জিয়া চ্যারিটেবল দুর্নীতি মামলায় এখতিয়ারবিহীন বিচার হচ্ছে: যুক্তিতর্কে আইনজীবী | daily-sun.com

জিয়া চ্যারিটেবল দুর্নীতি মামলায় এখতিয়ারবিহীন বিচার হচ্ছে: যুক্তিতর্কে আইনজীবী

ডেইলি সান অনলাইন     ১ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ১৪:৩২ টাprinter

জিয়া চ্যারিটেবল দুর্নীতি মামলায় এখতিয়ারবিহীন বিচার হচ্ছে: যুক্তিতর্কে আইনজীবী

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় এখতিয়ারবিহীন বিচার হচ্ছে। তাই আসামিরা খালাস পাবেন বলে উল্লেখ করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী আমিনুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার (১ ফেব্রুয়ারি) পুরান ঢাকার বকশীবাজার আলিয়া মাদ্রাসায় স্থাপিত বিশেষ আদালতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে আসামিপক্ষের আইনজীবী আমিনুল ইসলাম এ কথা বলেন।


ওই মামলার আসামি হারিছ চৌধুরীর (পলাতক) তখনকার সহকারী একান্ত সচিব ও বিআইডব্লিউটিএর নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্নার পক্ষে তিনি যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করছেন। আমিনুল ইসলাম তার যুক্তিতে আরও বলেন, এটা কোনো পাবলিক ট্রাস্ট নয়, প্রাইভেট ট্রাস্ট। দলের অভ্যন্তরের ব্যক্তিদের টাকায় ট্রাস্ট গঠন করা হয়েছে এবং ১৯৯৩ সালে আইনকানুন মেনে ট্রাস্ট গঠন করা হয়েছে।


আমিনুল ইসলাম বলেন, বিএনপির তৎকালিন মহাসচিব বি চৌধুরীসহ ৭ জন ওই ট্রাস্টের সঙ্গে ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি চলে গেলে ২০০৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি পুনরায় এই ট্রাস্ট গঠন করা হয়।


তিনি বলেন, ১/১১ সরকারের পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি এই মামলাটি করা হয়।


এর আগে বেলা ১১টা ২৪ মিনিটের দিকে পুরান ঢাকার বকশীবাজার আলিয়া মাদ্রাসায় স্থাপিত বিশেষ আদালত-৫ এ পৌঁছান বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। এরপর বেলা সাড়ে ১১ টায় ওই মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হয়। 


এর আগে মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি মোশাররফ হোসেন কাজল এ মামলায় যুক্তি উপস্থাপন শেষ করেন। ওই দিন এ মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ সব আসামিদের সর্বোচ্চ ৭ বছর সাজার দাবি জানান তিনি। এই মামলার বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ মোট আসামি চারজন।


রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি মোশাররফ হোসেন কাজল ওই দিন আদালতকে বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ক্ষমতায় থাকাকালে (২০০১ থেকে ২০০৬ সাল) ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজে ও অন্যকে লাভবান করার জন্য জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট গঠন করেন। ১৯৪৭ সালের ৫(২), ধারা ও দণ্ডবিধি ১০৯ ধারায় অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। ৩২ জন সাক্ষির মাধ্যমে আমরা এটা প্রমাণ করতে পেরেছি। তাই এই মামলার প্রত্যেক আসামিকে সর্বোচ্চ ৭ বছর শাস্তির দাবি করছি।


তিনি আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ব্যক্তিগত স্বার্থে এ ট্রাস্ট গঠন করেন। ব্যাংক একাউন্ট খোলার সময় তিনি পেশার কথা লেখেননি। তিনি সে সময় প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।


এরপর ওই দিনই আসামি ট্রাফিক বিভাগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্নার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শুরু করেন আইনজীবী আমিনুল ইসলাম। এদিন যুক্তি উপস্থাপন শেষ না হওয়ায় পরবর্তী যুক্তি উপস্থাপনের জন্য বুধবার (৩১ জানুয়ারি) দিন ধার্য করেন আদালত। এদিনও যুক্তি উপস্থাপন শেষ না হওয়ায় আজ বৃহস্পতিবার (১ ফেব্রুয়ারি) দিন ধার্য করেন আদালত।


গত ২৫ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) আদালত-৫ এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামান ৩০, ৩১ জানুয়ারি ও ১ ফেব্রুয়ারি জিয়া চ্যারিটেবল দুর্নীতি মামলায় যুক্তিতর্কের জন্য দিন ধার্য করেন। ওই দিন জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়েছে এবং আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি ওই মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন।


এদিকে খালেদা জিয়ার হাজিরা ঘিরে আদালত ও এর আশপাশের এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা নেওয়া হয়। বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এছাড়া আদালতের প্রধান ফটকে স্ক্যানার বসিয়ে তল্লাশি করে ভেতরে ঢোকানো হয়।

 

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।


২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক হারুন-অর-রশিদ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।


মামলার অন্য আসামিরা হলেন—খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী (পলাতক), হারিছের তখনকার সহকারী একান্ত সচিব ও বিআইডব্লিউটিএর নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।


এ ছাড়া জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় মামলা করে দুদক।


২০১০ সালের ৫ আগস্ট খালেদা জিয়া ও তার ছেলে তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপপরিচালক হারুন আর রশিদ। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ খালেদা জিয়াসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।


মামলায় খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন—মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।

 

আরও পড়ুন:

 

খালেদাকে মওদুদের পরামর্শ না নেয়ার অনুরোধ রাষ্ট্রপক্ষের

 

জিয়া চ্যারিটেবল মামলায়ও খালেদার সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি রাষ্ট্রপক্ষের

 

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ৮ ফেব্রুয়ারি

 

মামলাটি আইনানুগভাবে হয়নি: যুক্তিতর্কে মওদুদ আহমদ​

 

এ মামলা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার চরম দৃষ্টান্ত: যুক্তিতর্কে মওদুদ আহমদ​

 

বেগম জিয়া এই মমলায় ফুল খালাস পাবার হকদার: যুক্তিতর্কে জমির উদ্দিন সরকার​

 

তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন খালেদার​

 

খালেদার মামলায় মূল নথি ছিল না, অতিরিক্ত একটি নথি সৃষ্টি করা হয়েছে: যুক্তিতর্কে আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী​

 

জাল দলিল তৈরি করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা: যুক্তিতর্কে আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী​

 

বিচারকের প্রতি ‘ওহী’ নাজিল না হলে খালাস পাবেন খালেদা: খন্দকার মাহবুব হোসেন


খালেদার মামলাটি রাজনৈতিক গন্ধ ও কালিমা যুক্ত: যুক্তিতর্কে আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন


৩২ সাক্ষীর কেউ বলেননি খালেদা জিয়া ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন: যুক্তিতর্কে আইনজীবী রেজ্জাক খান


এটা চকবাজারের কোনো পাইকারি দোকান নয়: যুক্তিতর্কে খালেদার আইনজীবী: রেজ্জাক খান


অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদার সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি রাষ্ট্রপক্ষের

 

আমার বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন মিথ্যা-বানোয়াট: খালেদা জিয়া

 

আমার ৩৬ মামলার কোনোটিরই আইনগত ভিত্তি নেই: খালেদা জিয়া​

 

অবিচার হয় বলেই শেখ মুজিব-ভাসানী-সোহরাওয়ার্দীকে জেলে যেতে হয়েছিল: খালেদা জিয়া​

 

কত মামলা ঝুলে আছে, আমার মামলা এগোচ্ছে রকেটগতিতে: খালেদা জিয়া


আদালতে অসমাপ্ত আত্মপক্ষ সমর্থনে অশ্রুসিক্ত খালেদা


বকশীবাজার কোর্ট ফখরুদ্দিন-মঈনুদ্দীনের শাসনামলের কোর্টের মতো: খালেদা জিয়া

 

 


Top