কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে কীভাবে বানাবেন আধুনিক জীবনবৃত্তান্ত?
এআই টুল খুব দ্রুত আপনার তথ্য বিশ্লেষণ ও বিন্যাস করতে পারে। এতে সময় বাঁচে, আবার প্রয়োজনমতো সিভির ধরনও বদলে নেওয়া যায়।
ডেইলি সান রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৫, ০১:৩৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
চাকরির বাজারে টিকে থাকতে একটি শক্তিশালী জীবনবৃত্তান্ত কতটা জরুরি, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু নিখুঁত ফন্ট, সঠিক ফরম্যাট, আর নিয়োগকর্তার মন জয় করার মতো শব্দচয়ন- এই সব মিলিয়ে সিভি তৈরি করা ছিল একটি সময়সাপেক্ষ ও ক্লান্তিকর কাজ। তবে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা- এর আগমনে সেই চিত্র এখন সম্পূর্ণ পাল্টে গেছে।
এআই দিয়ে সিভি তৈরির সুবিধা
চ্যাটজিপিটি বা গুগলের জেমিনির মতো এআই টুল খুব দ্রুত আপনার তথ্য বিশ্লেষণ ও বিন্যাস করতে পারে। এতে সময় বাঁচে, আবার প্রয়োজনমতো সিভির ধরনও বদলে নেওয়া যায়। এআই দিয়ে সিভি তৈরির সুবিধা হলো-
- এআই বিভিন্ন ফরম্যাট বা ধরনের সিভি ডিজাইন আপনার সামনে হাজির করবে।
- ব্যাকরণ ও বানানের ভুল ধরিয়ে দেবে।
- চাকরির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা মিলিয়ে সিভি সাজাবে।
- পুরোনো সিভি উন্নত করার পরামর্শও দেবে।
ফলে আপনি কয়েক মিনিটের মধ্যে এমন একটি সিভি পেতে পারেন, যা দেখতে আকর্ষণীয় ও তথ্যবহুল।
নতুন করে সিভি বানাতে চান?
পুরোনো কোনো সিভি না থাকলে এআই দিয়েই শুরু করুন নতুন করে। অনলাইনে এআইনির্ভর সিভি তৈরির সাইটে যান (যেমন europass.europa.eu/en/create-europass-cv)। আপনার নাম, যোগাযোগের তথ্য, শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা লিখুন। আপনি কোন চাকরির জন্য আবেদন করবেন, সেটি উল্লেখ করুন। এরপর নির্ধারিত কমান্ড দিলে এআই নিজে থেকেই প্রাসঙ্গিক বিভাগ তৈরি করবে, এমনকি রং, ফন্ট ও টেমপ্লেট ‘সাজেস্ট’ করবে।
সিভির ‘সারসংক্ষেপ’ বা ‘অবজেকটিভ’ অংশে এআই বেশ সাহায্য করতে পারে। আপনি যদি নিজের কাজের ধরন বা অর্জন লিখে দেন, এআই সেটাকে আরও সুন্দরভাবে উপস্থাপন করবে। আপনার সব অভিজ্ঞতা, দায়িত্ব, অর্জনের কথা ‘বুলেট পয়েন্ট’ আকারে উল্লেখ করতে পারেন। শক্তিশালী ক্রিয়াপদ ব্যবহার করে এআই আপনার এসব তথ্যকে আরও আকর্ষণীয় করতে পারে।
পুরোনো সিভি নতুন করুন
আপনার পুরোনো সিভি হালনাগাদ করতেই এআইয়ের সহায়তা নিতে পারেন। চ্যাটজিপিটি বা জেমিনিতে পুরোনো সিভি কপি-পেস্ট করুন বা ফাইল আপলোড করুন। এরপর চাকরির ধরন অনুযায়ী নির্দেশনা দিন। যেমন- ‘Please improve my CV for a marketing job in 2025.’
মুহূর্তেই এআই আপনার সিভি বিশ্লেষণ করে জানিয়ে দেবে- কোথায় ঘাটতি, কীভাবে লেখাটা আধুনিক ও আকর্ষণীয় করা যায়। এআই পুরোনো সারসংক্ষেপকে নতুনভাবে সাজাবে। অভিজ্ঞতার অংশে অর্জনগুলো সংখ্যায় তুলে ধরতে সাহায্য করবে। পুরোনো দক্ষতার জায়গায় নতুন, প্রাসঙ্গিক দক্ষতা যোগ করতে বলবে।
শেষে ব্যাকরণ ও বানান যাচাই করে সিভি একবার নিজে মনোযোগ দিয়ে দেখে নিন। কারণ, এআই সাহায্য করবে ঠিক, কিন্তু সিদ্ধান্ত আপনার।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে এআই-এর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা ভালো নয়। এআই কন্টেন্ট লিখলেও, সেটিকে অবশ্যই নিজের ব্যক্তিগত অর্জন ও অভিজ্ঞতা দিয়ে যাচাই ও সম্পাদনা করতে হবে। সিভি যেন যান্ত্রিক না হয়ে যায়, বরং তাতে যেন আপনার নিজস্বতা ও মানবীয় স্পর্শ থাকে, সেদিকে নজর রাখা জরুরি।
চাকরির প্রস্তুতিকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করতে এআই সিভি মেকারগুলো নিঃসন্দেহে এক শক্তিশালী হাতিয়ার। সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে এটি আপনার সিভিকে নিয়োগকর্তার টেবিলে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে একধাপ এগিয়ে রাখবে।