কক্সবাজারে এক পরিবারে চারজনের মৃত্যু: অন্ধকারে পুলিশ ও স্বজনরা | daily-sun.com

কক্সবাজারে এক পরিবারে চারজনের মৃত্যু: অন্ধকারে পুলিশ ও স্বজনরা

ডেইলি সান অনলাইন     ১৮ জানুয়ারী, ২০১৮ ১১:১৩ টাprinter

কক্সবাজারে এক পরিবারে চারজনের মৃত্যু: অন্ধকারে পুলিশ ও স্বজনরা

 

কক্সবাজার পৌরসভার গোলদিঘিরপাড় এলাকার বৌদ্ধমন্দির সড়কের একটি বাড়ি থেকে একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (১৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

 


নিহতরা হলেন- শহরের গোলদিঘিরপাড় এলাকার ননী গোপাল চৌধুরীর ছেলে সুমন চৌধুরী (৩৩), তার স্ত্রী বেবি চৌধুরী (২৫) এবং তাদের দুই শিশুকন্যা- অবন্তিকা (৫) ও যুথী (৩)।


স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, সুমন চৌধুরীর বাসার দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। সন্ধ্যা পর্যন্ত দরজা না খোলায় আশপাশের আত্মীয়-স্বজনরা পুলিশে খবর দেয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কক্সবাজার সদর থানার পুলিশ সুমন চৌধুরীর ঘরের দরজা ভেঙে শোবার ঘরের খাটে বেবি চৌধুরী ও দুই শিশুকন্যার লাশ উদ্ধার করে। বাড়ির দোতলার একটি কক্ষ থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় সুমন চৌধুরীর লাশ উদ্ধার করা হয়।


এদিকে একই পরিবারের চার সদস্যের একসঙ্গে মারা যাওয়ার ঘটনার কুলকিনারা পাচ্ছে না পুলিশ ও স্বজন। অনেকে মনে করছেন আর্থিক ঋণের ভারে দিশেহারা হয়ে সপরিবারে মৃত্যুর পথ বেছে নিয়েছেন সুমন। কিন্তু সে রকম কোনো আর্থিক ঋণের কথাও জানা নেই সুমন বা বেবির পরিবারের। 


তবে কক্সবাজার মডেল থানার ওসি রণজিত কুমার বড়ুয়ার ধারণা স্ত্রী ও দু’কন্যাসন্তানকে হত্যার পর গৃহকর্তা নিজে আত্মহত্যা করেছেন। তবে ময়নাতদন্তের পরে মৃত্যুর কারণ নিশ্চত হওয়া যাবে বলে জানান তিনি।


সুমন চৌধুরীর বড় ভাই সোনালী ব্যাংক কর্মকর্তা অমিত চৌধুরী জানান, বুধবারও অফিস থেকে দুপুরের খাবার খেতে এসে সুমনদের সঙ্গে তার দেখা হয়। তখন সুমন ছোট মেয়ে জ্যোতিকে কোলে নিয়ে বাইরে দাঁড়িয়ে ছিল আর সুমনের স্ত্রী বেবি মেয়েকে খাইয়ে দিচ্ছে। খাবারে ধূলাবালি পড়ছে বলে তাদের বাড়ির ভেতর গিয়ে মেয়েটিকে খাওয়াতে বলে আমি খেতে বসি। আমি খাবার শেষ করে ২টার দিকে আবার অফিসে চলে যাই। এরপর সন্ধ্যা পর্যন্ত তাদের দরজা খোলা হচ্ছে না জানার পর ৬টার দিকে পুলিশকে সঙ্গে আবার বাড়ি আসি।


তিনি আরও বলেন, বিকেল ৫টা সাড়ে ৫টা হয়ে গেলেও সুমনদের ঘর থেকে বের হবার কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে তাদের মুঠোফোনে কল করা হয়। কল ধরছিল না তারা। দরজা-জানালায় ধাক্কা দিয়েও কোনো সাড়া না পেয়ে জানালা একটু ফাঁক করে বেবি হাত ঝুলিয়ে সন্তানসহ শুয়ে আছে দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়া হয়। পুলিশ এসে দরজা ভেঙে ঘরের ভেতর খাটে শোয়া মা-মেয়ে ও ফাঁসিতে ঝোলা অবস্থায় সুমনকে দেখতে পায়। তবে কী কারণে, কয়েক ঘণ্টার ভেতর পুরো পরিবার লাশ হলো সেটা বুঝে আসছে না।


কোনো ঋণের বোঝা ছিল কি না প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আলাদা হয়ে গেলেও একজন অপরজনের ভালোমন্দ খোঁজ রাখাতাম। একে অন্যকে সুখ-দুঃখের কথা শেয়ার করতাম। কিন্তু সপরিবারে আত্মহত্যা করার মতো কোনো অভাবের কথা সুমন বা বেবি কারো সঙ্গে শেয়ার করেনি। আর তাদের (স্বামী-স্ত্রী) মাঝেও কোনো কলহ ছিল না।


বেবি চৌধুরীর বড় ভাই সুব্রত চৌধুরী বলেন, বিয়ের ৮-৯ বছরে বোনের পরিবারে কোনো অভাব-অভিযোগ কিংবা পারিবারিক কলহের কথা শুনিনি। শুধু শুধু একটি গোছানো পরিবারের চারটি সদস্য সবার অজান্তে লাশ হয়ে আমাদের শোকের সাগরে ভাসিয়ে দিয়ে গেল।

 


Top