রাষ্ট্রীয় নথিপত্রও মতিনের হাতে তুলে দেয় মোতালেব-নাসির | daily-sun.com

রাষ্ট্রীয় নথিপত্রও মতিনের হাতে তুলে দেয় মোতালেব-নাসির

ডেইলি সান অনলাইন     ২৩ জানুয়ারী, ২০১৮ ১৭:৩৭ টাprinter

রাষ্ট্রীয় নথিপত্রও মতিনের হাতে তুলে দেয় মোতালেব-নাসির

- অভিযুক্ত মনিত,নাসির ও মোতালেব

 

রাষ্ট্রীয় গোপন নথিপত্রও ধর্মীয় উগ্রবাদ ও জঙ্গিবাদে পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ থাকা রাজধানীর লেকহেড গ্রামার স্কুলের মালিক খালেদ হাসান মতিনের হাতে তুলে দিয়েছিলেন গ্রেফতার হওয়া শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (পিও) মোতালেব হোসেন ও মন্ত্রণালয়ের উচ্চমান সহকারী নাসির উদ্দিন। এদের বিরুদ্ধে বনানী থানায় দায়ের হওয়া মামলার এজাহারে এমন তথ্যই উল্লেখ করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।


এর আগে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওই দুই কর্মচারীসহ রাজধানীর লেকহেড স্কুলের মালিক খালেদ হাসান মতিনের বিরুদ্ধে সোমবার (২২ জানুয়ারি) রাতে রাজধানীর বনানী থানায় মামলা করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। মামলা নং ৩৬। 


মামলাটি দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত করবে বলে আজ মঙ্গলবার (২৩ জানুয়ারি) জানিয়েছেন গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার আব্দুল বাতেন।


মামলায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬১, ১৬২ ও ১৬৩ নম্বর ধারা উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, মোতালেব ও নাসিরের বিরুদ্ধে লেকহেড স্কুল খুলে দেওয়ার তদবিরে ঘুষ লেনদেন হয়েছে। এছাড়া ঘুষ প্রদানকারী লেকহেড গ্রামার স্কুলের মালিক খালেদ হাসান মতিনের নামও উল্লেখ করা হয়েছে।


মামলার এজাহারে বলা হয়, গ্রেফতার হওয়া শিক্ষামন্ত্রণালয়ের ওই দুই কর্মচারী আদালতের নির্দেশ অমান্য করে লেকহেড গ্রামার স্কুলটি খুলে দেয়ার প্রক্রিয়ায় সহায়তা করেন। এজন্য তারা ওই স্কুলের মালিক খালেদ হাসান মতিনের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের উৎকোচ গ্রহণ করেছিলেন।


জঙ্গি কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে বন্ধ ঘোষণা করা  ওই স্কুলটি খুলে দেয়ার প্রক্রিয়ায় সহায়তা করতে শুধু ঘুষ নয়, রাষ্ট্রীয় গোপন নথিপত্রও বেআইনিভাবে স্কুলের মালিক মতিনের কাছে হস্তান্তর করেন।


এজাহারে বলা হয়েছে, গত ২১ জানুয়ারি রাতে উৎকোচের পাওনা ১ লাখ ৩০ হাজার টাকাসহ বনানী ডি ব্লকের (রোড নং- ১৩/১৫ এর ৩৯ নম্বর হাউস) সামনে থেকে নাসিরকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এসময় নাসির ঘুষ গ্রহণের কথা স্বীকার করেন।


মামলা সূত্রে জানা গেছে, তদন্তে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কর্মকর্তারা। এছাড়া আসামিরা প্রাথমিকভাবে তাদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ স্বীকার করেছেন।


এর আগে গত রবিবার (২১ জানুয়ারি) গোয়েন্দা ও অপরাধ তথ্য বিভাগের একটি দল রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে এক লাখ ত্রিশ হাজার টাকাসহ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) উচ্চমান সহকারী মো. নাসিরউদ্দিনকে গ্রেফতার করে। পরে তার সঙ্গে যোগাযোগের সূত্র ধরে শিক্ষামন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মো. মোতালেব হোসেন ও লেকহেড গ্রামার স্কুলের মালিক মো. খালেদ হাসান মতিনকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ।


তবে এর আগে শিক্ষামন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মোতালেব হোসেনকে শনিবার (২০ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টায় মোহাম্মদপুরের বসিলা থেকে ‘অপহরণ’ করা হয় বলে অভিযোগ করে তার পরিবার। মোতালেব সেখানে তার নির্মাণাধীন বহুতল বাড়ির কাজ তদারক করতে গিয়েছিলেন। এ বিষয়ে হাজারীবাগ থানায় একটি জিডিও করা হয়।


এছাড়া তারও দুইদিন আগে বৃহস্পতিবার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে বনানী থেকে নাসিরউদ্দিনকে ‘অপহরণ’ করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায়ও রাজধানীর বনানী থানায় আরও একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন নাসিরের শ্বশুর আব্দুল মান্নান।


নাসিরউদ্দিন বাংলাদেশ মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ পরিষদের মহাসচিব। রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকার লেকসিটি কনকর্ড টাওয়ারে সপরিবারে থাকেন নাসির।


অবশ্য শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ আটকের বিষয়ে সোমবার গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেফতার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই কর্মকর্তা-কর্মচারী অপরাধী হলে তাদের অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে।


তিনি আরো বলেন, ‘নিশ্চয় কিছু না কিছু ঘটেছে। অপরাধের সঙ্গে জড়িত না থাকলে তাদের দু’জনকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কেন গ্রেফতার করতে যাবেন?’

 


Top