জব্বারের বলিখেলাকে বিশ্ব ঐতিহ্য করার উদ্যোগ | daily-sun.com

জব্বারের বলিখেলাকে বিশ্ব ঐতিহ্য করার উদ্যোগ

ডেইলি সান অনলাইন     ২০ জানুয়ারী, ২০১৮ ১৫:৩৮ টাprinter

 জব্বারের বলিখেলাকে বিশ্ব ঐতিহ্য করার উদ্যোগ

বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ, জামদানির মতো  বাউল গান, মঙ্গল শোভাযাত্রার পথ ধরে চট্টগ্রামের শতবর্ষী আব্দুল জব্বারের বলিখেলাকে বিশ্ব ঐতিহ্য করার উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার।  জাতিসংঘের শিক্ষা বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা ইউনেস্কোর কাছে এই বিষয়ে আবেদন করতে যাচ্ছে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়।

 

এছাড়া চলতি বছর থেকে বলিখেলা আয়োজনে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ও সম্পৃক্ত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।  ইতোমধ্যে সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলিখেলার আয়োজকদের সঙ্গে কথাও বলেছেন। 

জানতে চাইলে মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, মূল বিষয় ছিল বলিখেলা বা কুস্তি প্রতিযোগিতা।  কিন্তু ১১০ বছর পার করে এখন আমরা কি দেখছি ? বলিখেলা বা কুস্তির প্র্যাকটিস সেভাবে হচ্ছে না।  মেলাটাই বড় হয়ে গেছে।  আমরা এই ঐতিহ্যটাকে ধরে রাখতে চাই এবং আরও চাঙ্গা করতে চাই। 

 

‘ইউনেস্কোতে ‍বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পাবার জন্য আবেদন করা হবে।  এছাড়া আমরা সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত হতে চায়।  আব্দুর জব্বারের উত্তরাধিকার এবং আয়োজক কমিটির সভাপতিকে মন্ত্রণালয়ে আসতে বলেছি।  উনাদের সঙ্গে কথা বলে করণীয় ঠিক করব। ’ বলেন মন্ত্রী

 

বৃটিশ শাসনের বিরুদ্ধে বাঙালি যুব সম্প্রদায়কে ঐক্যবদ্ধ করতে চট্টগ্রামের বদরপতি এলাকার ব্যবসায়ী আবদুল জব্বার সওদাগর কুস্তির প্রবর্তন করেছিলেন যা চট্টগ্রাম অঞ্চলে বলিখেলা নামে পরিচিত।  ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে বাংলা সনের ১২ বৈশাখ নিজ নামে লালদীঘির মাঠে এই বলীখেলার সূচনা করেন তিনি।

 

ইতিহাস পর্যালোচনায় জানা গেছে, ব্যতিক্রমী ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজনের জন্য বৃটিশ সরকার আবদুল জব্বারকে খান বাহাদুর উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।  তবে তিনি সেটা প্রত্যাখ্যান করেন। বৃটিশ ও পাকিস্তানি আমলে বৃহত্তর চট্টগ্রাম ছাড়াও তৎকালীন বার্মার আরাকান অঞ্চল থেকেও বলী কিংবা কুস্তিগিররা এসে এই খেলায় অংশ নিতেন।

 

সূচনার ধারাবাহিকতায় এখনও প্রতিবছর লালদীঘির মাঠে ১২ বৈশাখ অনুষ্ঠিত হয় বলিখেলা।  আশপাশের প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বসে মেলা। 

 


Top