ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় শুনতে আদালতে খালেদা জিয়া | daily-sun.com

ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় শুনতে আদালতে খালেদা জিয়া

ডেইলি সান অনলাইন     ৮ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ১৪:১২ টাprinter

ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় শুনতে আদালতে খালেদা জিয়া

 

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় শুনতে আদালতে পৌঁছেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর পৌনে দুইটার দিকে তিনি আদালতে পৌঁছান।

এরপর বেলা একটা ৫২ মিনিটের দিকে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী আদালত কক্ষে প্রবেশ করেন। 


এর আগে বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে গুলশানের বাসভবন ‘ফিরোজা’ থেকে আদালতের উদ্দেশে রওনা হন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। রাস্তায় নেতাকর্মীদের ভিড় ঠেলে তিনি আদালতে পৌঁছান।


এর আগে খালেদা জিয়াকে বহন করা গাড়ি রাজধানীর মগবাজার এলাকায় পৌঁছালে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল ছোড়াছুড়ি ও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে ক্ষমতাসীন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এই ঘটনায় কেউ আহত হয়েছেন কি তাৎক্ষণিকভাবে সে সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি।


প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে রায় শুনতে আদালতের উদ্দেশে রওনা দেন আসামি খালেদা জিয়া। তার গাড়ি মগবাজার এলাকায় পৌঁছায় সোয়া ১২টার দিকে। এ সময় হলি ফ্যামেলি হাসপাতালসহ আশপাশের গলিতে সকাল থেকেই অবস্থান নেন ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা। খালেদা জিয়ার গাড়িবহর থেকে তাদের দেখামাত্র ধাওয়া দেয় নেতাকর্মীরা। এ সময় তারাও পাল্টা প্রতিরোধের চেষ্টা করলে সংঘর্ষ হয়।


এক পর্যায়ে উভয় দলের নেতাকর্মীরা পরস্পরের দিকে ইট-পাটকেল ছুড়ে মারে। তবে বিএনপি কর্মীদের ধাওয়ায় ক্ষমতাসীন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সড়কের মোড় ছেড়ে পালিয়ে যায়। পরে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরের সঙ্গে বিএনপির হাজারো নেতাকর্মীরা চলে যান।


প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার পুরান ঢাকার বকশীবাজারে স্থাপিত ৫ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান এ মামলায় রায় ঘোষণা করবেন। গত ২৫ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) পুরান ঢাকার বকশীবাজার আলিয়া মাদ্রাসায় স্থাপিত বিশেষ আদালত-৫ এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামান জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি ওই মামলার রায় ঘোষণার এ দিন ধার্য করেন। 


ইতিমধ্যে সকাল ১০টা ২০ মিনিটে আদালতে পৌঁছেছেন বিচারক ড. আখতারুজ্জামান। তিনি নিজের খাসকামরায় অবস্থান করছেন। খালেদা জিয়া আদালতে পৌঁছলে তার উপস্থিতিতে রায় ঘোষণা করবেন এ বিচারক।


এর আগে সকাল সোয়া আটটার দিকে মামলার অপর আসামি মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদকে আদালতে আনা হয়েছে।


এরই মধ্যে খালেদা জিয়ার আইনজীবী সুপ্রিমকোর্ট বারের সাবেক সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন, বর্তমান সভাপতি জয়নুল আবেদীন, মীর নাসির উদ্দীন, নিতাই চন্দ্র রায়, সানাউল্লাহ মিয়া, আজিজুর রহমান খান বাচ্চু, আমিনুল ইসলাম ও জয়নুল আবেদীন মেজবাহ আদালতে উপস্থিত হয়েছেন।


এ ছাড়া রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাডভোকেট খন্দকার আব্দুল মান্নান, মীর আবদুস সালাম প্রমুখ আদালতে উপস্থিত হয়েছেন।


এদিকে রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকে আদালত ও এর আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আদালতে প্রবেশের পথে স্ক্যানার বসানো হয়েছে। সবাইকে তল্লাশির পর ভেতরে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে। দুই দফায় নাম-প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর লিখে সেখানে পৌঁছেছেন সাংবাদিকরাও।


এছাড়া রায় ঘোষণার সময় মামলা সংশ্লিষ্ট উকিল ছাড়া অন্য কাউকে আদালতে প্রবেশ করতে না দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। ফলে আদালতে প্রবেশ করতে না পেরে আদালতের বাইরে অবস্থান নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা। এক পর্যায়ে সকাল সোয়া ১০টার দিকে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা জোর করে আদালতে ঢুকতে চাইলে পুলিশের সঙ্গে তাদের ধস্তাধস্তি শুরু হয়। ১০ মিনিট ধস্তাধস্তির পর বিএনপিপন্থীরা পিছু হটে।


এ মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন ৩২ জন। ১২০ কার্যদিবসের বিচারকার্য শেষ হয়েছে ২৩৬ দিনে। আত্মপক্ষ সমর্থনে গেছে ২৮ দিন। যুক্তি উপস্থাপন চলেছে ১৬ দিন। আর আসামি পক্ষ মামলাটির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে উচ্চ আদালতে গিয়েছেন ৩৫ বার।


এ মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত হলে খালেদা জিয়ার সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন (৩০ বছর) কারাদণ্ড হতে পারে। খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানও এ মামলায় আসামি। এ মামলাতে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। বর্তমানের তিনি লন্ডনে অবস্থান করছেন।


এ মামলায় অন্য আসামিদের মধ্যে কারাগারে রয়েছেন মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ।


এছাড়া সাবেক মুখ্য সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান মামলার শুরু থেকেই পলাতক।

 

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় মামলা করে দুদক।


২০১০ সালের ৫ আগস্ট খালেদা জিয়া ও তার ছেলে তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপপরিচালক হারুন আর রশিদ। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ খালেদা জিয়াসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।


মামলায় খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন—মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।

 

আরও পড়ুন:

 

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ৮ ফেব্রুয়ারি

 

মামলাটি আইনানুগভাবে হয়নি: যুক্তিতর্কে মওদুদ আহমদ​

 

এ মামলা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার চরম দৃষ্টান্ত: যুক্তিতর্কে মওদুদ আহমদ​

 

বেগম জিয়া এই মমলায় ফুল খালাস পাবার হকদার: যুক্তিতর্কে জমির উদ্দিন সরকার​

 

তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন খালেদার​

 

খালেদার মামলায় মূল নথি ছিল না, অতিরিক্ত একটি নথি সৃষ্টি করা হয়েছে: যুক্তিতর্কে আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী​

 

জাল দলিল তৈরি করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা: যুক্তিতর্কে আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী​

 

বিচারকের প্রতি ‘ওহী’ নাজিল না হলে খালাস পাবেন খালেদা: খন্দকার মাহবুব হোসেন


খালেদার মামলাটি রাজনৈতিক গন্ধ ও কালিমা যুক্ত: যুক্তিতর্কে আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন


৩২ সাক্ষীর কেউ বলেননি খালেদা জিয়া ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন: যুক্তিতর্কে আইনজীবী রেজ্জাক খান


এটা চকবাজারের কোনো পাইকারি দোকান নয়: যুক্তিতর্কে খালেদার আইনজীবী: রেজ্জাক খান


অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদার সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি রাষ্ট্রপক্ষের

 

আমার বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন মিথ্যা-বানোয়াট: খালেদা জিয়া

 

আমার ৩৬ মামলার কোনোটিরই আইনগত ভিত্তি নেই: খালেদা জিয়া​

 

অবিচার হয় বলেই শেখ মুজিব-ভাসানী-সোহরাওয়ার্দীকে জেলে যেতে হয়েছিল: খালেদা জিয়া​

 

কত মামলা ঝুলে আছে, আমার মামলা এগোচ্ছে রকেটগতিতে: খালেদা জিয়া


আদালতে অসমাপ্ত আত্মপক্ষ সমর্থনে অশ্রুসিক্ত খালেদা


বকশীবাজার কোর্ট ফখরুদ্দিন-মঈনুদ্দীনের শাসনামলের কোর্টের মতো: খালেদা জিয়া

 

 


Top