ফরহাদ মজহার দম্পতির আগাম জামিন | daily-sun.com

ফরহাদ মজহার দম্পতির আগাম জামিন

ডেইলি সান অনলাইন     ৩০ জানুয়ারী, ২০১৮ ১১:০৯ টাprinter

ফরহাদ মজহার দম্পতির আগাম জামিন

 

কবি ও কলামিস্ট ফরহাদ মজহার দম্পতির ( ফরহাদ মজহার ও তার স্ত্রী ফরিদা আক্তারের) বিরুদ্ধে দায়ের করা প্রসিকিউশন মামলায় আট সপ্তাহের আগাম জামিন মঞ্জুর করে আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। সোমবার (২৯ জানুয়ারি) হাইকোর্টের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃঞ্চাদেবনাথের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ তাদের এ আগামী জামিন মঞ্জুর করে আদেশ দেন।


আদালতে এদিন ফরহাদ মজহার দম্পতির পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম।


এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২৮ ডিসেম্বর) ফরহাদ মজহার ও তার স্ত্রী ফরিদা আক্তারের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন মামলা দায়ের করেছে ডিবি পুলিশ। তার আগে ৭ ডিসেম্বর ঢাকা মহানগর হাকিম খুরশীদ আলম চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে প্রসিকিউশন মামলা করার অনুমতি দেন।

 
এর আগে গত ১৪ নভেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মাহাবুবুল ইসলাম আদালতে ফরহাদ মজহার অপহরণ করে চাঁদা দাবির অভিযোগে করা মামলায় অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়নি মর্মে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেন। একই সঙ্গে মিথ্যা অপহরণের মামলা করে বিভ্রান্ত ও হয়রানির করার অভিযোগে দণ্ডবিধির ২১১ ধারায় ফরহাদ মজহার ও তার স্ত্রী ফরিদা আক্তারের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন মামলা দায়েরের অনুমতি চেয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।


তদন্ত কর্মকর্তার দাবি, তদন্তকালে বিভিন্ন জনের জবানবন্দিসহ অন্যান্য সাক্ষ্যপ্রমাণ বলছে, ফরহাদ মজহার অপহৃত হননি। আর তার স্ত্রী ফরিদা আক্তার অপহরণের মিথ্যা অভিযোগ করেন। ফরহাদ মজহারও তার জবানবন্দিতে অপহরণের কথা উল্লেখ করেন। স্ত্রী মিথ্যা অভিযোগ করলেও পরবর্তীকালে তা প্রত্যাহার করেনি। মিথ্যা মামলার করে বিভ্রান্ত ও হয়রানির করার অভিযোগে দণ্ডবিধির ২১১ ধারায় প্রসিকিউশ দাখিলের অনুমতি চাওয়া হয়েছে।


মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার জন্য দণ্ডবিধির ২১১ ধারায় দুই বছরের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা জরিমানা বা উভয় প্রকারের শাস্তির বিধান রয়েছে।


ওই মামলায় হাইকোর্টে উপস্থিত হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে জামিন আবেদন করেন আসামিরা। ওই আবেদন শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।


প্রসঙ্গত, ফরহাদ মজহার গত ৩ জুলাই ভোরে রাজধানীর শ্যামলীর রিং রোডের ১নং হক গার্ডেনের বাসা থেকে বের হওয়ার পর অপহরণ হন বলে আদাবর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন আলোচিত এই ব্যক্তির স্ত্রী মানবাধিকার কর্মী ফরিদা আক্তার। পুলিশ প্রথমে ফরহাদ মজহারের মোবাইল ফোন ট্র্যাক করে খুলনায় তার অবস্থান শনাক্ত করে। পরে খুলনার পরিচিত একটি রেস্টুরেন্টে তিনি খাবার খেয়েছিলেন বলে প্রমাণ পায়। এরপর খুলনা থেকে ঢাকার পথে একটি বাসে মিস্টার গফুর নামে টিকিট কাটেন ফরহাদ মজহার। ১৯ ঘণ্টা পর যশোরের অভয়নগর এলাকায় হানিফ পরিবহনের বাসে তল্লাশি চালিয়ে রাতেই তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে সকালে ঢাকায় নিয়ে আসা হয় তাকে। পরে আদাবর থানা থেকে গত ৪ জুলাই দুপুরের দিকে মিন্টো রোডের গোয়েন্দা কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয় ফরহাদ মজহারকে। সেখানে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে তিনি অপহৃত হয়েছিলেন মর্মে জবানবন্দি দেন। ভিকটিম হিসেবে ফরহাদ মজহার আদালতেও ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। জবানবন্দি শেষে নিজ জিম্মায় বাসায় ফেরার অনুমতি চাইলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। এরপর মামলাটিতে গত ৬ জুলাই নাজমুস সাদাত সাদী হানিফ পরিবহণের এক কর্মচারী এবং গত ১০ জুলাই অর্চনা নামে এক নারী সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন।


ফরিদা আখতারের করা মামলায় বলা হয়, আমার স্বামী সাধারণত খুব ভোরে ঘুম থেকে জাগেন এবং লেখালেখি করেন। সকাল ৫টার দিকে আমার ঘুম ভাঙার পর আমি ওনাকে লেখার টেবিলে না দেখতে পেয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ি এবং সারা ঘরে খুঁজতে থাকি। ইতোমধ্যে সকাল ৫টা ২৯ মিনিটে আমার স্বামী তার ফোন থেকে আমাকে কল দেন। তিনি ভয়ার্ত কণ্ঠে বলেন, ‘ওরা আমাকে নিয়ে যাচ্ছে, মেরে ফেলবে।’ এর পর ফোনটি কেটে যায়। পরে পুলিশের উপস্থিতিতেই সারা দিনে ফরহাদ মজহারের ফোন থেকে আরও চারবার কল পান ফরিদা। সেসব ফোনালাপে ফরহাদ মজহার জানান, অপহরণকারীরা ৩৫ লাখ টাকা চেয়েছে; ওই টাকা পেলে তারা তাকে ছেড়ে দেবে।


ফরহাদ মজহারের নিখোঁজের ঘটনায় ওই দিন রাতেই স্ত্রী ফরিদা আক্তার বাদী হয়ে আদাবর থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। মামলা নং- ০৪। এর আগে তিনি জিডি করেছিলেন। জিডি নং- ১০১।

 


Top