শুক্রবার থেকে বন্ধ কোচিং সেন্টার, অভিন্ন প্রশ্নপত্রে এসএসসি পরীক্ষা | daily-sun.com

শুক্রবার থেকে বন্ধ কোচিং সেন্টার, অভিন্ন প্রশ্নপত্রে এসএসসি পরীক্ষা

ডেইলি সান অনলাইন     ২৫ জানুয়ারী, ২০১৮ ১৩:৩৬ টাprinter

শুক্রবার থেকে বন্ধ কোচিং সেন্টার, অভিন্ন প্রশ্নপত্রে এসএসসি পরীক্ষা

 

আসন্ন মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে শুক্রবার (২৬ জানুয়ারি) থেকেই দেশের সমস্ত কোচিং সেন্টারগুলো বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসএসসি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারি) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় মনিটরিং কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।


একই সঙ্গে একযোগে সারাদেশে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে এসএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। তিনি বলেন, পরীক্ষা শুরুর তিন দিন আগে থেকে পরীক্ষা শেষ হওয়া পর্যন্ত কোচিং সেন্টারগুলো বন্ধ থাকবে। এখন সেই সিদ্ধান্ত এগিয়ে এনে সাত দিন আগে থেকে শেষ হওয়া পর্যন্ত কোচিং সেন্টারগুলো বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। প্রশ্নপত্র বিতরণের সময় অনেক কেন্দ্র সচিব উপস্থিত না হয়ে তাদের প্রতিনিধিদের পাঠান। এটি বন্ধ করে কেন্দ্র সচিবের উপস্থিতি নিশ্চিত, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে নিয়োজিত রাখা, ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশের বিষয়ে অধিক প্রচারণসহ বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট দফতর, সংস্থা ও বিভাগের কর্মকর্তারা।


পরীক্ষার শুরুর ৩০ মিনিট (আধা ঘণ্টা) আগে শিক্ষার্থীরা তাদের আসনে না বসলে অনুপস্থিত দেখানো হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। তিনি বলেন, পরীক্ষা শুরু হওয়ার ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষা কেন্দ্রে বা হলে উপস্থিতির বাধ্যবাধকতা থাকলেও প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে ৯টা ৩০ মিনিটে সিটে বসতে হবে। সিটে না থাকলে অনুপস্থিত দেখাবে ইনভিজিলেটর।


এ সময় মন্ত্রী জানান, তারা প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে খুবই ‘ডেসপারেট’ ও ‘অ্যাগ্রেসিভ’। কারণ দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। তিনি বলেন, জড়িতদের কোনো রকম ছাড় দেওয়া হবে না। যখনই কোনো প্রশ্ন ফাঁস হবে, আমরা খবর পেলে সঙ্গে সঙ্গে ওই পরীক্ষা বাতিল ঘোষণা করব।


শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এসএসসি পরীক্ষা চলাকালে একটি সীমিত সময়ের জন্য ফেসবুকসহ সকল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বন্ধ থাকবে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট বিভাগ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।


সভায় উপস্থিত ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্মপরিচালক নাজমুল আলম বলেন, পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ট্রেজারি থেকে নিয়ে যাওয়ার সময় অনেক বড় গাফিলতি হয়। সেখান থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সুযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন।


তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ফেসবুকে প্রশ্নপত্র বিক্রির বিজ্ঞাপন পাওয়া গেছে। আমরা তা নিয়ে কাজ করছি।


মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব সোহরাব হোসেন বলেন, পরীক্ষা শেষের পরেও যদি প্রমাণিত হয় প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে তবে সে পরীক্ষা বাতিল করা হবে। অভিন্ন প্রশ্নপত্র দিয়ে সারাদেশে পরীক্ষা আয়োজনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে আমরা একটি বড় চ্যালেঞ্জ নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। সকল স্থানে মানের বিষয়টি নিশ্চিত করতে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ করে সুষ্ঠুভাবে এসএসসি পরীক্ষা সম্পন্ন করাটাই এখন বড় লক্ষ্যমাত্রা।


তিনি বলেন, আমাদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। কোনো ধরনের আপস করতে রাজি নই। কেউ যদি দায়িত্বে অবহেলা বা কোনো ধরনের অনিয়ম করেন তাকেই অপরাধী বলে গণ্য করা হবে।


এ ছাড়াও নিরাপত্তা সভায় উপস্থিত ছিলেন- কারিগরি ও মাদরাসা বিভাগের সচিব মো. আলমগীর হোসনে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শাহানারা বানু, সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, শিক্ষামন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা প্রমুখ।


উল্লেখ্য আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে সারা দেশে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হবে।


গত বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আগামী বছরের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা সারা দেশে একই প্রশ্নপত্রে অনুষ্ঠিত হবে। দুটি কারণে সরকার সারা দেশে একই প্রশ্নের এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তা হচ্ছে- ফলাফলে তারতম্য নিরসন এবং উচ্চশিক্ষায় ভর্তিচ্ছুদের সমসুযোগ সৃষ্টি।


এর আগে প্রশ্ন ফাঁস রোধে ২০১৫ সাল থেকে এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা বোর্ডভিত্তিক আলাদা প্রশ্নপত্রে অনুষ্ঠিত হচ্ছিল।

 


Top