৮ ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল | daily-sun.com

৮ ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল

ডেইলি সান অনলাইন     ১৬ জানুয়ারী, ২০১৮ ১৪:০৪ টাprinter

৮ ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল

 

রাষ্ট্রায়ত্ত ৮ ব্যাংকের সিনিয়র কর্মকর্তা (সাধারণ) পদে সমন্বিত নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল করেছে ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটি। মঙ্গলবার (১৬ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্মেলন কক্ষে গভর্নর ফজলে কবির সভাপতিত্বে এক জরুরি সভায় এ সিন্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

১২ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ওই পরীক্ষাতে অব্যস্থাপনার কারণ অনুসন্ধানে একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র জি এম আবুল কালাম আজাদ গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।


পরীক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে মঙ্গলবার সকালে এ জরুরি সভা করে রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়োগের দায়িত্বে থাকা ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটি, ১৪টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীরা। বাংলাদেশ ব্যাংকের ডাকা ওই সভায় পরীক্ষা ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।


আবুল কালাম আজাদ বলেন, সভায় তিনটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর প্রথমটি হলো পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। দ্বিতীয়ত, একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই তদন্ত কমিটি দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করবে। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হবে।

আর তৃতীয়ত, এরপর সিদ্ধান্ত হবে পরবর্তী সময়ে কী প্রক্রিয়ায় এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।


এর আগে গত ১৪ জানুয়ারি এ নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল এবং নিয়োগ পরীক্ষা পিএসসির অধীনে নেওয়াসহ বিভিন্ন দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন করে চাকরিপ্রার্থীরা। ওই দিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ওই নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া বহু শিক্ষার্থী বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে জড়ো হন। পুলিশ সেখান থেকে তাদের সরিয়ে দেয়। পরে শিক্ষার্থীরা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জড়ো হন। সেখান থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার দিকে যান।


পরীক্ষায় অব্যবস্থাপনা, প্রশ্নফাঁস, হলে ইলেক্ট্রনিকস ডিভাইস ব্যবহারের সুযোগ দেয়াসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ এনে পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে পরীক্ষার্থীরা এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন।


মানববন্ধনে পরীক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, প্রহসনের পরীক্ষা বাতিল করতে হবে। প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে। অনেক কেন্দ্রে মোবাইল ব্যবহার করে পরীক্ষা দিয়েছে প্রার্থীরা। কোনো কেন্দ্রে সিট প্ল্যান ছিল না। ঠাসাঠাসি করে এক বেঞ্চে ৫/৬ জন করে বসে দেখাদেখির মাধ্যমে পরীক্ষা দিয়েছেন পরীক্ষার্থীরা। সব কেন্দ্রেই আসন বিন্যাসে ছিল অব্যবস্থাপনা।


উল্লেখ্য, গত ১২ জানুয়ারি শুক্রবার রাজধানীর ৬১টি কেন্দ্রে ১ হাজার ৬৬৩টি শূন্যপদে এই নিয়োগ পরীক্ষার আয়োজন করা হয়। তবে আসন স্বল্পতার কারণে গণ্ডগোলে মিরপুরের দুটি কেন্দ্রের সাড়ে পাঁচ হাজারের বেশি চাকরিপ্রার্থী সেদিন পরীক্ষা দিতে পারেননি।


এর মধ্যে মিরপুরের শাহ আলী মহিলা কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষার সময়ই বিক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থীরা ভাঙচুর চালান, পরে সেই কেন্দ্রের পরীক্ষা স্থগিত করা হয় এবং ওই কেন্দ্রের পরীক্ষা ২০ জানুয়ারি অনুষ্ঠানের জন্য তারিখ নির্ধারন করে।  


অন্যান্য কেন্দ্রেও প্রশ্নপত্র দেরিতে পৌঁছানোসহ নানা অব্যবস্থাপনার অভিযোগ পাওয়া যায়। এ নিয়োগ পরীক্ষায় ২ লাখ ১৩ হাজার আবেদন পড়েছিল।

 


Top