনিবার দেশব্যাপী প্রতিবাদ

 

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাজার প্রতিবাদে  সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি দিয়েছে দলটি। বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) রায়ের পর নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

 


তিনি জানান, শুক্রবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ঢাকাসহ সারাদেশে বাদ জুমা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে। এছাড়া শনিবার দেশব্যাপী প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করবে বিএনপি। এর পরবর্তী কর্মসূচি পরে জানানো হবে।


মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বলেছেন- গণতন্ত্রের জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়। সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করতে হবে।


এ সময় মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন এবং নির্বাচন থেকে দূরে রাখতেই এই সাজা দেয়া হয়েছে।


এর আগে বৃহস্পতিবার পুরানো ঢাকার বকশীবাজারে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত।

এছাড়া তারেক রহমানসহ বাকি আসামিদের ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে খালেদা জিয়া ছাড়া বাকি আসামিদের ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।


রায় ঘোষণার সময় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং মামলার অপর আসামি মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ আদালতে উপস্থিত ছিলেন।


এর আগে রায় শুনতে বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে গুলশানের বাসভবন ‘ফিরোজা’ থেকে রওনা হন খালেদা জিয়া। মগবাজার এলাকায় পৌঁছলে হঠাৎ করেই হাজারো নেতাকর্মী গাড়িবহরের দখল নেয়। এরপর সামনে-পেছনে অবস্থান নিয়ে তারা খালেদার গাড়িকে এগিয়ে নিয়ে যান। পথে পুলিশ এবং ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিএনপি কর্মীদের সংঘর্ষ হয়।


এরপর বেলা একটা ৫২ মিনিটের দিকে খালেদা জিয়া আদালত কক্ষে প্রবেশ করেন। তার পরনে ছিল অফ-হোয়াইট কালারের শাড়ি।


বেলা দুইটা ১১ মিনিটে আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়। দুইটা ১৫ মিনিটে বিচারক ড. আখতারুজ্জামান এজলাসে প্রবেশ করেন। ৬৩২ পৃষ্টা রায়ের সংক্ষিপ্তসার পাঠ করেন বিচারক।


রায় ঘোষণা শেষেই ঢাকা মেট্রো ঘ-১১৭০৪৪ সাদা রঙের গাড়িতে নাজিম উদ্দিন রোডের কেন্দ্রীয় কারাগারে তাকে নেয়া হয়। সেখানে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে কারাগারের ভেতরে ডে-কেয়ার সেন্টারে রাখা হবে বলে জানিয়েছেন কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইফতেখার উদ্দিন।


এ মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন ৩২ জন। ১২০ কার্যদিবসের বিচারকার্য শেষ হয়েছে ২৩৬ দিনে। আত্মপক্ষ সমর্থনে গেছে ২৮ দিন। যুক্তি উপস্থাপন চলেছে ১৬ দিন। আর আসামি পক্ষ মামলাটির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে উচ্চ আদালতে গিয়েছেন ৩৫ বার।


এ মামলায় অন্য আসামিদের মধ্যে কারাগারে রয়েছেন মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ।


এছাড়া সাবেক মুখ্য সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান মামলার শুরু থেকেই পলাতক।

 

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় মামলা করে দুদক।


২০১০ সালের ৫ আগস্ট খালেদা জিয়া ও তার ছেলে তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপপরিচালক হারুন আর রশিদ। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ খালেদা জিয়াসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।


মামলায় খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন—মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।

 

আরও পড়ুন:

 

তারেকসহ ৫ আসামির ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড

 

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদার ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড

 

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ৮ ফেব্রুয়ারি

 

মামলাটি আইনানুগভাবে হয়নি: যুক্তিতর্কে মওদুদ আহমদ​

 

এ মামলা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার চরম দৃষ্টান্ত: যুক্তিতর্কে মওদুদ আহমদ​

 

বেগম জিয়া এই মমলায় ফুল খালাস পাবার হকদার: যুক্তিতর্কে জমির উদ্দিন সরকার​

 

তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন খালেদার​

 

খালেদার মামলায় মূল নথি ছিল না, অতিরিক্ত একটি নথি সৃষ্টি করা হয়েছে: যুক্তিতর্কে আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী​

 

জাল দলিল তৈরি করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা: যুক্তিতর্কে আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী​

 

বিচারকের প্রতি ‘ওহী’ নাজিল না হলে খালাস পাবেন খালেদা: খন্দকার মাহবুব হোসেন


খালেদার মামলাটি রাজনৈতিক গন্ধ ও কালিমা যুক্ত: যুক্তিতর্কে আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন


৩২ সাক্ষীর কেউ বলেননি খালেদা জিয়া ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন: যুক্তিতর্কে আইনজীবী রেজ্জাক খান


এটা চকবাজারের কোনো পাইকারি দোকান নয়: যুক্তিতর্কে খালেদার আইনজীবী: রেজ্জাক খান


অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদার সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি রাষ্ট্রপক্ষের

 

আমার বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন মিথ্যা-বানোয়াট: খালেদা জিয়া

 

আমার ৩৬ মামলার কোনোটিরই আইনগত ভিত্তি নেই: খালেদা জিয়া​

 

অবিচার হয় বলেই শেখ মুজিব-ভাসানী-সোহরাওয়ার্দীকে জেলে যেতে হয়েছিল: খালেদা জিয়া​

 

কত মামলা ঝুলে আছে, আমার মামলা এগোচ্ছে রকেটগতিতে: খালেদা জিয়া


আদালতে অসমাপ্ত আত্মপক্ষ সমর্থনে অশ্রুসিক্ত খালেদা


বকশীবাজার কোর্ট ফখরুদ্দিন-মঈনুদ্দীনের শাসনামলের কোর্টের মতো: খালেদা জিয়া

 

 


Top