ওয়ারীতে পিটিয়ে হত্যার দায় স্বীকার ৪ জনের | daily-sun.com

ওয়ারীতে পিটিয়ে হত্যার দায় স্বীকার ৪ জনের

ডেইলি সান অনলাইন     ২০ জানুয়ারী, ২০১৮ ১৭:১২ টাprinter

ওয়ারীতে পিটিয়ে হত্যার দায় স্বীকার ৪ জনের

 

রাজধানীর পুরান ঢাকার ওয়ারীতে বিয়ের অনুষ্ঠানে উচ্চস্বরে গান-বাজনার প্রতিবাদ করায় নাজমুল হককে (৬৫) মারধর করে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন চার জন। অভিযুক্ত এ চার জন গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার সঙ্গে নিজেদের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।


ওয়ারীর গোপীবাগের রামকৃষ্ণ মিশন রোডের ৪৪ নম্বর বাড়ির সামনে শুক্রবার (১৯ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে হত্যাকানে এ ঘটনা ঘটে।


এদিকে এ ঘটনার পর মামলা ওয়ারী থানায় মামলা দায়ের করা হয়। পরে আলতাফ, সাজ্জাদ, জাহিদও রাইয়ান ইয়াসমিনকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে নাজমুল হককে পিটিয়ে হত্যার বিষয়টি তারা স্বীকার করেছেন। আজই তাদের আদালতে সোপর্দ করা হবে বলে জানান ওয়ারী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সেলিম।

 

তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার (১৮ জানুয়ারি) রাতে ৪৪ নম্বর বাড়ির ছাদে ওই বাসার ৫ম তলার বাসিন্দা আলতাফ হোসেনের ভাতিজা হৃদয়ের গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান ছিল। নিহত নাজমুলও পরিবার নিয়ে ওই বাসার আটতলার ফ্ল্যাটে থাকতেন। উচ্চস্বরে গান বাজানোকে কেন্দ্র করে আলতাফের পরিবারের সাথে নাজমুলের পরিবারের বাকবিতণ্ডা হয়। ওই ঘটনার জের ধরে সকালে নাজমুলকে ভবনের নিচে ডেকে মারধর করা হয়।

 


পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, মারধরের এক পর্যায়ে নাজমুলের মৃত্যু হয়। ভবনের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ঘটনা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেছে এবং জিজ্ঞাসাবাদে নাজমুল হককে পিটিয়ে হত্যার বিষয়টিও তারা স্বীকার করেছেন।


নিহত নাজমুলের পুত্রবধূ সাদিয়া নাসরিন জানান, বহুতল বাড়িটির অষ্টম তলায় পরিবারের সঙ্গে থাকেন তারা। ওই বাড়ির পঞ্চম তলায় পরিবার নিয়ে থাকেন আলতাফ হোসেন নামে এক ব্যক্তি। বৃহস্পতিবার রাতে বাসার ছাদে আলতাফের ভাতিজা হৃদয়ের গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান চলছিল। অনুষ্ঠান ঘিরে বিকট আওয়াজ ও গান-বাজনা চলছিল।


সাদিয়া আরও জানান, চার বছর আগে তার শ্বশুর নাজমুলের বাইপাস সার্জারি হয়। তার জেরে কিছুদিন আগে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। সাদিয়ার দাবি, এই অবস্থায় ছাদে গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে জোরে জোরে গান-বাজনার প্রচণ্ড শব্দে আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন নাজমুল।


নিহতের ছেলে নাসিমুল হক জানান, বাবা অসুস্থ হয়ে পড়ায় বাসার ছাদে যাই। সেখানে চলা অনুষ্ঠানের গান-বাজনার আওয়াজ কমাতে অনুরোধ জানাই। কিন্তু তারা উচ্চ সাউন্ড বন্ধ না করে বাক-বিতণ্ডা শুরু করেন।


এরই জেরে শুক্রবার সকালে ভবনের নিচতলায় আলতাফ, বর হৃদয়, নিলয় এবং আরও কয়েকজন মিলে বাবা ও আমাকে মারধর করে। বেধড় মারধরে বাবা অচেতন হয়ে পড়েন। তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ আজগর আলী হাসপাতালে নিয়ে গেলে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক বাবাকে মৃত ঘোষণা করেন।

 


Top