যশোর রোডের গাছ কাটার সিদ্ধান্তে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ | daily-sun.com

যশোর রোডের গাছ কাটার সিদ্ধান্তে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ

ডেইলি সান অনলাইন     ১৮ জানুয়ারী, ২০১৮ ১৩:২১ টাprinter

যশোর রোডের গাছ কাটার সিদ্ধান্তে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ

 

সড়ক প্রশস্ত করতে যশোর-বেনাপোল সড়কের শতবর্ষী দুই হাজারের বেশি গাছ কাটার সিদ্ধান্ত ৬ মাসের জন্য স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার (১৮ জানুয়ারি) বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও বিচারপতি ইকবাল কবিরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।


এছাড়া শতবর্ষী গাছগুলো কাটা কেন বেআইনী ঘোষণা করা হবে না এবং গাছগুলো সংরক্ষণ করে কেন চার লেনের সড়ক তৈরির ব্যবস্থা নেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়।


আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এস এম মনিরুজ্জামান।


এর আগে বৃহস্পতিবার (১৮ জানুয়ারি) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট করেন পরিবেশ ও মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। রিটে সড়ক ও জনপথ সচিব, পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালক,খুলনার ডিসি ও যশোরের পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়।


এর আগে গত রবিবার (১৪ জানুয়ারি) এ গাছ কাটার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার হুশিয়ারি দিয়ে সরকারকে নোটিশ পাঠিয়েছিলেন বেসরকারি স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শেখ মো. মহিবুল্লাহ। তার পক্ষে সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান রেজিস্ট্রি ডাকযোগে নোটিশটি পাঠান। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে এতে উল্লেখ করা হয়।


সড়ক ও জনপথ সচিব, পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালক, খুলনার ডিসি ও যশোরের পুলিশ সুপারকে সাত দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছিল নোটিশে।

নোটিশে বলা হয়, সংবিধানের ১৮(ক) তে বলা আছে সরকার বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করবে। গাছ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। এ ছাড়া শতবর্ষী গাছগুলো দেশের ঐতিহ্য। তাই গাছ কাটার সিদ্ধান্ত সংবিধানের সঙ্গে সাংর্ঘষিক।


প্রসঙ্গত, সড়ক বড় করতে যশোর-বেনাপোল সড়কের শতবর্ষী দুই হাজারের বেশি গাছ কাটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সড়ক বিভাগ এরই মধ্যে দরপত্রও আহ্বান করেছে। গত ৬ জানুয়ারি এ নিয়ে উচ্চপর্যায়ের এক বিশেষ সভায় সড়ক চওড়া করতে দুই ধারের গাছগুলো কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত হয়েছে।


এদিকে ঐতিহ্যবাহী এসব গাছ রক্ষায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে সরব হয়ে উঠেছে দেশের সচেতন মহল ও পরিবেশবাদী বিভিন্ন সংগঠন। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, গাছ না কেটেও সড়ক চওড়া করা সম্ভব।


তবে সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, গাছ রেখে সড়ক চওড়া করতে হলে সড়কের পাশে বিপুল পরিমাণ জমি অধিগ্রহণ করতে হবে। বন্দর এলাকায় জমির দাম বেশি বলে সড়ক নির্মাণের খরচ বেড়ে যাবে।

 


Top