হবিগঞ্জে বাঙ্কার থেকে ১০ রকেট লঞ্চার উদ্ধার | daily-sun.com

হবিগঞ্জে বাঙ্কার থেকে ১০ রকেট লঞ্চার উদ্ধার

ডেইলি সান অনলাইন     ৩ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ১৭:০২ টাprinter

হবিগঞ্জে বাঙ্কার থেকে ১০ রকেট লঞ্চার উদ্ধার

 

হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে অভিযান চালিয়ে ১০টি ট্যাংক বিধ্বংসী রকেট উদ্ধার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-র‌্যাব। শুক্রবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাত থেকে শনিবার দুপুর ১২ পর্যন্ত পাহাড়ের ভেতর  বেশ কয়েকটি বাংকার খুড়ে ১টি বাংকার থেকে এসব গোলা উদ্ধার করা হয়।


শনিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন র‌্যাব মিডিয়া উইংয়ের প্রধান মুফতি মাহমুদ খান। তিনি জানান, গোয়েন্দা নজরদারীর ভিত্তিতে র‌্যাব-৯ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল আলী হায়দার আজাদের নেতৃত্বে শুক্রবার রাত থেকে উদ্যানের বেশ কয়েকটি পয়েন্টে অভিযান চালানো হয়। ৩/৪টি গর্ত খুড়ে একটি গর্ত থেকে প্লাস্টিকে মোড়ানো বক্সে ১০টি রকেট পাওয়া যায়।


তিনি বলেন, কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হয়তো এগুলো এখানে এনে জড়ো করেছিল। কিন্তু তারা তা ব্যবহারের সুযোগ পায়নি।


মুফতি মাহমুদ জানান, এসব রকেট ৪০ মিলিমিটার পর্যন্ত ট্যাংক ধ্বংস করতে পারে। তবে এর গায়ে কোন দেশের তৈরি বা কখন তৈরি করা হয়েছে তা লেখা নেই। এগুলো এখনো সচল রয়েছে বলে জানান তিনি।


তিনি বলেন, সাধারণ সন্ত্রাসীরা এগুলো ব্যবহার করার জন্য এখানে নিয়ে আসেনি। আমাদের দেশের জঙ্গিরা এসব অস্ত্র ব্যবহারের সক্ষমতা রাখেও না। ২০১৪ সালে ৫ দফা অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছিল। এবারও গোয়েন্দা তথ্য ছিল এখানে ধ্বংসাত্মক অস্ত্র ও গোলাবারুদ মজুদ রয়েছে। আমরা বোম্ব ডিস্পোজাল ইউনিট দিয়ে সন্দেহজনক সবগুলো স্থানে সার্চ করে একটি বাংকার থেকে প্লাস্টিকের কন্টেইনারে মোড়ানো ট্যাংক বিধ্বংসী ১০টি রকেট গোলা উদ্ধার করি।


তিনি বলেন, রাত থেকে যেহেতু অভিযান চালানো হয়েছে, তাই আজ অভিযান সমাপ্ত করা হচ্ছে। কিন্তু গোয়েন্দা নজরদারি থাকবে। আর দু'একটি স্পটে আজই সার্চ করা হবে। অস্ত্রের উৎস জানতে বেশ কিছু সময় লাগবে।


আগের অস্ত্রের সঙ্গে এগুলোর মিল রয়েছে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আগেও একই ধরনের অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছিল। তবে এগুলো আগেরগুলোর মতো কি-না তা এখনই বলা যাবে না। কতদিন আগে এগুলো এখানে রাখা হয়েছিল তাও এখনই বলা সম্ভব নয়।


এর আগে গতকাল শুক্রবার (২ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে অভিযানে নামেন র‌্যাব-৯ এর সদস্যরা। র‌্যাব-৯ সিলেট ক্যাম্পের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মনিরুজ্জামান বলেন, চুনারুঘাটে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যোনের অরণ্যে অভিযানে ৭টি বাঙ্কারের অস্তিত্বও পাওয়া গেছে। অভিযানে একটি বাঙ্কারের অস্ত্র পাওয়া গেলেও বাকি ৬টিতে এখন কোনো কিছু পাওয়া যায়নি। তবে কি পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারে করা হয়েছে তা দুপুর সাড়ে ১২টায় র‌্যাবের ডিজি সংবাদ সম্মেলনে এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানাবেন বলেও তিনি জানান।


এর আগে, ২০১৪ সালে সাতছড়িতে ৪ দফায় ৬ বার অস্ত্র ও গোলাবারুদ পায় র‌্যাব। ১ জুন থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩ দফায় ৩৩৪টি কামান বিধ্বংসী রকেট, ২৯৬টি রকেট চার্জার, ১টি রকেট লঞ্চার, ১৬টি মেশিনগান, ১টি বেটাগান, ৬টি এসএলআর, ১টি অটো রাইফেল, ৫টি মেশিন গানের অতিরিক্ত খালি ব্যারেল, প্রায় ১৬ হাজার রাউন্ড বুলেটসহ বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধার করেন র‌্যাবের সদস্যরা। 


এরপর ১৬ অক্টোবর থেকে ৪র্থ দফার ১ম পর্যায়ে উদ্যানের গহীন অরণ্যে মাটি খুড়ে ৪র্থ দফায় ৩টি মেশিন গান, ৪টি ব্যারেল, ৮টি ম্যাগজিন, ২৫০ গুলির ধারণক্ষমতা সম্পন্ন ৮টি বেল্ট ও উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন একটি রেডিও উদ্ধার করা হয়।


সর্বশেষ ১৭ অক্টোবর দুপুরে এসএমজি ও এলএমজি’র ৮ হাজার ৩৬০ রাউন্ড, ত্রি নট ত্রি রাইফেলের ১৫২ রাউন্ড, পিস্তলের ৫১৭ রাউন্ড, মেশিনগানের ৪২৫ রাউন্ডসহ মোট ৯ হাজার ৪৫৪ রাউন্ড বুলেট উদ্ধার করা হয়।

 


Top