বিতর্কিত ৫৭ ধারা বিলুপ্তের প্রস্তাব | daily-sun.com

বিতর্কিত ৫৭ ধারা বিলুপ্তের প্রস্তাব

ডেইলি সান অনলাইন     ২৯ জানুয়ারী, ২০১৮ ১৯:৪৯ টাprinter

বিতর্কিত ৫৭ ধারা বিলুপ্তের প্রস্তাব

মন্ত্রিসভা সোমবার ডিজিটাল সুরক্ষা আইন নামের একটি নতুন আইনের খসড়া অনুমোদন করেছে, যে আইনে তথ্য প্রযুক্তি বা আইসিটি আইনের বিতর্কিত ৫৭ ধারা বিলুপ্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

 

অনুমোদনের পর আইনমন্ত্রী আনিসুল হক আইনটির ব্যাপারে বলেছেন, "আইসিটি অ্যাক্টের অপরিচ্ছন্ন যে ৫৭ ধারা ছিলো, সেটিকে বিলুপ্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

তবে ৫৭ ধারার যে অপরাধ, সেগুলো বিস্তারিতভাবে শ্রেণীবিন্যাস করা হয়েছে"।

 

এর আগে ৫৭ ধারায় কয়েকজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা ও সাংবাদিকদের কারাগারে নেওয়ার একাধিক ঘটনা তীব্র সমালোচনা তৈরি করেছিলো। সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীদের তরফ থেকে এটি নিবর্তনমূলক আখ্যা দিয়ে আইসিটি আইন বাতিলের দাবি করা হয়েছিলো।

 

কিন্তু আইসিটি আইনের ৫৭ ধারা বাতিল হলেও নতুন আইনে আগের মতো হয়রানির আশঙ্কা থাকবে কি-না, এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন অযথা হয়রানি যাতে না হয় সেজন্য ব্যবস্থা করা হয়েছে।

 

আনিসুল হক বলেন, "অপপ্রয়োগের সুযোগ ৯৭ ভাগ বন্ধ হবে। আমি কথা দিয়েছিলাম যে ৫৭ ধারা থাকবে না। আজ মন্ত্রিসভা ৫৭ ধারা নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিলো সে বিতর্কের অবসান ঘটলো"।

 

মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম প্রেস ব্রিফিং এ জানিয়েছেন যে তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৪, ৫৫, ৫৬, ৫৭ ও ৬৬ ধারা বাতিল করে তার পরিবর্তে এসব ধারার অপরাধের প্রকৃতি অনুযায়ী শাস্তির বিধান রাখা হবে।

 

তিনি জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংক অনেকবার সাইবার ক্রাইমের শিকার হয়েছে। এ ধরনের অপরাধ দমনে বা আইসিটি বা অন্য আইনে যা নেই, সেটিই নতুন আইনে রাখা হয়েছে।

এক্ষেত্রে কোন তথ্য পরিকাঠামোতে বেআইনি প্রবেশের জন্য অনধিক সাত বছর কারাদণ্ড বা অনধিক ২৫ লাখ টাকা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে। আর ক্ষতি করলে অনধিক ১৪ বছরের কারাদণ্ড বা এক কোটি টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে নতুন আইনে। অর্থাৎ এখানে হ্যাকিং-এর শাস্তি ১৪ বছর কারাদণ্ড বা কমপক্ষে এক কোটি টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড।

 

 

ডিজিটাল সুরক্ষা আইনে কী থাকছে?

নতুন আইন অনুযায়ী ডিজিটাল মাধ্যমে প্রকাশিত বা প্রচারিত কোনো তথ্য-উপাত্ত দেশের সংহতি, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা, ধর্মীয় মূল্যবোধ বা জনশৃঙ্খলা ক্ষুণ্ণ করলে বা জাতিগত বিদ্বেষ ও ঘৃণা সৃষ্টি করলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তা ব্লক বা অপসারণের জন্য টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসিকে অনুরোধ করতে পারবে।

 

খসড়া আইনে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালনের জন্য জাতীয় কম্পিউটার ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম গঠন এবং প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ডিজিটাল নিরাপত্তা কাউন্সিল গঠনের কথা বলা হয়েছে।

আইনের ২১ ধারার প্রস্তাব অনুযায়ী ডিজিটাল মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ বা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বা জাতির পিতার নামে প্রোপাগান্ডা বা প্রচারণা চালালে বা মদদ দিলে অনধিক ১৪ বছরের কারাদণ্ড বা এক কোটি টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।

 

আর ধর্মীয় মূল্যবোধ বা অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার জন্য ওয়েবসাইট বা অন্য কোন ইলেকট্রনিক বিন্যাসে কিছু প্রচার বা প্রকাশ করলে অনধিক ১০ বছর কারাদণ্ড বা অনধিক ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।

আগে ৫৭ ধারায় মামলা হলেই যে গ্রেফতার করার বিধান ছিল, সে বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন যে এখন অপরাধ বিবেচনা করে কোনটি জামিনযোগ্য আর কোনটি অজামিনযোগ্য, তা ভাগ করে দেয়া হয়েছে।

 

খসড়া আইনটি এরপর বিল আকারে জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হবে। সেখানে পাশ হওয়ার পর রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষর শেষে এটি আইন হিসেবে কার্যকর হবে।

 

 

বিবিসি বাংলা অবলম্বনে 

 


Top