‘রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বিলম্ব হবে’ | daily-sun.com

‘রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বিলম্ব হবে’

ডেইলি সান অনলাইন     ২৩ জানুয়ারী, ২০১৮ ১৪:১৩ টাprinter

‘রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বিলম্ব হবে’

 

মঙ্গলবার (২৩ জানুয়ারি) থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের কথা থাকলেও রোহিঙ্গা যাচাই প্রক্রিয়ার যে তালিকা তৈরি করার কথা ছিল তা এখনও অসম্পূর্ণ। ফলে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আরও কিছুটা বিলম্ব হবে, বাংলাদেশের শরণার্থী ত্রাণ ও পূনর্বাসন কমিশনার আবুল কালাম রয়টার্সকে এ তথ্য জানান।


ঢাকা-নেপিদো সমঝোতা অনুযায়ী, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় মঙ্গলবার জনগোষ্ঠীটির প্রথম দলকে রাখাইনে ফেরত পাঠানোর কথা ছিল।


কালাম বলেন, ‘অনেক রোহিঙ্গাই মিয়ানমারে যেতে আগ্রহী না, কারণ দেশের ফেরার পর তারা পর্যাপ্ত নিরাপত্তা পাবে কি না তা অনিশ্চিত।’ প্রত্যাবাসন বিলম্ব হওয়ার পিছনে এটিই সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।


তিনি আরও বলেন, এখনও অনেক কাজ বাকি আছে। যেসব শরনার্থীদের দেশে পাঠানোর কথা আছে তাদের তালিকা এখনও তৈরি করতে পারিনি আমরা। আমরা তাদের শনাক্তকরণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।


এ বিষয়ে নেপিদো কর্তৃপক্ষ বলেছিল, বাংলাদেশ-মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী এলাকায় অস্থায়ী ক্যাম্প করে ফেরত আসা রোহিঙ্গাদের রাখা হবে। কিন্তু ঠিক একদিন আগে প্রত্যাবাসন বিষয়ক কমিশনার কালাম বলছেন, এই প্রক্রিয়া শুরু হতে বিলম্ব হবে। তবে কবে নাগাদ শুরু হতে পারে, সে ব্যাপারে তিনি কিছু জানাননি।


আবুল কালামের এ কথার আগে অবশ্য রোববারই (২১ জানুয়ারি) কূটনীতিকদের ব্রিফিংকালে এমন ইঙ্গিত দেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। তিনি পশ্চিমা ও ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর রাষ্ট্রদূত-হাইকমিশনারদের ব্রিফিং শেষে বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন মঙ্গলবার থেকেই শুরু হবে কি-না, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে দুই দেশের সীমান্তের নো ম্যানস ল্যান্ড অবস্থানরতদের প্রথম দফায় ফেরত পাঠানো হবে।


ঢাকার নেতৃত্ব এমন কথা বললেও মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন দেশটির সমাজকল্যাণ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক কো কো নাইং। তবে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিলম্বের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কিছু জানাননি।


গত বছরের ২৫ আগস্ট রাখাইনে রোহিঙ্গা-বিরোধী দমন-পীড়ন শুরু করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। এ অভিযানের মুখে জীবন বাঁচাতে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশের পথে রোহিঙ্গাদের ঢল নামে। দুই দেশের সীমান্তবর্তী জায়গায় হাজার হাজার রোহিঙ্গা আটকা পড়ে। পরে সুযোগ বুঝে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করে।


সেনাবাহিনীর ওই অভিযান এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ নিয়ে ব্যাপক আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে শরণার্থীদের ফেরত নিতে সম্মত হয় মিয়ানমার। রোহিঙ্গাদের ফেরার পথ তৈরি করতে গত বছরের ২৩ নভেম্বর নেপিদোতে দুই দেশের মধ্যে একটি সম্মতিপত্র স্বাক্ষরিত হয়।


সেখানে বলা হয়, প্রথম দফায় শুধু এবার আসা শরণার্থীদেরই ফেরত নেবে মিয়ানমার। ওই সম্মতিপত্র স্বাক্ষরের তিন সপ্তাহের মধ্যে ‘জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ’ গঠন করে দুই মাসের মধ্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করার কথা। একইসঙ্গে যত দ্রুত সম্ভব একটি সুনির্দিষ্ট চুক্তিতে সই করা কথা প্রতিবেশী দুই দেশের।


গত ১৯ ডিসেম্বর ‘জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ’ গঠন করা হলেও ১৬ জানুয়ারি নেপিদো শহরে বাংলাদেশ-মিয়ানমারের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়, ২৩ জানুয়ারি থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হবে।


চুক্তি অনুযায়ী, প্রত্যাবাসনের বিষয়ে সম্মত হওয়ার পর থেকে দুই বছরের মধ্যে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। প্রতি সপ্তাহে দেড় হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নেওয়ার কথা মিয়ানমারের।


- সূত্র: সাউথ এশিয়ান মনিটর ডট কম

 


Top