সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো শিশুদের উপর কেমন প্রভাব ফেলছে | daily-sun.com

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো শিশুদের উপর কেমন প্রভাব ফেলছে

ডেইলি সান অনলাইন     ৩১ জানুয়ারী, ২০১৮ ১২:০৮ টাprinter

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো শিশুদের উপর কেমন প্রভাব ফেলছে

শিশুদের ব্যবহারের জন্য তৈরি একটি ফেসবুক অ্যাপ প্রত্যাহার করে নিতে ফেসবুক কর্তৃপক্ষের প্রতি আহবান জানিয়েছেন একশো জনের বেশি শিশু স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ। তাদের বক্তব্য, এটি দায়িত্বহীন একটি পদক্ষেপ,যা শিশুদের মধ্যে ফেসবুকের ব্যবহার বাড়াবে।

কারণ এসব শিশুরা এখনো সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত নয়।

 

তারা বলছেন, সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করতে গিয়ে ডিজিটাল যন্ত্রপাতির অতিরিক্ত ব্যবহার শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে। তবে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ বলছে, অনলাইন বিশেষজ্ঞদের সাথে আলোচনা করেই ওই অ্যাপটি তৈরি করা হয়েছে।

 

 

বাংলাদেশে শিশুদের অনলাইন ব্যবহার বা ফেসবুক আসক্তি নিয়ে অভিভাবকরা কতটা সতর্ক?

ঢাকার একজন অভিভাবক শিখা রহমান বলছেন, ''এখনকার বাচ্চারা এতটাই বেশি জানে যে, তাদের সাথে পুরোপুরি পেরে ওঠা যায় না। ওরা হয়তো মোবাইলে কিছু করছে বা দেখছে, যখনি আমি সেটা দেখতে যাই, সাথে সাথে বন্ধ করে দেয়। অথবা আমাকে গেম বের করে দেখায়। কিন্তু ও হয়তো অন্যকিছু দেখছিল, কিন্তু আমার তো সেটা বোঝার উপায় নেই। এ নিয়ে আমরা খুবই টেনশনে থাকি।''

 

তার দুইটি সন্তান রয়েছে। দুজনেরই মোবাইল ফোন রয়েছে। বাসায় ইন্টারনেট সংযোগ থাকায় ওয়াইফাই ব্যবহার করে তাদের মোবাইল বা কম্পিউটারে ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।কিন্তু এখন তারা দেখছেন, সন্তানরা ফেসবুকে বেশিরভাগ সময় পার করছে।

 

ফেসবুকে অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানরা কাদের সঙ্গে কথা বলছে, কাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করছে, এটা অভিভাবকদের কতটা জানা থাকে?

শিখা রহমান বলছেন, ''মা-বাবার কাছে তারা এসব কিছুই জানায় না। আগে যেমন কোন বন্ধুর সঙ্গে কথা বলতে আমার কাছে টাকা চাইতো, কিন্তু এখন ইন্টারনেটে কথা বলছে, আমরা কিছুই জানি না।''

 

প্রযুক্তি সম্পর্কে ভালো ধারণা না থাকায় তারা কি দেখছে, কি করছে, সেটিও তিনি পুরোপুরি বুঝতে পারেন না।

তিনি বলছেন, ''আমার বাচ্চার ছোট বেলা থেকেই চোখ অনেক ভালো ছিল। কিন্তু তাকে মোবাইল কিনে দেয়ার পর থেকেই চোখ খারাপ হতে শুরু করেছে। এখন তার চোখে হাই পাওয়ারের চশমা।''

 

বাসায় একসময় ইন্টারনেট বন্ধও করে দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু পড়ে সন্তানদের চাপে বাধ্য হয়ে আবার সংযোগ নিতে হয়েছে। তিনি বলছেন, ''তারা এমন করে যে, আর না নিয়েও পারিনি।''

''না ঘুমিয়ে, না পড়ে সারাক্ষণই দেখা যায় মোবাইল নিয়ে পড়ে রয়েছে। খাওয়ার সময় ভাত মাখিয়ে খেতে পারে না। অথচ তাকে কম্পিউটারের সামনে না দিলে বা মোবাইল না দিলে হয়তো খেলই না, টেবিলে আসলোই না।''

 

ঢাকার এই অভিভাবক মনে করেন, যুগের সাথে তাল মেলাতে ইন্টারনেট, ফেসবুক ব্যবহার করতে না দিয়েও উপায় নেই। তাদের পড়াশোনার কাজেও লাগে।

কিন্তু তিনি বলছেন, ''ক্ষতিকর বিষয়গুলো এড়িয়ে তাদের যদি শুধুমাত্র ভালোটা দিতে পারতাম, তাহলে আমার অনেক ভালো লাগতো। কিন্তু তার কোন উপায় আছে কিনা, তা আমি জানি না।''

 

 

বিবিসি বাংলা অবলম্বনে 

 


Top