সড়কে গাছ ফেলে ইবি উপাচার্যের গাড়িতে হামলা | daily-sun.com

সড়কে গাছ ফেলে ইবি উপাচার্যের গাড়িতে হামলা

ডেইলি সান অনলাইন     ২৬ জানুয়ারী, ২০১৮ ১৩:৫৪ টাprinter

সড়কে গাছ ফেলে ইবি উপাচার্যের গাড়িতে হামলা

 

গভীর রাতে সড়কে গাছ ফেলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ভিসি অধ্যাপক ড. হারুন-উর রশিদ আসকারীর গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারি) দিনগত রাত তিনটা ৪২ মিনিটের দিকে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার বড়দাহ গ্রামের সড়কে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে শুক্রবার (২৬ জানুয়ারি) সংবাদ সম্মেলন ডেকে এসব তথ্য জানান  ভিসি হারুন-অর রশিদ।

 


ঘটনার ভয়াবহতা বর্ণনায় তিনি বলেন, ‘আমি মৃত্যু বিভীষিকা দেখেছি। আল্লাহ আমাকে প্রাণে বাঁচিয়ে দিয়েছেন। ’

 
ঘটনার বর্ণা দিয়ে ভিসি জানান, ঢাকা থেকে রাত ১০টার দিকে ব্যক্তিগত সহকারী রেজাউল করিমসহ গাড়িতে (কুষ্টিয়া ঘ ১১-০০২৮) করে ক্যাম্পাসের উদ্দেশে রওনা দেন। ঝিনাইদহ শহরে রেজাউল করিমকে বাসায় রেখে ক্যাম্পাসে যাচ্ছিলেন তিন। রাত আনুমানিক তিনটা ৪২ মিনিটের দিকে বড়দাহ এলাকায় পৌঁছলে সড়কে গাছের গুড়ি দেখতে পান চালক ফরহাদ হোসেন। বিপদ আঁচ করতে পেরে তিনি গাড়ি পেছনের দিকে নেওয়ার চেষ্টা করেন কিন্তু ততক্ষণে কয়েকটি ট্রাক জমা হয়ে যাওয়ায় গাড়ি পেছনে নিতে ব্যর্থ হয়। এসময় হঠাৎ করেই তিনজন মুখোশধারী বড় আকৃতির রামদা হাতে গাড়িতে হামলা চালায়। প্রথমে গাড়ির বাম পাশে সামনের গ্লাস ভেঙে সেখানে কাউকে না পেয়ে পিছনের গ্লাসে উপুর্যপুরি আঘাতে ভেঙে ফেলে। আর সেখানেই বসে ছিলেন উপাচার্য।

কিন্তু এসময় অন্য ট্রাক কিংবা গাড়িতে কোনো প্রকার হামলার ঘটনা ঘটেনি।


এসময় গাড়িচালক সামনের দিকে গাড়ি চালিয়ে ব্যারিকেডের কাছে থামালে উপাচার্য এবং গাড়িচালক আত্মরক্ষার্থে গাড়ি থেকে নেমে রাস্তার পাশের জঙ্গলে আশ্রয় নেন।


পরে হামলাকারীরা টর্চ লাইট দিয়ে উপাচর্যকে খুঁজে বের করে। তখন তারা বলে ‘এইতো পেয়েছি’। উপাচার্য বলেন, ‘ঠিক এসময় আমার মনে হচ্ছিল এটিই জীবনের শেষ মুহূর্ত। পরে তারা আমাকে ধরে নিয়ে গাড়ির কাছে এসে টাকা চায়। কিন্তু আমার কাছে কোনো টাকা ছিল না। তারা আগেই মানিব্যাগ নিয়ে যায়। আমি তাদের ল্যাপটপ দিতে চাইলেও তারা নেয়নি। তখন অনেকগুলো ট্রাক জমে যায় রাস্তার দুই পাশে। তারা হর্ণ বাজাতে থাকে। এসময় তারা আমাকে গাড়ির নিকট দাঁড় করিয়ে ‘একটুও নড়বি না’ বলে চলে যায়। তখন ট্রাকের লাইটের আলোয় আমি প্রাণভয়ে রাস্তা দিয়ে সামনের দিকে দৌড়াতে থাকি। প্রায় মিনিট খানেক দৌড়ানোর পর একটি বাড়ি পেয়ে সেখানে আশ্রয় নিই। পরে সেখান থেকে একজন স্থানীয়র ফোন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকে ফোন দিলে বিশ্ববিদ্যালয় থানা ও শৈলকূপা থানার পুলিশ গিয়ে আমাকে উদ্ধার করে। ভোর ৫টার দিকে আমি ক্যাম্পাসে পৌঁছাই।


ঘটনার বর্ণনাকালে তিনি আরো বলেন, ‘আমি মৃত্যুর বিভীষিকা দেখেছি। মনে হলো, আজই জীবনের শেষ দিন। আল্লাহর অশেষ রহমতে রক্ষা পেলাম। ’


এ ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ এবং অপরাধীদের চিহ্নিত করে বিচারের জোর দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, শিক্ষক সমিতি, জিয়া পরিষদ, শাখা ছাত্রদল, ছাত্রলীগ, ইংরেজি, বিভাগ ও লোক প্রশাসন বিভাগ।


এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, বিসয়টি খুবই স্পর্শকাতর ও দুঃখজনক। এ নিয়ে পুলিশ, র্যাব ও গোয়েন্দা বাহিনী ঘটনার পর থেকেই কাজ করে যাচ্ছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। সরকারের কাছে প্রকৃত দোষীদের খুঁজে বের করে কঠোর ও দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।


এ বিষয়ে ঝিনাইদহের শৈলকূপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন বলেন, ঘটনা শোনামাত্র ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে ভিসি স্যারকে উদ্ধার করে তার গাড়িসহ ক্যাম্পাসে পৌঁছে দিই। এ ঘটনায় অপরাধীদের গ্রেফতারে তখন থেকেই চিরুনী অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি।

 


Top