ঢাকার সিটি নির্বাচন স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে ইসির আপিল | daily-sun.com

ঢাকার সিটি নির্বাচন স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে ইসির আপিল

ডেইলি সান অনলাইন     ১ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ১৭:৪৬ টাprinter

ঢাকার সিটি নির্বাচন স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে ইসির আপিল

 

ঢাকা উত্তর সিটির (ডিএনসিসি) মেয়র পদে উপনির্বাচন এবং ঢাকার দুই সিটিতে যুক্ত হওয়া সম্প্রসারিত ওয়ার্ডে সাধারণ নির্বাচনের উপর হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করেছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বৃহস্পতিবার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় পৃথক দুটি লিভ টু আপিল করা হয় বলে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী তৌহিদুল ইসলাম।


তিনি বলেন, ঢাকা উত্তর সিটির (ডিএনসিসি) মেয়র পদে উপনির্বাচন এবং ঢাকার দুই সিটিতে যুক্ত হওয়া সম্প্রসারিত ওয়ার্ডে সাধারণ নির্বাচনের উপর হাইকোর্টের দেয়া আদেশ স্থগিত চাওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবারই চেম্বার জজ আদালতে নির্বাচন কমিশনের করা পৃথক লিভ টু আপিল আবেদন শুনানির জন্য উঠবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।


এর আগে, গত ১৭ জানুয়ারি আলাদা রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ ডিএনসিসি নির্বাচনের তফসিলের কার্যকারিতা স্থগিত করেন। একই সঙ্গে, ওই নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল কেন ‘আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত’ ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চেয়ে হাইকোর্টে রুল জারি করেন আদালত। হাইকোর্টের বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি জাফর আহমেদের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই আদেশ দেন।


এর আগে ডিএনসিসি মেয়রের শূন্য পদে উপনির্বাচনের ঘোষিত তফসিলের স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে পৃথক দুটি রিট দায়ের করেন রাজধানী উত্তরের বেরাইদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম ও ভাটারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান।


আইনজীবীরা বলেন, ৯ জানুয়ারির ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ১৮ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র দাখিল করতে হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। যিনি প্রার্থী হবেন তিনিও জানেন না তিনি ভোটার কিনা।

তাছাড়া মনোনয়নপত্রে ৩০০ ভোটারের স্বাক্ষর থাকতে হবে। ভোটার তালিকা প্রকাশ না হলে এটা সম্ভব হচ্ছে না।


এছাড়া স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন, ২০০৯ এর ৫ (৩) উপধারায় বলা হয়েছে, ‘মেয়রের পদসহ কর্পোরেশনের শতকরা ৭৫ ভাগ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইলে এবং নির্বাচিত কাউন্সিলরগণের নাম সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হইলে, কর্পোরেশন এই আইনের অন্যান্য বিধান সাপেক্ষে যথাযথভাবে গঠিত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে। ’


আইন অনুযায়ী, উত্তর সিটি কর্পোরেশনে নতুন যুক্ত হওয়া ১৮টি মিলে কাউন্সিলর শতকরা ৭৫ ভাগ হয় না। কারণ নতুন ১৮টিতে তো নির্বাচনই হয়নি। সে হিসেবে মেয়র পদই তো গঠিত হচ্ছে না।


তাছাড়া, সম্প্রসারিত ১৮টি ওয়ার্ডে যারা কাউন্সিলর হবেন তারা কতদিনের জন্য নির্বাচিত হবেন। তারা কি পাঁচ বছরের জন্য হবেন, না আড়াই বছরের জন্য নির্বাচিত হবেন- সে বিষয়েও প্রশ্ন তোলা হয় রিট আবেদনে।


আদালতের রায়ের কপি পর্যালোচনা দেখা গেছে, ভোটার তালিকা হালনাগাদ না থাকা; নতুন যুক্ত হওয়া কাউন্সিলরদের মেয়াদ নির্ধারণ না করা; ঢাকা উত্তর সিটির করপোরেশনের ৭৫ শতাংশ জনপ্রতিনিধি না থাকা এবং যেসব ইউনিয়ন পরিষদ ভেঙে দুই সিটিতে যুক্ত করা হয়েছে, সেইসব ইউপির চেয়ারম্যানদের অব্যাহতি দেয়ার বিষয়ে গেজেট প্রকাশ না হওয়ার বিষয় করা হয়েছে বলেও ইসি সূত্রে জানা গেছে।


ইসি কর্মকর্তারা জানান, যেসব কারণে ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন স্থগিত হয়েছে তার বেশিরভাগই স্থানীয় সরকারের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। শুধু ভোটার তালিকা হালনাগাদ সংক্রান্ত বিষয়টি কমিশনের উপর বর্তায়।


প্রসঙ্গত, গত বছরের ৩০ নভেম্বর মেয়র আনিসুল হকের আকস্মিক মৃত্যুর পর ডিএনসিসির মেয়র পদে উপনির্বাচনের জন্য গত ৯ জানুয়ারি তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। একই সঙ্গে ওই দিন ডিএসসিসির নতুন সংযোজিত ১৮টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে নির্বাচনেরও তফসিল ঘোষণা করা হয়। একই সময়ে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের ৬টি করে ১২টি সংরক্ষিত মহিলা আসনের নির্বাচন করার কথা বলা হয়। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ হওয়ার কথা।

 


Top