রূপালী ইনস্যুরেন্স কোম্পানির শাখা ব্যবস্থাপকদের বার্ষিক সম্মেলন | daily-sun.com

রূপালী ইনস্যুরেন্স কোম্পানির শাখা ব্যবস্থাপকদের বার্ষিক সম্মেলন

ডেইলি সান অনলাইন     ১৬ জানুয়ারী, ২০১৮ ১৯:২৭ টাprinter

রূপালী ইনস্যুরেন্স কোম্পানির শাখা ব্যবস্থাপকদের বার্ষিক সম্মেলন

 

সম্প্রতি রূপালী ইনস্যুরেন্স কো¤পানী লিমিটেড এর শাখা প্রধানদের বার্ষিক সম্মেলন-২০১৮ ইম্পেরিয়াল কনভেনশন সেন্টার, ৬৮/বি, ডিআইটি রোড মালিবাগ, চৌধুরী পাড়ায় অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে কো¤পানীর মাননীয় চেয়ারম্যান জনাব মোস্তফা গোলাম কুদ্দুস সভাপতিত্ব করেন। সভায় কোম্পানীর ব্যবস্থাপনা ও অর্থ উপদেষ্টা জনাব এম আজিজুল হক, কোম্পানীর মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব পি, কে, রায়, এফসিএ; অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব মোঃ আলমগীর, উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বৃন্দ ও বিভিন্ন শাখা হতে আগত শাখা প্রধানগন উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। 

 

 

সম্মেলনে কো¤পানীর মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব, পি, কে, রায়, এফসিএ তার স্বাগত ভাষনে শাখা প্রধানদের কর্মকান্ডের প্রশংসা করেন এবং নানা প্রতিকুলতার মাঝেও কোম্পানীর ব্যবসায়ের গতিধারাকে ধরে রাখার জন্য সকলকে ধন্যবাদ দেন। সাফল্যের এ ধারাকে  অব্যাহত রেখে অধিকমাত্রায় বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সচেষ্ট থাকার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানান এবং নুতন ব্যবসার সন্ধানে ব্রতী হতে পরামর্শ দেন। প্রতিটি শাখাকে বছরের প্রথমে যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত করা হয় তার ১০০% অর্জনে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ হতে হবে। সততা ও নিষ্ঠার সাথে সম্মিলিত ভাবে কাজ করলে সাফল্য অনিবার্য এবং কর্মই জীবনকে পূর্নতা দান করে বলে তিনি উলে¬খ করেন। তিনি নেট রিটেনশন বাড়িয়ে কো¤পানীকে লাভজনক পর্যায়ে উন্নীত করার উদ্দেশ্যে ব্যবস্থাপনা খরচ সহ যাবতীয় খরচ কমানো, ব্যবসা বাড়ানো এবং সর্বক্ষেত্রে শৃংখলা বজায় রাখার জন্য নির্দেশ দেন। তিনি মাথাপিছু প্রিমিয়াম আয় বাড়ানো, ইনফরমেশন টেকনোলজি ব্যবহার ও নিরীক্ষা পরিপালনের উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অরোপিত নিয়মাবলী যথাযথ ভাবে পালন করতে নির্দেশ দেন। তিনি নিজেদের মধ্যে পারস্পারিক সহযোগিতা ও সম্প্রীতি বজায় রাখার উপর জোর দেন। শাখা ব্যবস্থাপকগণও অধিক মাত্রায় লক্ষ্য অর্জনে পূর্ন আশ্বাস প্রদান করেন।

 

 

৪৪টি শাখার ব্যবস্থাপকবৃন্দ তাদের বক্তব্যে দৈনন্দিন কর্মকান্ড পরিচালনায় যে সমস্ত সমস্যা ও প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হন তা তুলে ধরেন ও সমাধান কল্পে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করেন।

কোম্পানীর ব্যবস্থাপনা ও অর্থবিষয়ক উপদেষ্টা তার বক্তব্যে ব্যবস্থাপক বৃন্দকে ২০১৮ ইং সালে শাখার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বছরের প্রথমেই দৃঢ় সংকল্প গ্রহন করার জন্য আহবান জানান। সর্বক্ষেত্রে নিয়মানুবর্তিতা মেনে খরচের আধিক্যকে সতর্কতার সাথে কমিয়ে এনে কোম্পানীর মুনাফাকে বাড়ানোর উপর বিশেষ ভাবে গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি সকলকে সততা ও অধ্যাবসায়ের সাথে কার্য পরিচালনার উপর বিশেষভাবে নির্দেশ দেন। প্রধান কার্যালয়ের বাজেট মেনে আর্থিক শৃংখলা বজায় রাখতে এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সেবার মান বাড়ানোর পরামর্শ দেন। বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক আরোপিত বিধি নিষেধ সহ সার্বিক পরিপালনের উপর বিশেষ ভাবে গুরুত্ব আরোপ করেন। নতুন নতুন ব্যবসার সন্ধান পূর্বক কোম্পানীর উন্নতি কল্পে সকলকে ব্রতী হতে পরামর্শ দেন। তিনি দলবদ্ধভাবে কার্য্য সম্পাদন, বিচক্ষন বীমা লিখন, ধ্রুত দাবী নিষ্পত্তি, আর্থিক ও প্রশাসনিক নিয়মানুবর্তিতা, নিরীক্ষা পরিপালন ও সুনাম অর্জনের উপর জোর দেন।                                                                     
                                                                                                       
 


তিনি সকলের উদ্দেশ্যে বলেন, “সুনাম অর্জন করা কঠিন কিন্তু হারানো খুবই সহজ।” তিনি সর্বপ্রকার ট্রেনিং ও কর্মদক্ষতা বিবেচনা পূর্বক নূতন নিয়োগ দানের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি শাখা প্রধানসহ সকলকেই আইটি কে যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে সকল প্রকার কার্য সম্পাদনের পরামর্শ দেন।

চেয়ারম্যান মহোদয় কোম্পানীর সকল কর্মকতা ও কর্মচারী বৃন্দকে দক্ষতার সাথে কোম্পানী পরিচালনার জন্য পরিচালনা পর্ষদের পক্ষ থেকে সকলকে ধন্যবাদ দেন। কোম্পানীর উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা ও জোড়ালো অবদান রাখার জন্য তিনি ব্যবস্থাপনা ও অর্থ বিষয়ক উপদেষ্টা এবং মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা সহ সকল কর্মকর্তার ভূয়সী প্রশংসা করেন। ২০১৭ ইং সালে কোম্পানীর কর্মকান্ডে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখার জন্য ১১জন কর্মকর্তাকে স্বর্ণ পদকে ও ৬৮ জন কর্মকর্তাকে অন্যান্যভাবে পুরস্কৃত করেন এবং অভিনন্দন জানান। শৃংখলাই উন্নয়নের চাবিকাঠি তাই সর্বক্ষেত্রে শৃংখলা বজায় রাখার উপর পরামর্শ দেন। সততাকে সবোৎকৃষ্ট পন্থা হিসেবে গ্রহন করে নিজের জীবনকে সর্বাঙ্গীনভাবে সুন্দর করে গড়ে তোলার উপর সকলের প্রতি আহবান জানান। সদয় ব্যবহার ও আন্তরিক সেবা দানের মাধ্যমে কোম্পানীর মর্যাদা বৃদ্ধি করার উপর বিশেষভাবে আলোকপাত করেন। প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক শৃংখলা সহ কোম্পানীর সামগ্রিক শৃংখলা এবং আইডিআরএ কর্তৃক জারীকৃত নির্দেশ সমূহ মেনে চলার উপর বিশেষভাবে জোর দেন। তিনি সার্বিকভাবে সবরকম পরিপালনের উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি অসৎ কর্মকান্ড পরিহার ও ঝুকিপূর্ণ ব্যবসা পরিত্যাগ করে সকলকে সম্মুখপানে অগ্রসর হতে উপদেশ দেন। খ্যাতি অর্জন পূর্বক কোম্পানীকে লাভজনক পর্যায়ে রূপান্তরিত করতে পারলে সবাই এর ফল ভোগ করতে পারবেন, তাই আন্তরিকভাবে সকলকেই কোম্পানীর উন্নতিতে অংশ গ্রহন করার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। বীমা শিল্পে আত্মনিয়োগ করে সকলকেই বীমাবিদ হিসাবে পেশাদারিত্ব অর্জনের উপর বিশেষভাবে জোর দেন ও খ্যাতিমান বীমাকারী হিসাবে গড়ে তুলে নিজের মর্যাদা বৃদ্ধির উপর সকলকে পরামর্শ দেন। তিনি বাকী ব্যবসা বন্ধ করা, ঝুকিপূর্ণ ব্যবসা না করা, লক্ষনীয় রিটেনশন এবং বিভিন্ন পর্যায়ে ট্রেনিং এর উপর নির্দেশ প্রদান করেন। তিনি আর্থিক অনিয়ম ও বিশৃংখলা দূরীকরণার্থে গতানুগতিক নিরীক্ষা ও পরিদর্শন ছাড়াও প্রধান কার্য্যালয়ের নিরীক্ষা বিভাগকে প্রয়োজনে কিছু কিছু শাখাকে আকস্মিক ভাবে নিরীক্ষা ও পরিদর্শন করার উপর বিশেষ ভাবে গুরুত্ব আরোপ করেন।  ।

 

বীমা শিল্পে নেতৃত্ব প্রদানে আইটি প্রশিক্ষনের মাধ্যমে সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির উপরও গুরুত্ব আরোপ করেন। নিষ্ঠার সাথে কাজ করার এবং আর্থিক বিষয়ে বিশ্বাস যোগ্যতা অর্জনের উপর তিনি সকলকে উপদেশ দেন।

 


Top